kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১।৮ সফর ১৪৪৩

যেভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের মেয়ে 'রিফিউজি' হিসেবে অলিম্পিকে

অনলাইন ডেস্ক   

২৭ জুলাই, ২০২১ ১৬:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের মেয়ে 'রিফিউজি' হিসেবে অলিম্পিকে

ছবি : আল জাজিরা

জন্ম থেকেই নিজের দেশে যুদ্ধ দেখে আসছেন। প্রতিদিন গুলি-বোমার শব্দে ঘুম ভাঙত। এখনও তাই। ১৯৯৩ সালে যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে ৬ মাসের নিগারা শাহীনকে নিয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে পাকিস্তানে এসেছিল তার পরিবার। এরপর তারা দীর্ঘদিন দেশে ফিরেননি। তাই পাকিস্তানেই বেড়ে উঠেছেন শাহীন। শিখেছেন জুডো-কারাতে। চলতি টোকিও অলিম্পিকে তিনি শরণার্থী দলের হয়ে অংশ নিয়েছেন। এর আগে তিনি ১৮ বছর পর নিজ দেশে ফিরে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব আফগানিস্তানে ভর্তিও হয়েছেন।

পেশোয়ারে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করেন শাহীন ও তার পরিবার। আফগানিস্তান যেমন মেয়েদের বধ্যভূমি; পাকিস্তানেও মেয়েদের অনেক রক্ষণশীলতা মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হয়। নিজের অ্যাথলেট হয়ে ওঠা নিয়ে শাহীন আল জাজিরাকে বলেন, 'পেশোয়ার ও কাবুলে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন থাকতাম। আল্লাহই জানে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি কতবার হুমকি পেয়েছি। আমার নামে ফেসবুক পেজ খুলে আজেবাজে পোস্ট দেওয়া হতো। আফগান মেয়েরা যত বাধার মুখে পড়েছে, আমিও সেসবের মধ্য দিয়ে গেছি। এরপরও আমি যদি করতে পারি, তারাও পারবে।' 

জঙ্গি তৈরির কারখানা পাকিস্তানে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা জানিয়ে শাহীন বলেন, 'আপনি যখন একটি দেশে শরণার্থী, তখন আপনার মনে হবে সেখানকার সমাজ আপনাকে ঠিক আপন করে নিচ্ছে না। শিশুকাল থেকে পাকিস্তানে বেড়ে উঠতে গিয়ে আমাকে অনেক উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যা আমার চারপাশের অন্য শিশুদের তুলনায় অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু খেলাধুলা ছিল আমার জন্য স্বর্গ। শুধু মানসিকভাবে নয়, এটি আমাকে সমাজের অন্যদের সঙ্গে মেশার সুযোগ করে দিয়েছে। জুডো আমার চিরকালের ভালোবাসা।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে আমার প্রতি পরিবারের অগাধ আস্থা ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রশিক্ষণে যাওয়ার পথে বহুবার আমার ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু আমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ, তারা সবসময় আমার পাশে থেকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। আমি যেকোনো ধরনের মার্শাল আর্ট ক্লাবে যোগ দিতে চাইতাম। ইসলামাবাদে অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টে আমার কোচ জানতে চেয়েছিল, জুডোতে যেতে চাই কি না। কারণ, জুডোতে নারী খেলোয়াড় তেমন নেই। আমি রাজি হয়ে গেলাম আর কারাতের পোশাকেই জুডোতে অংশ নিলাম। একপর্যায়ে কারাতে ছেড়ে জুডোতে মনযোগ দেই।' 

অলিম্পিক স্বপ্ন নিয়ে শাহীন বলেন, 'আমি সব সময় স্বপ্ন দেখতাম, একদিন অলিম্পিকে অংশ নেব। আর এ জন্য আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। কিন্তু একটা সময় মনে হয়েছিল, আমি কোনোদিনও পারব না। তখন আমি মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য রাশিয়ায়। করোনার কারণে সব জুডো ক্লাব বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আমার মনে আছে, যেদিন শরণার্থী অলিম্পিক টিম ঘোষণা করা হলো, সেখানে আমার নাম দেখতে পেয়ে বিশ্বাস হচ্ছিল না। পুরো এক দিন লেগেছিল বিশ্বাস করতে। আমি রাশিয়া গিয়ে ভেবেছিলাম জুডো প্রশিক্ষণে আমাকে তারা সহযোগিতা করবে। কিন্তু তেমনটা পাইনি। এগুলো আমার জন্য কঠিন ছিল। কিন্তু আমি ভেঙে পড়িনি। উল্টো আমার মনোবল আরও শক্ত হয়েছে।'



সাতদিনের সেরা