• ই-পেপার

জিদানের ছেলেকে রেখে বিশ্বকাপ দল আলজেরিয়ার

বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দিতে কানসাসে পৌঁছেছেন মেসি-দে পল

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দিতে কানসাসে পৌঁছেছেন মেসি-দে পল

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিতে একটি ব্যক্তিগত ফ্লাইটে লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো দে পল যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে পৌঁছেছেন। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে অংশ নিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ানরা বেস ক্যাম্প স্থাপন করেছে এই শহরে। 

মুন্দো আলবিসেলেস্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসি এবং দে পল হলেন কানসাস সিটিতে পৌঁছানো সর্বশেষ দুই খেলোয়াড়। বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কানসাস সিটিতে অবস্থান করছে। গত রবিবার সকালে দলের বাকি খেলোয়াড় পৌঁছানোর পর, ইন্টার মিয়ামির এই দুই খেলোয়াড়ই সর্বশেষ এসে পৌঁছেছেন।

আর্জেন্টিনা দল কানসাস সিটির ‘বার্কলি রিভারফ্রন্টে’ অবস্থান করছেন। কানসাস সিটির অত্যাধুনিক ‘কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টারে’ মূল ট্রেনিং ও অনুশীলন করবেন আলবিসেলেস্তেরা।

মূল বিশ্বকাপ মিশন শুরু করার আগে আর্জেন্টিনা দল মার্কিন মাটিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে  ১৬ জুন কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

 

বিশ্বকাপ ফুটবল সামনে এনেছে মেক্সিকোর হাজারো গুমের ছবি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবল সামনে এনেছে মেক্সিকোর হাজারো গুমের ছবি
নিখোঁজ হওয়া ছবির সামনে ভুক্তভোগীর এক স্বজন। ছবি : রয়টার্স

তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক হয়েছে মেক্সিকো। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজন করলেও এবার যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথ আয়োজক। সে যা-ই হোক, ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-কে ঘিরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ মেক্সিকোয়। 

বিশেষ করে মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্তেরেরেইরে—এই তিন শহর মিলে বিশ্বকাপের ১৩ ম্যাচ হবে। গুয়াদাহালারায় ৪টি ম্যাচ হবে। বিশ্বকাপ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ হলেও নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছে গুয়াদালাহারার নাগরিকরা। কেননা প্রতিনিয়তই সেখানে গুম বা নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে। এখন পর্যন্ত হালিস্কো রাজ্যের এই শহরে ১২৫০০ থেকে ১৬০০০ পর্যন্ত লোক নিখোঁজ হওয়ার নথি রয়েছে। 

আপনজন এবং নিজেদের কাছের লোকদের সন্ধানে অভিনব এক প্রচারণা চালাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারসহ মানবাধিকারকর্মীরা। বিষয়টি বিশ্বের নজরে আনতে ফুটবল ট্রেন্ডিং কার্ড করেছে। সেই কার্ড পোস্টার বা ফ্লায়ার হিসেবে পুরো শহরে সাঁটানো হচ্ছে। খেলোয়াড়দের রেকর্ড কার্ডের মতোই নিখোঁজ কার্ডে থাকছে তাদের শারীরিক বিবরণ ও নিখোঁজের তারিখ। সঙ্গে হাজারো ফ্লায়ারে থাকছে ‘উই মিস ইউ’, ‘হ্যাভ ইউ সিন হার?’ কিংবা ‘ইউ আর লুকিং ফর ইউ’।

বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে ব্যাপক মানুষের সমাগম কিংবা পর্যটক আসবে চিন্তা করেই ভুক্তভোগীরা ল্যাম্পপোস্ট, বাস স্টপ, পাবলিক স্কয়ারে ফ্লায়ার সাঁটাচ্ছে। বিপরীতে নিজেদের ভাবমূর্তি ‘পরিচ্ছন্ন’ রাখতে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে এবং নতুন আইন করছে স্থানীয় প্রতিনিধিরা। ভুক্তভোগীদের দাবি—নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের চেয়ে আন্তর্জাতিক সম্মান এবং পর্যটকদের দেখানোর জন্য বাহ্যিক সৌন্দর্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশটির শীর্ষ মাদক কারবারি ‘এল মেনচো’ সামরিক অভিযানে নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্ক আরো বেড়েছে। কেননা তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মেক্সিকোর অন্তত ৮টি রাজ্যে তাণ্ডব শুরু করেছিল মাদক চক্রটির সদস্যরা।

আইপিএলের পুরস্কার জয়ে সূর্যবংশীর ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক
আইপিএলের পুরস্কার জয়ে সূর্যবংশীর ইতিহাস
ব্যক্তিগত পুরস্কার সামনে রেখে সূর্যবংশীর ফটোসেশন। ছবি : ক্রিকইনফো

সঞ্চালকের ঘোষণায় এক এক করে পাঁচবার পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে গেলেন বৈভব সূর্যবংশী। ফিরলেন পাঁচটি পুরস্কার নিয়ে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হলেও পুরস্কার মঞ্চের আলো এভাবেই কেড়েছেন সূর্যবংশী। তাতে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই হলো ১৫ বছর বয়সী বাঁ-হাতি ব্যাটারের।

