• ই-পেপার

ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলল ভারত

ইংল্যান্ড সিরিজেও দলে জায়গা হলো না হার্দিকের

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ড সিরিজেও দলে জায়গা হলো না হার্দিকের

আফগানিস্তানের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন হার্দিক পান্ডে। ফিটনেস পরীক্ষায় ব‍্যর্থ হওয়ায় সিরিজ থেকে বাদ পড়লেন এই অলরাউন্ডার। আইপিএলে পাওয়া চোট এখনো সম্পূর্ণ সারেনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের এই অধিনায়কের। 

আইপিএলের চলাকালীন পিঠে চোট পান হার্দিক। ব্যথার জন্য মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলতে পারেননি। যদিও আইপিএলের শেষ দুটি ম্যাচে মুম্বাইকে নেতৃত্ব দেন তিনি। 

বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সেন্টার অব এক্সেলেন্সে (সিওই) রয়েছেন হার্দিক। সেখানে পরিচর্যা চলছে তার। 

বোর্ড জানিয়েছে, ওয়ানডে ম্যাচ খেলার মতো ফিটনেস এখনো নেই হার্দিকের। ফিটনেস পরীক্ষার ফলে সন্তুষ্ট নন বিসিসিআইয়ের চিকিৎসকরা। বল করতে সমস্যা হচ্ছে ৩২ বছরের হার্দিকের।

কিছুদিন আগে অনুশীলনে ১০ ওভার বল করেছিলেন হার্দিক। তাতে একটা আশা তৈরি হয়। কিন্তু ৫০ ওভারের ম্যাচের ধকল নেওয়ার মতো জায়গায় নেই তিনি। খেলতে পারেননি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজও। সিওইতে রিহ্যাব চলাকালীনও নতুন করে চোট পান হার্দিক।

প্যারাগুয়ে দুর্বল দল নয়—কোচ গুস্তাভো আলফারো

ক্রীড়া ডেস্ক
প্যারাগুয়ে দুর্বল দল নয়—কোচ গুস্তাভো আলফারো
সংগৃহীত ছবি

২০১০ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত প্যারাগুয়ে। এমন হারের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে লা আলবিরোজ্জারা। গেল শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পায় গুস্তাভোর শিষ্যরা। জয়ের প্রতিক্রিয়ায় দলের খেলোয়াড়দের লড়াকু মনোভাবের প্রশংসা করেছেন কোচ গুস্তাভো আলফারো।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গুস্তাভো আলফারো বলেছেন, প্যারাগুয়েকে কখনোই দুর্বল দল হিসেবে ভাবা উচিত নয়। আমরা আরো ভালো দলের মুখোমুখি হব, যারা আরো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ। আমরা সব দলকে সম্মান করি। নিজেদেরকে কোনোভাবেই দুর্বল দল ভাবার কারণ নেই।

আমরা সর্বদা আমাদের সেরাটা দেব এবং আমাদের জার্সিকে সম্ভাব্য সর্বোত্তম উপায়ে উপস্থাপন করব বলে যোগ করেন তিনি।

গ্রুপ ‘ডি’তে প্যারাগুয়ের জয়ে রাউন্ড থার্টিটুর আশা এখনো টিকে রইল। এদিকে দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় তুরস্কের। অন্য ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বকাপের মাঝেই অবসর ভেঙে ফিরলেন রোনালদিনহো

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের মাঝেই অবসর ভেঙে ফিরলেন রোনালদিনহো
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো। ছবি : ইনস্টাগ্রাম

কি, শিরোনাম পড়ে চমকে উঠলেন?

ওঠারই কথা। ভাবছেন, যে মানুষটা ২০১৫ সালে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় বলেছেন, তিনি কি না বিশ্বকাপের মাঝে অবসর ভেঙে ফিরলেন ব্রাজিল দলে!

না, ব্যাপারটা সে রকম কিছু নয়। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো অবসর ভেঙে ফিরলেন ঠিকই; তবে তা ইতালির ঘরোয়া ফুটবলের তৃতীয় স্তরের ক্লাব রাভেন্নার হয়ে খেলতে। ক্লাবটির সভাপতি ইনাৎসিও চিপরিয়ানি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ইতালির শীর্ষ ক্রীড়া দৈনিক লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ট জানিয়েছে, ৪৬ বছর বয়সী রোনালদিনহো অবসর ভেঙে ইতালিয়ান সিরি ‘সি’-এর ক্লাব রাভেন্নার সঙ্গে চুক্তি করেছেন। তিনি ক্লাবটির শেয়ারও কিনেছেন এবং এর উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করবেন।

রাভেন্না আগামী ২৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রোনালদিনহোর যোগদানের ঘোষণা দেবে। সভাপতি ইনাৎসিও চিপরিয়ানি দীর্ঘদিন ধরেই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিকে ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছিলেন।

রোনালদিনহো নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, ‘নতুন রং। কিন্তু একই হাসি। আমি আবারো বল নিয়ে নাচতে এবং ইনাৎসিও চিপরিয়ানির পরিবারের সঙ্গে নতুন একটি গল্প লিখতে মুখিয়ে আছি। ফুটবল সবসময়ই আমার কাছে আনন্দের উৎস। আর সেই আনন্দের অনুভূতিটাই আমি রাভেন্নায় নিয়ে যেতে চাই।’

রোনালদিনহোকে খেলতে দেখা যাবে বিশেষ কয়েকটি ম্যাচে। তবে রাভেন্নার প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত দেখা যাবে তাকে। 

২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন রোনালদিনহো। ২০০৫ সালে জেতেন ব্যালন ডি’অর। ২০০৬ সালে বার্সেলোনাকে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতেও বড় অবদান রাখেন। 

