• ই-পেপার

এক দিনে তিন হার ভারতের

হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টারে নরওয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক
হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টারে নরওয়ে

একের পর এক গোল মিসের মহড়া দিল ব্রাজিল, কিন্তু আর্লিং হালান্ড কি আর এমন সুযোগ হেলায় হাতছাড়া করবেন? না, তিনি ভুলের শাস্তি দিতে ভুল করেননি। শেষ ১০ মিনিটে দুইবার ব্রাজিলের জালে পাঠিয়েছেন বল। পরে ম্যাচের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে নেইমার এক গোল শোধ দিলেও তা যথেষ্ট ছিল না পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য। এতেই হেক্সা মিশনে ভঙ্গ দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে নেইমারদের।

আর এই জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে পৌঁছে গেল ভাইকিংরা।

বিস্তারিত আসছে…

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

গিমারায়েসের পেনাল্টি মিস, প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়া হলো না ব্রাজিলের

ক্রীড়া ডেস্ক
গিমারায়েসের পেনাল্টি মিস, প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়া হলো না ব্রাজিলের

শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে ব্রাজিল-নরওয়ে। গোলহীন প্রথমার্ধে সুযোগ অবশ্য এসেছিল দুই দলের কাছেই তবে এগিয়ে যাওয়ার বড় ধরণের সুযোগ বেশি মিস করেছে সেলেসাওরা। এদিকে প্রায় ৬৫ শতাংশ বলের দখল নিজেদের কাছে রেখেছে ভাইকিংরা। 

এর মধ্যে ম্যাচের ১১ মিনিটের মাথায় বক্সে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করায় ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে স্পটকিক থেকে তা মিস করে বসেন ব্রাজিল মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারাইস। দারুণ দক্ষতায় তার শট ঠেকান নরওয়ের গোলকিপার ওরইয়ান নিল্যান্ড।

এরপর ম্যাচের ৪০ মিনিটের মাথায় ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত শট ঠেকিয়ে আবারও দলকে ম্যাচে রাখেন নিল্যান্ড।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে অবশ্য দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। হালান্ড-গ্যাব্রিয়াল যুদ্ধ থেকে বক্সে বল পান মার্টিন ওডেগার্ড। দারুণ এক শট নিলেও তা চমৎকার দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আলিসন।

এর আগে ম্যাচের শুরুতে চতুর্থ মিনিটে একবার বল জালে জড়িয়েছিল নরওয়ে। তবে অফসাইডের কারণে বাতিল হয় গোলটি।

দেখে নিন নরওয়ের বিপক্ষে কারা আছে ব্রাজিলের একাদশে

ক্রীড়া ডেস্ক
দেখে নিন নরওয়ের বিপক্ষে কারা আছে ব্রাজিলের একাদশে

জাপান ম্যাচের একাদশ ধরে রাখার শতভাগ উপায় ছিল না কার্লো আনচেলত্তির সামনে। চোটের বাধায় একটা পরিবর্তন আনতেই হতো ব্রাজিল বসকে। সেটাই করলেন, চোট নিয়ে ছিটকে যাওয়া লুকাস পাকেতার জায়গায় নরওয়ের বিপক্ষে সেলেসাওদের শুরুর একাদশে সুযোগ করে দিলেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে।

নরওয়ে বধের লক্ষ্যে আনচেলত্তির সাজানো ব্রাজিল একাদশের ত্রাতা হিসেবে পোস্টের নিচে যথারীতি থাকছেন আলিসন বেকার। রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্ব পড়েছে দানিলো, মার্কিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও ডগলাস সান্তোসের কাঁধে।

মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্রুনো গিমারাইস ও অভিজ্ঞ কাসেমিরোর সঙ্গে আজ যোগ দিচ্ছেন মার্তিনেল্লি। আর আক্রমণভাগে নরওয়ের রক্ষণদুর্গ কাঁপানোর গুরুভার থাকছে রায়ান, মাতেউস কুনিয়া এবং ছন্দে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ওপর। তবে আজও একাদশে নেই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা নেইমার জুনিয়র।

ব্রাজিলের একাদশ:

আলিসন বেকার, দানিলো, মার্কিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, ডগলাস সান্তোস, ব্রুনো গিমারাইস, কাসেমিরো, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, রায়ান, মাতেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে বিশ্বকাপে সপ্তম মুকুট অস্ট্রেলিয়ার

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে বিশ্বকাপে সপ্তম মুকুট অস্ট্রেলিয়ার
সংগৃহীত ছবি

বোলারদের নৈপুণ্যে লক্ষ্যটা নাগালেই ছিল অস্ট্রেলিয়ার। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে অনবদ্য ইনিংস খেলেছে দলটি। রান তাড়ায় দলকে পথ দেখালেন বেথ মুনি ও ফিবি লিচফিল্ড। ইংল্যান্ডকে অনায়াসে হারিয়ে আরেকবার উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলো অস্ট্রেলিয়া।

রবিবার লর্ডসের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয় পায়।

ইংল্যান্ড ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান সংগ্রহ করে। এ রান তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ১৭ বল হাতে রেখেই।

উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০ আসরের মধ্যে ৮ বার ফাইনালে খেলে ৭ বার চ্যাম্পিয়ন হলো অস্ট্রেলিয়া। একটির বেশি শিরোপা নেই আর কারো।

২০০৯ সালে ঘরের মাঠে প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এই নিয়ে চারটি ফাইনালে হারল ইংল্যান্ড।

