• ই-পেপার

ছবির গল্পে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ

সপ্তমবারের মতো সংবাদ কাভারে বিশ্বকাপের মাঠে মতিউর রহমান চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক
সপ্তমবারের মতো সংবাদ কাভারে বিশ্বকাপের মাঠে মতিউর রহমান চৌধুরী
সংগৃহীত ছবি

৭৪ বছর বয়সেও থেমে নেই যাত্রা। আমেরিকা-কানাডা-মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে সংবাদ কাভারে মাঠে আছেন মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি এ পর্যন্ত ৭টি বিশ্বকাপ কাভার করেছেন। এমন অর্জন নেই অন্য কোনো সাংবাদিকের। শুরুটা করেছিলেন ১৯৯০ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত ১৪তম ফুটবল বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার এই অর্জনের কথা জানিয়েছেন মতিউর রহমান চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমি যখন বিশ্বকাপরে মঞ্চে গেছি তখন বাংলাদেশের কোনো সাংবাদিক ওই মঞ্চে যাননি। এ কারণে আমি সৌভাগ্যবান বলতে পারি।

কূটনৈতিক প্রতিবেদক হয়েও খেলার সংবাদ কাভারে করার বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার যে অবিস্মরণীয় উত্থান দেখে মনে হয়েছিল, আমার বোধহয় বিশ্বকাপে যাওয়া উচিত। কিন্তু আমি তখন ইত্তেফাকের কূটনৈতিক রিপোর্টার। আমি আসলে খেলা নিয়ে রিপোর্ট করি না। যদিও আমি তখন মোহামেডান ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। এজন্য আমার ইচ্ছা হতো।

এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে তিনি বলেন, শুরুটা দেখে আমি একটু হতাশ। প্রথম দিনেই তিনটা রেড কার্ড দেওয়া হয়েছে। আমার তিনটা রেড কার্ড দেখলাম প্রথম দিকে। খেলাটা কেমন হবে আমি জানিনা

রেফারির বিরুদ্ধে ‘ডাকাতির’ অভিযোগ হাইতির সমর্থকদের

ক্রীড়া ডেস্ক
রেফারির বিরুদ্ধে ‘ডাকাতির’ অভিযোগ হাইতির সমর্থকদের
ছবি : রয়টার্স

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে হাইতির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে স্কটল্যান্ড। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত। এসব সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হাইতির সমর্থকরা। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ম্যাচটিকে ‘ডাকাতি’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে স্কটল্যান্ডের জন ম্যাকগিনের পা থেকে। কিন্তু হাইতির দাবি, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা ন্যায্য সিদ্ধান্ত থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে একটি সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের ঘটনায় পেনাল্টি না দেওয়ায় বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে হাইতির জ্যঁ-রিকনার বেলেগার্দের শট স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার গ্রান্ট হ্যানলির হাতে লাগে। হাইতির খেলোয়াড়রা সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির আবেদন জানান। তবে রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বলেন এবং ভিএআর থেকেও কোনো পর্যালোচনার নির্দেশনা আসেনি।

এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইতির সমর্থকরা। অনেকেই দাবি করেন, স্পষ্ট হ্যান্ডবলের পরও পেনাল্টি না দেওয়া হাইতির প্রতি অবিচার। কেউ কেউ সরাসরি রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলেন।

বিতর্ক আরো বাড়ে ম্যাচের যোগ করা সময়ে। স্কটল্যান্ডের কেনি ম্যাকলিন হাইতির জোসুয়ে কাসিমিরের ওপর কঠোর ট্যাকল করলেও তাকে শুধু হলুদ কার্ড দেখানো হয়। রিপ্লেতে ট্যাকলটি আরো গুরুতর মনে হলেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে বিতর্কের মাঝেও হাইতির পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। ১৯৭৪ সালের পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা দলটি পুরো ম্যাচজুড়ে স্কটল্যান্ডকে চাপে রেখেছিল এবং একাধিক গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল।

শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্কটল্যান্ড। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটি তাদের প্রথম জয়। অন্যদিকে হারলেও সমর্থকদের মন জয় করেছে হাইতি।

গ্রুপ ‘সি’-এর পরবর্তী ম্যাচে স্কটল্যান্ড খেলবে মরক্কোর বিপক্ষে। আর হাইতির সামনে অপেক্ষা করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কঠিন চ্যালেঞ্জ।

জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় সম্পন্ন হলো 'জুলকান বিটডাউন’

স্পোর্টস রিপোর্টার, ঢাকা
জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় সম্পন্ন হলো 'জুলকান বিটডাউন’
ছবি: কালের কণ্ঠ

​বাংলাদেশের অ্যামেচার কমব্যাট স্পোর্টসের ইতিহাসে এক রোমাঞ্চকর মাইলফলক স্পর্শ করল অত্যন্ত জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট ‘জুলকান বিটডাউন’।শনিবার (১৩ জুন) ঢাকার জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় এবং তুমুল উন্মাদনার মধ্য দিয়ে এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়েছে। ​

দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে বক্সিং, মিক্সড মার্শাল আর্টস এবং কিকবক্সিং-এর কেইজে (খাঁচায়) নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে প্রথমবারের মতো রিংয়ে নামেন একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ ও তরুণী ক্রীড়াবিদ।​