রোনালদিনহো সর্বশেষ পেশাদার ফুটবল খেলেছেন ২০১৫ সালে। প্রায় এক যুগ পর তার এই প্রত্যাবর্তন ফুটবল বিশ্বে নতুন করে সাড়া ফেলেছে। 

বিদেশি সমর্থকদের কাছে যেভাবে প্রিয় হয়ে উঠছে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র

ক্রীড়া ডেস্ক
বিদেশি সমর্থকদের কাছে যেভাবে প্রিয় হয়ে উঠছে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বকাপ শুরু আগে ভিসা ইস্যু, উচ্চ টিকিট মূল্যসহ বেশ কিছু কারণে বিতর্কের জন্ম দেয় আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র।  ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্ট নিয়ে আয়োজক দেশের মানুষের মধ্যে আগ্রহের কমতিতে উদ্বেগ ছিল বিদেশি দলের ফুটবলপ্রেমীদের। তবে খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন শহরগুলোর উষ্ণ আতিথেয়তা ও স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যর্থনা বিদেশি সমর্থকদের মুগ্ধ করেছে। 

কঠোর ভিসা নীতিমালার কারণে ইরান, হাইতি, আইভরি কোস্ট এবং সেনেগালের মতো বেশ কিছু দেশের বড় একটি অংশ নিজ দেশ থেকে এসে গ্যালারিতে যোগ দিতে পারেনি। এই শূন্যতা পূরণে সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছেন।

আমেরিকান স্থানীয় বাসিন্দারা স্টেডিয়ামগুলোতে নিজেদের দেশের মতো সমর্থন না পাওয়া আন্ডারডগ দলগুলোকে আপন করে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলভক্তদের মন জয় করছেন। 

বর্ণিল আয়োজন, সুসজ্জিত ফ্যান জোন এবং স্থানীয়দের আন্তরিক অভ্যর্থনা মাঠের বাইরের পরিবেশকে আরো আনন্দময় করে তুলেছে। যা টুর্নামেন্টের উত্তেজনাকে ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।

বোস্টনের একটি পাবে এসেছিলেন ‘টারটান আর্মি’র স্কটিশ ভক্ত গেইল নিকোল। এ সময় তিনি বলেন, ‘বোস্টনের একটি পাবে দুজন চমৎকার মেয়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়। সেদিন মেয়েটির জন্মদিন ছিল, সে ককটেল খাচ্ছিল। আমি তাকে আরেকটি কিনে দিলাম এবং তারা বারবার বলছিল ‘বোস্টন, ম্যাসাচুসেটসে স্বাগতম!’ তারা আমাদের খুব পছন্দ করেছে, আমরাও তাদের পছন্দ করেছি... এখানকার সবাই খুব বন্ধুত্বপূর্ণ, খুব ভালো।’

‘এখানকার মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও খোলামেলা মনমানসিকতা আমার কাছে একেবারেই নতুন’— জুরিখ থেকে আসা এক সুইস সমর্থকের এমন মন্তব্য বেশ সাড়া ফেলেছে।

এ ছাড়া বিশ্বকাপ দেখতে আসা বিদেশি ভ্রমণকারীরা পরিচিতি নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও অরল্যান্ডো শহরের বাইরেও কানসাস সিটি, আটলান্টা ও হিউস্টনের মতো জায়গাগুলোর সঙ্গেও পরিচিত হচ্ছে।

কানসাস সিটিতে ঘাঁটি গেড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। শহরটিতে সমবেত হয়েছেন আর্জেন্টিনার নাগরিকরা। যাদের সংস্কৃতিতে ‘আসাদো’ বারবিকিউ খাওয়া ফুটবলের মতোই প্রায় অপরিহার্য—সেখানকার স্থানীয় ‘ড্রাই রাব’ (শুকনো মশলা মাখানো) ঘরানার গ্রিল করা মাংসের স্বাদ নিতে সমবেত হয়েছিলেন আর্জেন্টাইনরা।

খেলা দেখতে আসা আর্জেন্টিনার সমর্থক ক্রিশ্চিয়ান গাস্তেস বরেছেন, আর্জেন্টাইন বারবিকিউ আমার সবচেয়ে প্রিয়। তবে এটিও সত্যিই বেশ চমৎকার।

ডালাসে ডুসেলডর্ফ থেকে আসা জার্মানির সমর্থক মাক্সিমিলিয়ান কির্খও সেখানকার বারবিকিউর স্বাদ নিয়েছিলেন—এবং নিজের নতুন কেনা টেক্সান কাউবয় হ্যাটটি প্রদর্শন করে তিনি বলেন,  ‘আমি এই সংস্কৃতির আরো অভিজ্ঞতা নিতে চাই।’

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যেসব উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল, তার কয়েকটি এখনো কাটেনি। বিশেষ করে মায়ামির মতো জায়গাগুলোর তীব্র গরম খেলোয়াড় এবং দর্শকদের জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে; অথচ ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে গ্রীষ্মের আরো এক মাস বাকি।

যদিও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, গ্যালারিতে দর্শকদের উপস্থিতি বেশ ভালো। তবে টিকিট এবং যাতায়াতের উচ্চ খরচের কারণে অনেকেই এই সফরে আসার আগ্রহ হারিয়েছেন।

তাছাড়া, ভিসার কড়াকড়ি এবং ভিসা না পাওয়ার কারণে অনেক ফুটবল ভক্তকে শেষ পর্যন্ত ঘরে বসেই টিভিতে খেলা দেখতে হচ্ছে।

ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলল ভারত | কালের কণ্ঠ