অস্ট্রেলিয়ার জয়ে ব্যাট হাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন বেথ মুনি। ১০ চারে ৪৯ বলে ৬৪ রান করেন অভিজ্ঞ কিপার-ব্যাটার। সেমি-ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রান তাড়ায় ৩৬ বলে অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারই জেতেন ফাইনাল ও টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। এতে তার নাম খোদাই হয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায়। উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুইবার (২০২৩ ও ২০২৬) ফাইনাল সেরা ও দুইবার (২০২০ ও ২০২৬) টুর্নামেন্ট সেরা হওয়া প্রথম ক্রিকেটার তিনিই।

ইতিহাস গড়েছেন পেরিও। নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৯টি আইসিসি ট্রফি জিতলেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি।

এবারের আসর দিয়ে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলার ফিফটিও করেন চিরসবুজ এই অলরাউন্ডার।

সেমি-ফাইনালে ব্যাটিংয়ের সময় অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ায় ফাইনালে পেরির খেলা নিয়ে ছিল শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত মাঠে নেমে তিনি গড়েন আরেকটি কীর্তি। উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাতটি ফাইনালের খেলার রেকর্ডে স্বদেশী অ্যালিসা হিলির পাশে বসেন তিনি।

ফাইনালে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ৫ ওভারের মধ্যে দুই ওপেনার অ্যামি জোন্স ও ড্যানি ওয়াট-হজকে হারায় ইংল্যান্ড।

প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে তিনশ রানের কীর্তি গড়েন ওয়াট-হজ (৩০২)।

ভালো শুরু করে ইনিংস টেনে নিতে পারেননি অ্যালিস ক্যাপসি। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক সোফি মলিনিউকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি (২০ বলে ২৩)। হিদার নাইট বিদায় নেন দ্রুতই।

একাদশ ওভারে ৭০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।

সেখান থেকে অবিচ্ছিন্ন ৮০ রানের জুটিতে দলকে দেড়শ পর্যন্ত নিয়ে যান অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ও ফ্রেয়া কেম্প।

জুটিতে আগ্রাসী ছিলেন কেম্প। সিভার-ব্রান্ট চেষ্টা করেও শেষের দিকে দ্রুত রান তুলতে পারেননি। ৫ চারে ৫৩ বলে ৫৮ রান করেন তিনি। ৪টি চার ও এক ছক্কায় ২৮ বলে ৪৪ রান করেন কেম্প।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটি করে উইকেট নেন কিম গার্থ, লুসি হ্যামিল্টন, মলিনিউ ও অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড।

লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম বলে মিড অন ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে চার মেরে শুরু করেন জর্জিয়া ভল। বেশিক্ষণ যদিও টিকতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় ওভারে তাকে বোল্ড করে দেন লরেন বেল।

দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ বলে ১০০ রানের জুটিতে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন মুনি ও ফিবি লিচফিল্ড।

উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্বিতীয় উইকেটে প্রথম শতরানের জুটি এটি। শতরানের উদ্বোধনী জুটি আছে দুটি।

ফিফটির কাছে গিয়ে বিদায় নেন লিচফিল্ড। ছয় চার ও দুই ছক্কায় ৩৫ বলে ৪৮ রান করেন তিনি।

৩৮ বলে ফিফটি ছুঁয়ে এগিয়ে যান মুনি। দলের জয় থেকে ১১ রান দূরে থাকতে বিদায় নেন তিনি।

পরের ওভারে মিড-অফে পেরির একটি নিচু ক্যাচ নেন এক্লেস্টোন। কিন্তু বেশ কয়েক রিপ্লে দেখে আউট দেননি টিভি আম্পায়ার। সিদ্ধান্তটি নিয়ে ক্ষুব্ধ দেখা যায় ইংলিশ ক্রিকেটারদের।

তাতে কিছুটা উত্তেজনা ছড়ালেও ম্যাচে প্রভাব পড়েনি। বাকিটা অনায়াসে সারেন গার্ডনার ও পেরি।

গ্রুপ পর্বে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তি প্রতিপক্ষকে হারিয়ে, সেমি-ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিদায় করে, ফাইনালে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো অস্ট্রেলিয়া। প্রথমবার বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিয়েই দলকে ট্রফি এনে দিলেন মলিনিউ। বছরের শুরুতে অনেকটা চমক জাগিয়ে তিন সংস্করণেই অস্ট্রেলিয়ার নতুন অধিনায়ক ঘোষণা করা হয় বাঁহাতি এই স্পিনিং অলরাউন্ডারকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ইংল্যান্ড : ২০ ওভারে ১৫০/৪ (জোন্স ৬, ওয়াট-হজ ৮, সিভার-ব্রান্ট ৫৮*, ক্যাপসি ২৩, নাইট ২, কেম্প ৪৪*; গার্থ ৪-০-২০-১, হ্যামিল্টন ৩-০-১৯-১, মলিনিউ ৪-০-৩২-১, সাদারল্যান্ড ৪-০-৩৪-১, ওয়্যারহ্যাম ২-০-৯-০, গার্ডনার ৩-০-৩২-০)

অস্ট্রেলিয়া : ১৭.১ ওভারে ১৫৩/৩ (ভল ৯, মুনি ৬৪, লিচফিল্ড ৪৮, পেরি ১৩*, গার্ডনার ৩*; ডিন ৪-০-২৮-১, বেল ৩-০-৩৮-১, স্মিথ ৪-০-৩০-০, কেম্প ২-০-২২-০, এক্লেস্টোন ৩.১-০-২৪-১, গিবসন ১-০-৭-০)

ফল : অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জিতে চ্যাম্পিয়ন

প্লেয়ার অব দ্য ফাইনাল : বেথ মুনি

প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট : বেথ মুনি

এক দিনে তিন হার ভারতের | কালের কণ্ঠ