আইপিএলের এক আসরে পাঁচ পুরস্কার জেতার নজির নাই আর কোনো ক্রিকেটারের। এ ছাড়া প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে জিতেছেন সেরা ক্রিকেটার ও টুর্নামেন্টের উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কার। এর বাইরে জিতেছেন টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি রানের জন্য অরেঞ্জ ক্যাপ, সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন ও সুপার সিক্সেস অব দ্য সিজনের পুরস্কার।

 

তবে পুরস্কারের মালা সাজিয়েও অপূর্ণতা থেকে গেছে সূর্যবংশীর। রাজস্থান র‌য়্যালসের হয়ে যে ট্রফিটা জেতা হয়নি তার। ট্রফি ছুঁয়ে দেখা দূর কি বাত ফাইনালেই ওঠা হয়নি রাজস্থানের। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।

সূর্যবংশীর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সটা তাই কাজে আসল না রাজস্থানের। ১৬ ম্যাচ শেষে সর্বোচ্চ ৭৭৬ রান করেন এই ওপেনার। স্ট্রাইকরেট চোখ কপালে ওঠার মতো, ২৩৭.৩০। ৬৩ চারের বিপরীতে হাঁকিয়েছেন সর্বোচ্চ ৭২ ছক্কা।

ব্যক্তিগত ণৈপুন্য সামনের আসরেও দেখাতে চান সূর্যবংশী। ১৫ বছর বয়সী ব্যাটার বলেছেন, ‘ভালো লাগছে, তবে সাক্ষাৎকার দেওয়ার কারণে কিছুটা চাপও অনুভব করছি। আমার জন্য এটি গর্বের মুহূর্ত। আগামী মৌসুমেও ভালো করার চেষ্টা করব।’

পানামার জালে ব্রাজিলের গোলোৎসব

ক্রীড়া ডেস্ক
পানামার জালে ব্রাজিলের গোলোৎসব
পানামার বিপক্ষে প্রথম মিনিটে গোল করার পর সতীর্থর সঙ্গে ভিনিসিয়ুস। ছবি : রয়টার্স

দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষা ফুরানোর পালা এবার ব্রাজিলের। গেল ৫ বিশ্বকাপে একবারও যে সোনালি ট্রফিটা পুনরায় ছুঁয়ে দেখা হয়নি তাদের। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপে স্পর্শের সুযোগ পাবে ব্রাজিল এমনটাই বিশ্বাস সমর্থকদের।

মারাকানায় আজ সমর্থকদের বিশ্বাসের পাল্লাও ভারী করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-রাফিনিয়ারা। প্রস্তুতি ম্যাচে পানামার জালে গোলোৎসব করে। বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে আজ প্রতিপক্ষকে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ব্রাজিল।

ব্রাজিল গোলোৎসব করেছে দলের ৬ গোলদাতার সৌজন্যে। তবে বদলি হওয়ার আগে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণের মধ্যমণি ছিলেন ভিনিসিয়ুস। গোলোৎসবের শুরুটাও হয় একদম শুরুতেই। বক্সের বাইরে থেকে প্রথম মিনিটেই দূরপাল্লার শটে পানামার জাল কাঁপান ভিনিসিয়ুস। 

বিরতিতে যাওয়ার আগে ভিনির ক্রস থেকেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কাসেমিরো। তার আগে অবশ্য ১৪ মিনিটে সমতায় ফেরে পানামা। পানামার মিডফিল্ডার মুরিলো ফ্রি কিক নিলে শেষ মুহূর্তে ম্যাথিউস কুনহার শরীরে লেগে ব্রাজিলের জাল স্পর্শ করে বলটি। ডানদিকে গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের ঝাঁপিয়ে পড়াটা তাই বৃথাই যায়। 

দ্বিতীয়ার্ধে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার লিও পেরেইরাকে রেখে পুরো দলকেই বদলে ফেলেন কার্লো আনচেলত্তি। তাতে আক্রমণের ধারও বাড়ে এবং খেলায় ছন্দ খুঁজে পায় ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে নিজেই জানিয়েছেন ব্রাজিল কোচ। তবে তৃতীয় গোলটি সেলেসাওরা পায় পানামার গোলরক্ষকের ভুলে। 

 

ম্যাচের ৫৩ মিনিটে গোলরক্ষক অরল্যান্ড মসকুয়েরা শট নিতে গিয়ে রায়ানের পায়ে বল দেন। ফাঁকা গোলবারে বল জড়াতে ভুল করেননি বোর্নমাউথের ফরোয়ার্ড। সেই গোলের পর দ্রুতই আরো দুটি পায় ব্রাজিল। ৬০ মিনিটে লুকাস পাকেতার বিপরীতে ৬৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ইগর থিয়াগো। 

৮১ মিনিটে পাকেতার পাস থেকে ৬-১ ব্যবধান করেন দানিলো। বিপরীতে ৮৩ মিনিটে চোখ ধাঁধানো এক শটে ব্যবধান কমান কার্লোস হার্ভি। বক্সের অনেক বাইরে থেকে বুলেট গতির শট গোলটি করেন তিনি। তবে ম্যাচ শেষে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন নেইমার। চোটের কারণে প্রস্তুতি ম্যাচে না খেলা সুপারস্টারকে ঘিরে শুরু হয় ফটো তোলার হিড়িক। এক এক করে পানামার বেশিরভাগ ফুটবলারই তার সঙ্গে তুললেন ছবি। হাসিমুখে সকলের আবদারও মেটালেন নেইমার।