২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে হাইতির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে স্কটল্যান্ড। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত। এসব সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হাইতির সমর্থকরা। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ম্যাচটিকে ‘ডাকাতি’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে স্কটল্যান্ডের জন ম্যাকগিনের পা থেকে। কিন্তু হাইতির দাবি, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা ন্যায্য সিদ্ধান্ত থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে একটি সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের ঘটনায় পেনাল্টি না দেওয়ায় বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে।
ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে হাইতির জ্যঁ-রিকনার বেলেগার্দের শট স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার গ্রান্ট হ্যানলির হাতে লাগে। হাইতির খেলোয়াড়রা সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির আবেদন জানান। তবে রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বলেন এবং ভিএআর থেকেও কোনো পর্যালোচনার নির্দেশনা আসেনি।
এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইতির সমর্থকরা। অনেকেই দাবি করেন, স্পষ্ট হ্যান্ডবলের পরও পেনাল্টি না দেওয়া হাইতির প্রতি অবিচার। কেউ কেউ সরাসরি রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলেন।
বিতর্ক আরো বাড়ে ম্যাচের যোগ করা সময়ে। স্কটল্যান্ডের কেনি ম্যাকলিন হাইতির জোসুয়ে কাসিমিরের ওপর কঠোর ট্যাকল করলেও তাকে শুধু হলুদ কার্ড দেখানো হয়। রিপ্লেতে ট্যাকলটি আরো গুরুতর মনে হলেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে বিতর্কের মাঝেও হাইতির পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। ১৯৭৪ সালের পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা দলটি পুরো ম্যাচজুড়ে স্কটল্যান্ডকে চাপে রেখেছিল এবং একাধিক গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল।
শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্কটল্যান্ড। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটি তাদের প্রথম জয়। অন্যদিকে হারলেও সমর্থকদের মন জয় করেছে হাইতি।
গ্রুপ ‘সি’-এর পরবর্তী ম্যাচে স্কটল্যান্ড খেলবে মরক্কোর বিপক্ষে। আর হাইতির সামনে অপেক্ষা করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কঠিন চ্যালেঞ্জ।





