• ই-পেপার

৯৯ রানে জীবন পেয়ে পেরেরার সেঞ্চুরি

আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে স্পেন? নাকি উরুগুয়ের বিদায়?

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে স্পেন? নাকি উরুগুয়ের বিদায়?
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এইচ’ এর বাঁচা-মরার হাইভোল্টেজ ম্যাচে সকাল ৬ টায় মুখোমুখি হচ্ছে লাতিন পরাশক্তি উরুগুয়ে ও ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেন। নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই দলই আজ মাঠে নামছে চেনা ছক ভেঙে। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পরও আজ একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড লুইস দে লা ফুয়েন্তে। অন্যদিকে কেপ ভার্দের সঙ্গে পয়েন্ট হারানোর পর খোলস ছেড়ে বের হতে বাধ্য হয়েছেন উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসা।

তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল নেতৃত্বে আজ আক্রমণ সাজিয়েছে স্প্যানিশ শিবির। তবে উইনিং কম্বিনেশন ভেঙে রক্ষণভাগে পেদ্রো পোরোর জায়গায় আজ সুযোগ পেয়েছেন মার্কোস ইয়োরেন্তে। মাঝমাঠ ও আক্রমণের ধার বাড়াতে দানি ওলমো এবং নিকো উইলিয়ামসকে বেঞ্চে বসিয়ে আজ শুরুর একাদশে আনা হয়েছে মিকেল মেরিনো ও অ্যালেক্স বায়েনাকে। রদ্রিগো হার্নান্দেজের (রদ্রি) অধিনায়কত্বে মাঝমাঠ সামলাবেন পেদ্রি, মেরিনো ও বায়েনা। আর আক্রমণে ইয়ামালের সঙ্গী মিকেল ওয়ারজাবাল।

অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে উরুগুয়ের সামনে আজ কঠিন সমীকরণ। আগের ম্যাচে কেপ ভার্দের সাথে ২-২ গোলে ড্র করা বিয়েলসা আজ দলে বড় রদবদল এনেছেন। পোস্টের নিচে অভিজ্ঞ ফার্নান্দো মুসলেরাকে ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। আর আক্রমণের শেষভাগে গোল করার মূল দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন ডারউইন নুনেজের কাঁধে। দলটির অধিনায়কত্ব করবেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ফেদেরিকো ভালভার্দে। তার সঙ্গে মাঝমাঠের দখল ধরে রাখার দায়িত্বে থাকবেন মানুয়েল উগার্তে, রদ্রিগো বেনটানকুর ও ম্যাক্সি আরাউহোর মতো তারকারা।

আপাতত ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে স্পেন। ২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা উরুগুয়ের জন্য নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আজ পয়েন্ট পাওয়া বড্ড জরুরি। এদিকে আজ উরুগুয়ে জয় পেলে বা ম্যাচ ড্র হলে আর্জেন্টিনার সঙ্গে শেষ ৩২-এ দেখা হয়ে যেতে পারে স্পেনের। সেক্ষেত্রে কেপ ভার্দে-সৌদি আরব ম্যাচের ফলও প্রভাব ফেলবে সমীকরণে। এইচ গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

দুই দলের শুরুর একাদশ:

স্পেন: উনাই সিমন, মার্কোস ইয়োরেন্তে, আইমেরিক লাপোর্তে, পাউ কুবারসি, মার্ক কুকুরেয়া, মিকেল মেরিনো, অ্যালেক্স বায়েনা, রদ্রি, পেদ্রি, লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল।

উরুগুয়ে: ফার্নান্দো মুসলেরা, সেবাস্তিয়ান ক্যাসেরেস, গুইলার্মো ভ্যারেলা, ম্যাথিয়াস অলিভেরা, মানুয়েল উগার্তে, রদ্রিগো বেনটানকুর, ফেদেরিকো ভালভার্দে, অগুস্তিন কানোবিও, ম্যাক্সি আরাউহো, হুয়ান ম্যানুয়েল সানাব্রিয়া, ডারউইন নুনেজ।

জাপানের বিপক্ষে জয় পেলে শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কে?

