kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

দেশের ফুটবল মাঠে কেন এই দৃশ্য?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ জুলাই, ২০১৯ ১১:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের ফুটবল মাঠে কেন এই দৃশ্য?

গত দুইদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশকিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে। একই সাথে পিণ্ডি চটকানো হচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এর কর্তাদের। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে কিছু কিশোরী ফুটবলারদের টেনে হিঁচড়ে মাঠ থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কান্নায় অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন কেউ কেউ। আরেকটা ছবিতে ব্দেখা যাচ্ছে একজনের পা জড়িয়ে কান্নাকাটি করে আকুতি জানাচ্ছেন  ফুটবলাররা।  ঘটনাটি কমলাপুর স্টেডিয়ামের।

কেন এই দেশের ফুটবল মাঠে এমন দৃশ্যের অবতারণা? জানা যায় ঘটনা জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ আসরের। কান্নাকাটি করা ফুটবলাররা ঠাকুরগাঁওয়ের। ফাইনালে উঠলেও খেলা হয়নি ঠাকুরগাঁও জেলার। সেমিফাইনালে পরাজিত হয়েও শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও'য়ের পরিবর্তে ফাইনালে খেলে ময়মনসিংহ।

চরম নাটকীয়তায় শেষ হলো জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ আসর।  কিছু খেলোয়াড়ের তৃতীয়বার খেলছে এমন অভিযোগ আনে ময়মনসিংহ। যদিও টুর্নামেন্ট সেরা হতে পারেনি দলটি। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জয় নিয়ে শিরোপা উল্লাস করে রংপুর জেলা দল। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের এভাবে ছিটকে যাওয়া কিংবা ছিটকে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি চ্যাম্পিয়নের স্বপ্নে বিভোর কিশোরীরা।

জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে জিতে ফাইনালে জায়গা করেছিল উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও। আর তাদের প্রতিপক্ষ রংপুর। কিন্তু ফাইনালের আগে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ঠাকুরগাঁওয়ের পরিবর্তে খেলতে নামে ময়মনসিংহ। তাইতো ফাইনালে উঠেও খেলতে না পারার আক্ষেপে পুড়তে হয় কিশোরী ফুটবলারদের।
কিন্তু কেন এমন উল্টো চিত্র? তাদের বিপক্ষে অভিযোগ দলের বেশ ক'জন খেলোয়াড় তৃতীয়বারের মত খেলছেন টুর্নামেন্টে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী একজন ফুটবলার দুইবারের বেশী খেলতে পারবেন না। আর তাতেই ফাইনাল থেকে ঠাকুরগাঁওকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত। তবে বাফুফের এমন সিদ্ধান্তে নাখোশ ঠাকুরগাঁও।

ঠাকুরগাঁও জেলা ফুটবল দলের ম্যানেজার তাজুল ইসলাম বলেন, আমাকে হঠাত করে নোটিশ করা হয়েছে যে আমাদের দল বাতিল। তবে ফুটবলের আইন মেনেই লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে ময়মনসিংহ দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ময়মনসিংহ জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মুকুল বলেন, নিয়মানুযায়ী তাদেরকে প্রথম মৌখিকভাবে জানানো হয়। পরে লিখিত অভিযোগ দেই আমরা।

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে যাওয়া এইসব ছবি আর কিশোরীর কান্না কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না নেটিজেনরা। এছাড়াও ঠাকুরগাঁওবাসীও বিষয়টিকে সহজভাবে মকেনে নিতে পারেনি। কেননা যে অভিযোগ ঠাকুরগাওঁয়ের বিপক্ষে রয়েছে, একই অভিযোগ ময়মনসিংহের বিরুদ্ধেও রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ও ঠাকুরগাঁওয়ে বাফুফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে পৃথক মানববন্ধন হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা