• ই-পেপার

নোমান-সাজিদ এবার সিরিজও জেতালেন পাকিস্তানকে

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মেক্সিকো, জার্সি পরে ভাইরাল পোষা হাঁস!

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মেক্সিকো, জার্সি পরে ভাইরাল পোষা হাঁস!
সংগৃহীত ছবি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনের পর আনন্দে মেতে উঠেছেন মেক্সিকোর ফুটবলপ্রেমীরা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো ২-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর পর পুরো রাজধানী যেন এক বিশাল উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।

স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে শহরের রাস্তাঘাট—সবখানেই ছিল সমর্থকদের ভিড়। নাচ, গান, উল্লাস আর জাতীয় দলের জার্সিতে সেজে ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বকাপের আনন্দ উদযাপন করেন।

তবে বিশ্বকাপের এই উন্মাদনা শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ছড়িয়ে পড়েছে পোষা প্রাণীদের মধ্যেও। ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় এক মা ও তার ছেলেকে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে অনুসরণ করছে তাদের পোষা হাঁস। মজার বিষয় হলো, হাঁসটির গায়েও ছিল মেক্সিকো জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি।

রাস্তা দিয়ে দুলতে দুলতে হাঁটতে থাকা হাঁসটিকে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা মুগ্ধ হন এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করেন। 

অন্যদিকে হাঁসটির মালিক মা ও ছেলে ছিলেন একেবারেই স্বাভাবিক, যেন জাতীয় দলকে সমর্থন জানাতে পোষা প্রাণীকে নিয়ে বের হওয়া তাদের নিত্যদিনের ঘটনা।

ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘বিশ্বকাপ মাত্র শুরু হয়েছে, আর পরিবেশ ইতোমধ্যেই দারুণ উৎসবমুখর।’

এমন দৃশ্য কেবল লাতিন আমেরিকার কোনো দেশেই দেখা সম্ভব বলে একজন লিখেছেন।

আরেকজন বলেন, মেক্সিকোর ফুটবল জার্সি পরা হাঁস সম্ভবত আমার নতুন প্রিয় জিনিস। ফুটবলের প্রতি মেক্সিকানদের উন্মাদনা সত্যিই অসাধারণ।

অন্য এক মন্তব্যে বলা হয়, এটা অবিশ্বাস্য! মানুষগুলো কত আনন্দ করছে। তাদের দেখে ভালো লাগছে। আফসোস, বিশ্বকাপের ফাইনাল মেক্সিকোতে হচ্ছে না।

ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচে মিলে গেল বাজপাখির ভবিষ্যদ্বাণী

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচে মিলে গেল বাজপাখির ভবিষ্যদ্বাণী
সংগৃহীত ছবি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজের ভবিষ্যদ্বাণী দিয়ে আলোচনায় থাকা ‘শক দ্য হক’ নামের বাজপাখি আবারও দেখাল তার নিখুঁত পূর্বাভাসের দক্ষতা। টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচের ফলও সঠিকভাবে অনুমান করেছে এই পালকধারী ফুটবল ভবিষ্যদ্বক্তা।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার লড়াইয়ের ফল সঠিকভাবে অনুমান করার পর দ্বিতীয় পরীক্ষায় আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় শক। এবার তার সামনে ছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর ম্যাচ।

ম্যাচের আগে দুই দলের পতাকার সামনে গিয়ে শক এমন আচরণ করে, যা দেখে মনে হয়েছিল সে ব্রাজিলকে বেছে নিতে যাচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তে কোনো দলের পক্ষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। এতে ধারণা করা হয়, ম্যাচটি ড্র হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত শকের সেই ইঙ্গিতই সত্যি হয়েছে। শক্তিশালী দুই দলের লড়াই ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়। ফলে বিশ্বকাপে শকের ভবিষ্যদ্বাণীর শতভাগ সাফল্য বজায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচের ফলই সঠিকভাবে অনুমান করেছে সে।

