• ই-পেপার

আইপিএলের ফাইনাল আজ

হালান্ড যেন বলছেন, ‘আমিও আছি’

ক্রীড়া ডেস্ক
হালান্ড যেন বলছেন, ‘আমিও আছি’
ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন আর্লিং হালান্ড। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ মানেই এখন অনেকের চোখে দুই নাম—কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসি। একজন বর্তমানের রাজপুত্র, অন্যজন ফুটবলের চিরন্তন সম্রাট। বিশ্বকাপের মঞ্চে একদিনেই আলো ছড়ালেন দুজনই। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করলেন এমবাপ্পে, আর আলজেরিয়ার জালে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন মেসি।

কিন্তু সেই আলো ঝলমলে মঞ্চে নিজের নামটাও বড় অক্ষরে লিখে রাখলেন আরেক তারকা আর্লিং হালান্ড। 

দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে খেলছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। আর সেই প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই বিশ্বকে যেন বার্তা দিলেন তাদেরই স্বপ্নসারথী হালান্ড—‘আমিও আছি।’

ইরাকের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপে এটিই ছিল তার অভিষেক ম্যাচ, আর প্রথম ম্যাচেই তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন কেন তাকে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর গোলমেশিন বলা হয়।

গত মৌসুমেও ইউরোপিয়ান ফুটবলে গোলের বন্যা বইয়েছেন হালান্ড। ক্লাব ফুটবলে ছিলেন অন্যতম সেরা গোলদাতা। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে এতদিন তাকে দেখা যায়নি। কারণ তার নরওয়ে বিশ্বকাপে জায়গাই করে নিতে পারছিল না। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে, আর সুযোগ পেয়েই নিজের স্বাক্ষর রেখে দিলেন এই নরওয়েজিয়ান।

বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইটাও জমে উঠেছে দারুণভাবে। এমবাপ্পে জোড়া গোল করেছেন, মেসি হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ছুঁয়েছেন। আর হালান্ডও দুই গোল করে জানিয়ে দিলেন, এই দৌড়ে তাকে বাদ দিয়ে হিসাব কষার সুযোগ নেই।

বিশেষ করে নরওয়ের সামনে এখন বড় দুই পরীক্ষা, সেনেগাল ও ফ্রান্স। সেই ম্যাচগুলোতেই বোঝা যাবে হালান্ড কতটা দূর নিয়ে যেতে পারেন নিজের দেশকে। তবে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে একটি বিষয় পরিষ্কার। বিশ্বকাপের আলোচনায় শুধু মেসি কিংবা এমবাপ্পে নন, জায়গা করে নিয়েছেন হালান্ডও।

হয়তো তাই বিশ্বকাপের মঞ্চে তার প্রথম বার্তাটা ছিল খুবই সর—‘মেসি আছেন, এমবাপ্পে আছেন, তবে আমিও আছি।’

জর্দানকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে বার্তা দিল অস্ট্রিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক
জর্দানকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে বার্তা দিল অস্ট্রিয়া

ম্যাচজুড়ে সমানে সমান লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যাবধানেই হারল জর্দান। শেষ সময়ে দুই গোল হজম করে ৩-১ গোলে হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ল নবাগত এশিয়ান দলটি। এদিকে জর্দানকে হারিয়ে এখন মেসিদের দিকে চোখ অস্ট্রিয়ার। 

বিস্তারিত আসছে… 
 

রোনালদোর কাতারে থাকতে পারাটা বিরাট সম্মানের : মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
রোনালদোর কাতারে থাকতে পারাটা বিরাট সম্মানের : মেসি
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে একের পর এক রেকর্ড ভাঙা-গড়ার নাম লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে আবারও ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম উজ্জ্বল করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রোনালদোর ১৫ গোলের রেকর্ড ভেঙে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডে পৌঁছে গেছেন তিনি।

ম্যাচ শেষে রেকর্ড স্পর্শ করার অনুভূতি জানাতে গিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেন মেসি। তিনি বলেন, ‘এত বড় বড় কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই তালিকায় থাকতে পারা আমার জন্য বিরাট সম্মানের। বিশেষ করে রোনালদো নাজারিওর মতো একজন ফুটবলারের নামের পাশে নিজের নাম দেখতে পারা সত্যিই গর্বের।’

ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদোকে স্মরণ করে মেসি আরো বলেন, ‘তিনি সর্বকালের সেরাদের একজন। আমি ছোটবেলায় তার খেলা দেখে মুগ্ধ হতাম। তবু তিনি তালিকার এক নম্বরে নেই। এটা দেখলেই বোঝা যায় বিশ্বকাপের ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ এবং এখানে কত বড় বড় খেলোয়াড় খেলেছেন। তার মতো একজন কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনা হওয়াটাও আমার জন্য বিশেষ কিছু।’

ফুটবলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। মেসি বলেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকেই এই খেলাটাই আমার জীবন। যখন আমি নিজেকে ভালো অবস্থায় অনুভব করি, তখন মাঠে নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি। ফুটবল এখনো আমাকে আগের মতোই আনন্দ দেয়।’

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে শুধু ক্লোসার রেকর্ডই স্পর্শ করেননি মেসি, বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও নিজেকে এগিয়ে নিয়েছেন। এখন বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার একক রেকর্ড গড়তে মেসির প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল। আর সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে আরো একটি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

‘কালিমা’ খচিত থাকায় সৌদি পতাকা মাটিতে রাখেনি ফিফা

ক্রীড়া ডেস্ক
‘কালিমা’ খচিত থাকায় সৌদি পতাকা মাটিতে রাখেনি ফিফা
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপের মঞ্চে অনন্য এক নজির সৃষ্টি করল ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা। উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রাক-ম্যাচ অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় পতাকা মাঠের সমান্তরালে প্রদর্শন করা হয়। তবে সৌদি আরবের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের জাতীয় পতাকাটি মাটি স্পর্শ করতে দেয়নি ফিফা; বরং পুরোটা সময় তা উঁচিয়ে ধরে রাখা হয়েছিল।

সৌদি আরবের জাতীয় পতাকায় ইসলামের পবিত্র বাণী ‘কালিমা’ খচিত রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, পবিত্র এই বাণীযুক্ত পতাকা কোনোভাবেই মাটিতে নামানো বা রাখা যায় না। বিশ্বকাপের ম্যাচ শুরুর আগে সাধারণত পতাকাগুলো মাঠে নামিয়ে প্রদর্শন করার নিয়ম থাকলেও, সৌদি ফুটবল কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুরোধে এবার সেই নিয়মে পরিবর্তন আনে ফিফা।

তবে শুধু একটি দলের পতাকা উঁচিয়ে রাখলে অন্য দলের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন হতে পারে—এমন বিতর্ক এড়াতে দারুণ এক বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ব ফুটবলের গভর্নিং বডি। সৌদি আরবের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ উরুগুয়ের জাতীয় পতাকাটিও পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে সমান উচ্চতায় উঁচিয়ে রাখা হয়। ফলে মাঠে এক চমৎকার সাম্য ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ তৈরি হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে কেবল সৌদি আরব ও ইরাকের জাতীয় পতাকায় ধর্মীয় বাণী বা লিপি রয়েছে। সৌদির পতাকায় রয়েছে পবিত্র ‘কালিমা’ এবং ইরাকের পতাকায় খচিত রয়েছে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি।

কোনো ধরনের গোঁড়ামি না দেখিয়ে ভিন্ন একটি দেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি ফিফার এমন সংবেদনশীলতা ও সম্মান প্রদর্শন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।