ক্রীড়া ডেস্ক
জাপানের বিপক্ষে জয় পেলে শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কে?
ছবি : রয়টার্স

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতোমধ্যে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে জাপান। এবার জানা গেল এই ম্যাচে জয় পেলে কে হতে পারে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ।

আজ রাতে শেষ হয়েছে ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচ। সেখানে ফ্রান্সের কাছে হেরে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়েছে নরওয়ে। তাদের বিপক্ষে খেলবে গ্রুপ ‘ই’-তে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইভরি কোস্ট।

আর এই ম্যাচে নরওয়ে বা আইভরি কোস্টের যে দল জিতবে সেই শেষ ষোলতে খেলবে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে।

তাই ব্রাজিল ও নরওয়ে নিজেদের ম্যাচে জিতলে নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের সঙ্গে দেখা হয়ে যেতে পারে হালান্ড-ওডেগার্ডদের। 

ইরাককে গোলবন্যায় ভাসিয়ে নকআউটের কাছে সেনেগাল

ক্রীড়া ডেস্ক
ইরাককে গোলবন্যায় ভাসিয়ে নকআউটের কাছে সেনেগাল

বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ ইরাকের ওপর দিয়ে যেন এক ঝড় বয়ে গেল। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপুটে ফুটবল খেলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়েছে আফ্রিকার সিংহ সেনেগাল। ম্যাচের শুরুতেই লাল কার্ডের ধাক্কা খাওয়া ইরাক পুরো ম্যাচেই সেনেগালিজ ফরোয়ার্ডদের আক্রমণের তোড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৪ মিনিট। ম্যাচের শুরুতেই ইরাকি রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে দিয়ে সেনেগালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন হাবিব দিয়ারা। শুরুর এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ১৩ মিনিটে বড় বিপদে পড়ে ইরাক। সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দলটির ডিফেন্ডার রেবিন সুলাকা। ফলে ম্যাচের সিংহভাগ সময়ই ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইরাকিদের। প্রথমার্ধে সেনেগাল আরও বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করলে ব্যবধান তখনই আরো বাড়তে পারত।

তবে বিরতির পর যেন আরো বেশি চড়াও হয় সেনেগাল। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইলা সার। নিজেদের অর্ধে ইরাকের মিডফিল্ডার জিদান ইকবালের এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ নেন লামিন কামারা। বল কেড়ে নিয়ে তিনি বক্সে একদম নিঃস্বার্থভাবে পাস বাড়ান পাশে থাকা সারের দিকে। নিখুঁত শটে বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি সার।

এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৫৯ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন পাপে গেয়ে। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ২ মিনিটের মাথায় লক্ষ্যভেদ করেন এই মিডফিল্ডার। আক্রমণের ধার ধরে রেখে ৭১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি পান সেই পাপে গেয়েই।

ম্যাচের শেষদিকে ইরাকের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ইলিমান এনদিয়ায়ে। ৮২ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে সেনেগালের ৫-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি। পুরো ম্যাচে ১০ জনের ইরাক সেনেগালের এই আক্রমণের সুনামি ঠেকানোর কোনো উপায়ই খুঁজে পায়নি।

এই জয়ে গ্রুপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে গোল ব্যাবধানে ভাল অবস্থানে থেকে শেষ ৩২-এ ওঠার একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে সেনেগাল।

দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে ভাইকিংদের অসহায় আত্মসমর্পণ

ক্রীড়া ডেস্ক
দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে ভাইকিংদের অসহায় আত্মসমর্পণ
ছবি : রয়টার্স

প্রথমার্ধের ৩২ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচ একপ্রকার নিজেদের করে নিয়েছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে। এরপর ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে নরওয়ের কফিনে স্রেফ শেষ পেরেকটা ঠুকেছেন তারই ক্লাব সতীর্থ দিজিরে দুয়ে।

হালান্ডসহ একাদশে ১০ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা ভাইকিংসদের ৪-১ গোলে আত্মসমর্পণ করিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাও নিশ্চিত করে ফেলল ফ্রান্স।

