দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রেখেই জয়ের স্বাদ পেল স্কটল্যান্ড। ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে এবারের আসরে প্রথম ইউরোপীয় দল হিসেবে জয় তুলে নিয়েছে স্কটিশরা।
ফক্সবরোর বস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী একমাত্র গোলটি করেন দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জন ম্যাকগিন। আর এই গোলের পর বিশ্বমঞ্চ দেখল তার সেই পরিচিত ও আবেগঘন ‘গগলস’ উদযাপন। বুড়ো আঙুল ও তর্জনী দিয়ে বৃত্ত বানিয়ে চোখের সামনে চশমার মতো তুলে ধরার এই উদযাপনের পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন গল্প।
ম্যাকগিনের ভাগ্নে জ্যাকের দৃষ্টিশক্তি কিছুটা দুর্বল, যার কারণে মাঠে তাকে সুরক্ষামূলক স্পোর্টস গগলস পরে খেলতে হয়। ভাগ্নের প্রতি ভালোবাসা ও তাকে অনুপ্রেরণা দিতেই ম্যাকগিনের এই বিশেষ ভঙ্গি, যা এবার বিশ্বকাপের মঞ্চেও দেখা গেল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে স্কটল্যান্ড। সপ্তম মিনিটেই ম্যাকগিনের চমৎকার ব্যাকহিল থেকে অ্যান্ডি রবার্টসনের ক্রসে মাথা ছোঁয়ান স্কট ম্যাকটমিনে, তবে বল চলে যায় পোস্টের ওপর দিয়ে।
এরপর ১৭ মিনিটের মাথায় বেন গ্যানন-ডোকের বানিয়ে দেওয়া বল থেকে ম্যাকটমিনের জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে এর পর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্কটিশদের।
২৮তম মিনিট চে অ্যাডামসের পাস থেকে বল পান দারুণ ফর্মে থাকা গ্যানন-ডোক। তার বাড়ানো বল ধরে শট নেন ম্যাকগিন। দুজন ডিফেন্ডারের পায়ে ডিফ্লেক্ট হয়ে হাইতির গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ায় বল।
এদিকে হাইতির জন্যও ম্যাচটি ছিল এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছিল তারা, তবে প্রত্যাবর্তনটা রাঙাতে পারল না ক্যারিবিয়ান দেশটি।
ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে দুই দলই ছিল সমানে সমান। স্কটল্যান্ড তুলনামূলক গোছানো ফুটবল খেললেও, প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্থের শেষ ১৫ মিনিটে স্কটিশদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে হাইতি। পুরো ম্যাচে হাইতি শট নেয় ১৩টি, বিপরীতে স্কটল্যান্ড নেয় ৮টি।
শেষ পর্যন্ত এক গোলের লিড ধরে রেখেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্কটল্যান্ড। গ্রুপের অপর ম্যাচে ভোরে ১-১ গোলে ড্র করেছে পরাশক্তি ব্রাজিল ও মরক্কো। তাই প্রথম ম্যাচ শেষে আপাতত শীর্ষে আছে স্কটিশরা।