টানা দুই সফল পূর্বাভাসের পর শকের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। এবার তার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ—মিশর ও বেলজিয়ামের ম্যাচ। টানা তৃতীয়বারের মতো সঠিক ফল অনুমান করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই স্কটল্যান্ডের জয়

ক্রীড়া ডেস্ক
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই স্কটল্যান্ডের জয়
ছবি : রয়টার্স

দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রেখেই জয়ের স্বাদ পেল স্কটল্যান্ড। ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে এবারের আসরে প্রথম ইউরোপীয় দল হিসেবে জয় তুলে নিয়েছে স্কটিশরা। 

ফক্সবরোর বস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী একমাত্র গোলটি করেন দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জন ম্যাকগিন। আর এই গোলের পর বিশ্বমঞ্চ দেখল তার সেই পরিচিত ও আবেগঘন ‘গগলস’ উদযাপন। বুড়ো আঙুল ও তর্জনী দিয়ে বৃত্ত বানিয়ে চোখের সামনে চশমার মতো তুলে ধরার এই উদযাপনের পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন গল্প। 

ম্যাকগিনের ভাগ্নে জ্যাকের দৃষ্টিশক্তি কিছুটা দুর্বল, যার কারণে মাঠে তাকে সুরক্ষামূলক স্পোর্টস গগলস পরে খেলতে হয়। ভাগ্নের প্রতি ভালোবাসা ও তাকে অনুপ্রেরণা দিতেই ম্যাকগিনের এই বিশেষ ভঙ্গি, যা এবার বিশ্বকাপের মঞ্চেও দেখা গেল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে স্কটল্যান্ড। সপ্তম মিনিটেই ম্যাকগিনের চমৎকার ব্যাকহিল থেকে অ্যান্ডি রবার্টসনের ক্রসে মাথা ছোঁয়ান স্কট ম্যাকটমিনে, তবে বল চলে যায় পোস্টের ওপর দিয়ে। 

এরপর ১৭ মিনিটের মাথায় বেন গ্যানন-ডোকের বানিয়ে দেওয়া বল থেকে ম্যাকটমিনের জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে এর পর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্কটিশদের। 
২৮তম মিনিট চে অ্যাডামসের পাস থেকে বল পান দারুণ ফর্মে থাকা গ্যানন-ডোক। তার বাড়ানো বল ধরে শট নেন ম্যাকগিন। দুজন ডিফেন্ডারের পায়ে ডিফ্লেক্ট হয়ে হাইতির গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ায় বল। 

এদিকে হাইতির জন্যও ম্যাচটি ছিল এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছিল তারা, তবে প্রত্যাবর্তনটা রাঙাতে পারল না ক্যারিবিয়ান দেশটি।

ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে দুই দলই ছিল সমানে সমান। স্কটল্যান্ড তুলনামূলক গোছানো ফুটবল খেললেও, প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্থের শেষ ১৫ মিনিটে স্কটিশদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে হাইতি। পুরো ম্যাচে হাইতি শট নেয় ১৩টি, বিপরীতে স্কটল্যান্ড নেয় ৮টি। 

শেষ পর্যন্ত এক গোলের লিড ধরে রেখেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্কটল্যান্ড। গ্রুপের অপর ম্যাচে ভোরে ১-১ গোলে ড্র করেছে পরাশক্তি ব্রাজিল ও মরক্কো। তাই প্রথম ম্যাচ শেষে আপাতত শীর্ষে আছে স্কটিশরা। 
 

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতায় ইরানের বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদল, ১১ জন নিষিদ্ধ

ক্রীড়া ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতায় ইরানের বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদল, ১১ জন নিষিদ্ধ
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। গ্যালারি কিংবা টেলিভিশনের পর্দার সীমা ছাড়িয়ে সেই আবেগ পৌঁছে গেছে জনমনে। তবে এর মধ্যেও বিরাট সংশয় দেখা দিয়েছে ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে। 

বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা না পাওয়ার বিরুদ্ধে করা আপিলে ইরানের প্রতিনিধি দলের চার সদস্য সফল হয়েছেন। তবে বাকি ১১ জনের এখনও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি মেলেনি।

গত সপ্তাহে ইরান অভিযোগ করেছিল যে তাদের জাতীয় ফুটবল দলের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যাকরুম স্টাফদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ইরানের খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা উদ্বেগ থেকে ইরান ইতোমধ্যে তাদের বিশ্বকাপ ক্যাম্প মেক্সিকোতে স্থানান্তর করেছে।

সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা বলছে, প্রাথমিকভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়া ১৫ জন ইরানি প্রতিনিধির মধ্যে ১০ জন মেক্সিকোতে পৌঁছানোর পর পুনরায় আবেদন করেন। এর মধ্যে ৪ জনের আপিল গৃহীত হয়েছে।

ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- দলের একজন টেকনিক্যাল বিশ্লেষক এবং ইরান ফুটবল ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক বিভাগের দুই কর্মকর্তা।

তবে পুনরায় আবেদন করা ৬ জনের ভিসাও আবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহদি তাজ, ফেডারেশনের এক সহ-সভাপতি, দলের দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তা, একজন মিডিয়া কর্মকর্তা এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। এছাড়া আরেকজন মিডিয়া কর্মকর্তা প্রথমবার ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আর আবেদন করেননি।

বিশ্বকাপে ইরান তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে এবং ২৬ জুন সিয়াটলে খেলবে মিশরের বিরুদ্ধে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ চলতি সপ্তাহে ইরানি সমর্থকদের জন্য বরাদ্দকৃত গ্রুপ-পর্বের টিকিট কোটা বাতিল করেছে। যদিও ফিফা জানিয়েছে, তারা ইরানি সমর্থকদের ম্যাচে উপস্থিতির সুযোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

এর আগে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের শর্ত হিসেবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে ১০ দফা দাবি পেশ করেছিল। এর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসে (আইআরজিসি) সামরিক দায়িত্ব পালন করা খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও ছিল।

তবে এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ইরানের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে স্বাগত হলেও আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

এর আগে এপ্রিল মাসে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসেও ইরানের প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারেননি। কানাডীয় কর্তৃপক্ষ আইআরজিসির সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তাদের সীমান্তে প্রবেশে বাধা দেয়।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, একটি দেশের বিশ্বকাপ প্রতিনিধি দলে কতজন সদস্য থাকবে সে বিষয়ে কোনো সীমা নেই। তবে সংস্থাটি সর্বোচ্চ ৫০ জনের ব্যয় বহন করে।

শুধু ইরানই নয়, এবারের বিশ্বকাপে ভিসা সংক্রান্ত বিতর্কে আরও কয়েকটি দেশ ও ব্যক্তি জড়িয়েছেন। কিছু দেশের সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানও বিশ্বকাপ ম্যাচ পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।

এ ঘটনায় ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার সমালোচনা করে বলেছেন, বিশ্বকাপের আয়োজক দেশের দুটি মৌলিক দায়িত্ব হলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব যোগ্য দল, কর্মকর্তা ও রেফারির অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ব্ল্যাটার বলেন, ‘সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানের ঘটনা এই দায়িত্বের পরিপন্থী। ফুটবলের সার্বজনীনতার প্রশ্নে ফিফার কোনো আপস করা উচিত নয়।’

প্রসঙ্গত, ৯০ বছর বয়সী ব্ল্যাটার ১৭ বছর ফিফার সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর দুর্নীতির অভিযোগে পদ ছাড়েন। পরে একটি ফৌজদারি মামলায় তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান।

নোমান-সাজিদ এবার সিরিজও জেতালেন পাকিস্তানকে | কালের কণ্ঠ