ম্যাচ শুরুর আগে আবহটা ছিল কিছুটা বিষাদময়। ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে দুই দলের ফুটবলার ও গ্যালারির দর্শকরা এক মিনিটের নীরবতা পালন করেন। তবে রেফারির বাঁশি বাজার পর বোস্টনের মাঠে যে ঝড় উঠল, তাতে মুহূর্তেই স্তব্ধতা রূপ নিল ফুটবলের তুমুল উন্মাদনায়।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ২৩ সেকেন্ড! কিলিয়ান এমবাপ্পের শট নরওয়ের দূরের পোস্টে লেগে ফিরে না এলে তখনই লিড পেতে পারত ফরাসিরা। চতুর্থ মিনিটে ফ্রান্স মিডফিল্ডার মানু কোনের শট রুখে দেন নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক এগিল সেলভিক। তবে তিন মিনিট পরই আর শেষ রক্ষা হয়নি। ডান প্রান্ত ধরে ঝড়ের গতিতে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে নরওয়ে গোলকিপারকে বোকা বানান দেম্বেলে।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে নরওয়ে। ফ্রেডরিক আর্সনেসের দূরপাল্লার পাস বক্সে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিলেও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন। এর তিন মিনিট পর এমবাপ্পের একক প্রচেষ্টা রুখে দেন সেলভিক। তবে ২০ মিনিটে আর ফরাসিদের রুখতে পারেনি নরওয়ের রক্ষণভাগ। মাঝমাঠ থেকে এমবাপ্পের নিখুঁত থ্রু বল ধরে বক্সের সামান্য দূর থেকে বাঁ পায়ের বুলেট গতির শটে ব্যবধান ২-০ করেন দেম্বেলে।

ম্যাচের রোমাঞ্চ থিতু হওয়ার সুযোগই পায়নি। ঠিক পরের মিনিটেই ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনে নরওয়ে। বাঁ প্রান্ত ধরে বক্সে ঢুকে নিচু শটে ফরাসি জাল কাঁপান মিডফিল্ডার থেলো আসগার্ড। ২২ মিনিটের মধ্যে দুই দল মিলে ১৫টি শট নেয়, যার ৯টিই ছিল অন-টার্গেট। ম্যাচের এই গনগনে উত্তেজনার মাঝেই আসে নতুন নিয়মের ‘হাইড্রেশন ব্রেক’।

তবে বিরতিও থামাতে পারেনি দেম্বেলে-ঝড়। ৩২ মিনিটে বোস্টনের গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। বক্সে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের তিন তিনজন ডিফেন্ডারকে চোখের পলকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। আর এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে খেলা শুরুর পর মিনিটের হিসেবে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন দেম্বেলে (৩২ মিনিট)। এর আগে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে শীর্ষে আছেন অস্ট্রিয়ার এরিক প্রোবস্ট।

দ্বিতীয়ার্ধেও বজায় ছিল সেই একই উত্তেজনা। ৫০ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও ব্যবধান কমানোর সুযোগ হারায় নরওয়ে, লারসেনের স্পট-কিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ফরাসি প্রাচীর মাইক মাইনান। এর দুই মিনিট পর এমবাপ্পে একক দৌড়ে ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে চলে গেলেও ২৮ বছর বয়সী নরওয়েজিয়ান কিপার সেলভিকের ক্ষীপ্রতার কাছে পরাস্ত হন।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে লড়েছে। ৫৭ মিনিটে এমবাপ্পের দূরপাল্লার শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়, আর ৭২ মিনিটে অস্কার ববের নিচু শট ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন মাইনান। তবে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৯৪ মিনিট) নরওয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন তরুণ তুর্কি দেজিরে দুয়ে। বাঁ প্রান্তের বাইলাইন থেকে ব্র্যাডলি বারকোলার চোখধাঁধানো ক্রসে শূন্যে লাফিয়ে নিখুঁত হেডে বল জালের কোণায় পাঠিয়ে দেন তিনি। আর তাতেই ৪-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরাসিরা। 

৯৯ রানে জীবন পেয়ে পেরেরার সেঞ্চুরি | কালের কণ্ঠ