মোট ১৮টি হাই-ভোল্টেজ লড়াই এবং দর্শকদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় পুরো আয়োজন ছিল প্রাণবন্ত ও জমজমাট। দেশীয় কমব্যাট স্পোর্টসের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যেই এই বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন ওজন শ্রেণিতে পুরুষ ও নারী প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ১৮টি রোমাঞ্চকর লড়াই। খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স, নিখুঁত রণকৌশল এবং অদম্য সাহসিকতার সাক্ষী হন হাজারো দর্শক। খাঁচার ভেতরের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেশের মার্শাল আর্টসের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরে।

​কমব্যাট স্পোর্টসের নতুন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এই ইভেন্টটি বাংলাদেশে কমব্যাট স্পোর্টস সংস্কৃতির দ্রুত বিকাশকে আরো একবার প্রমাণ করেছে। ক্রীড়াপ্রেমী, দর্শক ও প্রশিক্ষকরা খেলোয়াড়দের অসাধারণ স্ট্যামিনা এবং পেশাদার আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এই আয়োজনের মাধ্যমে জুলকান ইনডোর অ্যারেনা ভবিষ্যতের বিশ্বমানের মার্শাল আর্টস চ্যাম্পিয়ন তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়ন তৈরিতে অ্যামেচার ফাইটের গুরুত্ব অপরিসীম বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজনটি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির হেড অব অপারেশন্স মাসুদুর রহমান মান্না বলেন, ​‘ভবিষ্যতে প্রফেশনাল ফাইটার পেতে হলে আমাদের অ্যামেচার ফাইটকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিতে হবে। বাংলাদেশের প্রায় সকল কমব্যাট জিমকে সাথে নিয়ে অ্যামেচার ফাইটকে উৎসাহিত করার জন্যই আজকের এই বিশেষ আয়োজন।’

​আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে আসা লড়াকু যোদ্ধারাই একদিন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে গৌরবের সাথে তুলে ধরবেন।

অঘটনের শিকার তুরস্ক, ঐতিহাসিক জয় অস্ট্রেলিয়ার

ক্রীড়া ডেস্ক
অঘটনের শিকার তুরস্ক, ঐতিহাসিক জয় অস্ট্রেলিয়ার
ছবি : রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে সম্ভাব্য সব কিছুই করল তুরস্ক। জালে জড়াতে পারল না শুধু বলটাই। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে ক্যাঙ্গারুদের পাল্টা আক্রমণে গোল হজম করে বসে আর্দা-ইলদিজরা। এতে ২-০ গোলে হেরে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটনের শিকার হলো তুর্কি।

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে রূপকথা লিখল সকারুজরা। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্ককে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযানে দুর্দান্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। অজিদের হয়ে দুইজন গোল করলেও জয়ের রূপকার পোস্টের নিচে থাকা ২২ বছর বয়সী গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে ৮টি চোখধাঁধানো সেভ করে একাই তুরস্ককে হতাশায় ডুবিয়েছেন এই তরুণ। 

ম্যাচের আগেই বড় চমক দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ পপোভিচ। অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও নিয়মিত গোলকিপার ম্যাথু রায়ানের জায়গায় তরুণ বিচকে নামিয়ে দেন শুরুর একাদশে। এমনকি বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয় সহ-অধিনায়ক জ্যাকসন আরভাইনকেও; তার জায়গায় মাঠে নামেন ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার পল ওকন-ওকন–ইংস্টলার। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, অস্ট্রেলিয়ার শুরুর একাদশের ১১ জনের মধ্যে ১০ জনই ছিলেন বিশ্বকাপ অভিষিক্ত!

কোচের এই সাহসী ‘জুয়া’ মাঠে শতভাগ সফল হয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে চড়াও ছিল তুরস্ক। কিন্তু প্রতিবারই তাদের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান বিচ। আর রক্ষণ সামলে প্রতি-আক্রমণের কৌশলে বাজিমাত করে অস্ট্রেলিয়া।

ম্যাচের ২৮তম মিনিটে ডেডলক ভাঙে সকারুজরা। ওকন-ওকন–ইংস্টলারের নিখুঁত ও দূরপাল্লার পাস বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তুরস্কের রক্ষণভাগ চূর্ণ করেন নেস্তুরি ইরানকুন্ডা। এরপর অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মাতান দলকে।

এর ঠিক এক মিনিট আগে, অর্থাৎ ২৭তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পেয়েছিল তুরস্ক। রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ সেনসেশন আর্দা গুলেরের এক বুলেট গতির শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন বিচ। প্রথমার্ধে এমন বেশ কয়েকটি সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধেও চিত্রনাট্য বদলায়নি। আক্রমণের ধার বাড়ায় তুরস্ক, আর তা প্রতিহত করতে থাকেন বিচ। ৫৭তম মিনিটে আর্দা গুলেরের আরও একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন এই গোলকিপার। তুরস্ক যতই চাপ বাড়িয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ ততই নিরেট হয়েছে।

অবশেষে ৭৫তম মিনিটে তুরস্কের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় অস্ট্রেলিয়া। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় ড্রিবল করে এগিয়ে যান কনর মেটকাফ। বক্সের প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তাঁর এক ট্রেডমার্ক দূরপাল্লার শট পরাস্ত করে তুর্কি গোলরক্ষককে। ব্যবধান ২-০ হতেই ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত হয়ে যায়।

বাকি সময়ে আপ্রাণ চেষ্টা করেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি তুরস্ক। ফলে দুই যুগ পর বিশ্বমঞ্চে ফেরার উপলক্ষটা হার দিয়ে বিষাদময় হলো তাদের।