বিকেলের নরম আলো তখন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে পলাশবাড়ীর সূতি মাহমুদ মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠজুড়ে। মাঠের চারপাশে নানা বয়সী দর্শকের ভিড় বাড়ছে। শিশু থেকে প্রবীণ—সবাই অপেক্ষায় দুই দলের নারী ফুটবলারের লড়াই দেখার। মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন খেলোয়াড়রা। বাঁশির প্রথম শব্দের সঙ্গে শুরু হয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আর প্রতিটি আক্রমণ–প্রতিআক্রমণে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। মেয়েদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, দারুণ নৈপুণ্য এবং দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে প্রমীলা প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন ক্রীড়া উৎসবে।
নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা, তরুণীদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে এই প্রমীলা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
ম্যাচে মুখোমুখি হয় গাইবান্ধা নারী ফুটবল একাডেমি ও পলাশবাড়ী ফুটবল কোচিং একাডেমি। খেলার শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। দ্রুতগতির পাসিং, সমন্বিত আক্রমণ এবং দারুণ রক্ষণভাগের লড়াইয়ে ম্যাচটি শুরু থেকেই জমে ওঠে। একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত সুযোগগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে ৩–১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় পলাশবাড়ী ফুটবল কোচিং একাডেমি।
ম্যাচটি দেখতে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ মাঠে উপস্থিত ছিলেন। দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও উৎসাহ নারী ফুটবলের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করে না, বরং শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও দলগত চেতনা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মেয়েদের নিয়মিত খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা হলে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং সমাজে সমঅধিকার ও নারীর সক্ষমতার ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন পলাশবাড়ী ফুটবল কোচিং একাডেমির সভাপতি আলহাজ আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক সুরুজ হক লিটন, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী ফরিদুল হক রুবেল, গাইবান্ধা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সাবেক সদস্য মাসুদ রানা শেখ, গাইবান্ধা ফুটবল একাডেমির সহসভাপতি নুরুন্নবী সরকার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস সরকার, সহসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম হিরু, প্রচার সম্পাদক নাছির হোসেন, সাবেক খেলোয়াড় মোনতাসির মামুন লিমন, শিফাত আহম্মেদ সঞ্জুসহ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারী ক্রীড়াবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে এবং মেয়েদের খেলাধুলায় আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে। তাদের বিশ্বাস, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণীরা শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিক ও সামাজিকভাবেও আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে সমাজে নারী নেতৃত্ব বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।







