• ই-পেপার

স্ক্যাবিস কেন হয়, প্রতিরোধের উপায় কী

ডেঙ্গু মোকাবেলায় চিকিৎসকদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু

বাসস
ডেঙ্গু মোকাবেলায় চিকিৎসকদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু

দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্যবিভাগ। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং করপোরেট হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু আক্রন্ত রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং মৃত্যুহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতেই ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব বিভাগ ও ডেঙ্গুপ্রবণ জেলার চিকিৎসকদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি চিকিৎসক যেন জাতীয় প্রোটোকল অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত, ট্রায়াজ (রোগীর গুরুত্ব বিবেচনায় চিকিৎসার অগ্রাধিকার নির্ধারণ) এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারেন।

দেশব্যাপী চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে জাতীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের (ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স-টিওটি) দ্বিতীয় ব্যাচ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন। দুই দফায় রাজধানীতে প্রায় ১৩৫ জন চিকিৎসককে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন (বিএসএম)-এর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মো. ইলিয়াস ভূঁইয়া বাসসকে বলেন, ইতোমধ্যে রাজধানীতে প্রায় ১৩৫ জন চিকিৎসককে দুই দফায় এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিন সরকারি হাসপাতালের ৬৮ জন এবং দ্বিতীয় দিন বেসরকারি হাসপাতালের ৬৭ জন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

শিগগিরই ৮ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা ৮ বিভাগের প্রতিটি থেকে ৭০ জন করে প্রশিক্ষণ দেব। শিগগিরই এই কার্যক্রম শুরু হবে।

এ ছাড়াও ডেঙ্গুপ্রবণ জেলাগুলোতেও চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে জানিয়ে ইলিয়াস ভূঁইয়া বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন ৮ থেকে ১০টি জেলায় ৬০ থেকে ৭০ জন চিকিৎসককে প্রথম ধাপে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বাকী ডেঙ্গুপ্রবণ জেলাগুলোয় এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

গত ৭ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

সেই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু এখন দেশের জন্য একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের একার দায়িত্ব নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে অংশ নিতে হবে।’

বিগত তিন বছর ডেঙ্গু আক্রন্তের হার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু ৫৭৫ জন। আর ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন।

এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি সেল গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মার্চ মাস থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়েছে। প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করার জন্য সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করেছে। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেশি রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ তৈরি রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে এ ধরনের হাসপাতাল আরো করা হবে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসসকে বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যায় বিনা মূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে। সেই গাইডলাইন ধরে সারা দেশের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণে সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় (২২ জুন পর্যন্ত), এ বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৭৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৮৬, খুলনা বিভাগে ৫৫৮, রাজশাহী বিভাগে ১৭৯, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৪০, রংপুর বিভাগে ৩০ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩০। ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি জুন মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।

এ ছাড়াও এ বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন, মে মাসে ৭১৪ জন এবং জুনে (২২ জুন পর্যন্ত) ১ হাজার ৮৪২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

চলতি বছরে ৫ হাজার ছাড়াল ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যু ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরে ৫ হাজার ছাড়াল ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যু ১০

চলতি বছরে হামের পর এবার বাড়ছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ১৩৯ জনের।

আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্তের তথ্য দেওয়া হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে।  

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত ব্যক্তি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক নারী। যার বয়স ৪১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৯ জনের। যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মোট শনাক্ত রোগীর মধ্যে চার হাজার ৬৯২ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছে ১২৪ জন ডেঙ্গু রোগী।

জুনেই বেশি শনাক্ত ও মৃত্যু

মোট রোগীর মধ্যে চলতি মাসের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। জুনে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৮৪২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০ এবং মে মাসে ৭১৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে জুন মাসেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। 

হামের উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হামের উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৫৯০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৬৫ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৩ হাজার ৭৫৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১৭১ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৪৩ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭৩ হাজার ৯৮৫ জন।

চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু : ১ দিনে ২ মৃত্যু, চলতি মাসেই আক্রান্ত ১৭০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু : ১ দিনে ২ মৃত্যু, চলতি মাসেই আক্রান্ত ১৭০৩

চলতি বছরে দেশে হাম ও হাম উপসর্গে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের পর এবার ডেঙ্গুতে মৃত্যু শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদের মধ্যে একজনের ঢাকায় এবং একজনের বরিশালে মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জুন মাসেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে অধিদপ্তর।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, ৯৩ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫৪, খুলনাতে ৫২ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ জনের শনাক্ত হয়েছে ডেঙ্গু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চার হাজার ৯০০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম ২০ দিনেই সবচেয়ে বেশি। জুনে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৭০৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০ এবং মে মাসে ৭১৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

চলতি মাসের শুরু থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকার দুই মহানগর থেকে বারবার ডেঙ্গু মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে বলা হচ্ছে। গত ৭ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, 'ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়; এটি পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে সম্পৃক্ত হতে হবে।'

তিনি বলেন ডেঙ্গুকে কঠিন লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, 'আমি সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকদের ওপর চাপ দিতে পারি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে বলতে পারি। কিন্তু শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে, যেকোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। তাই এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লড়াই।'

হাম ও উপসর্গে ৬৮০ মৃত্যু

হামের উপসর্গে নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৮৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৮০ জন শিশু মারা গেছে।