দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছরের দীর্ঘ কারাবাস, অকথ্য নির্যাতন, বর্ণবাদী শাসনের নির্মমতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের অসংখ্য ক্ষত বুকে নিয়েও তিনি প্রতিশোধের পথ বেছে নেননি। বরং তিনি বেছে নিয়েছিলেন ক্ষমা, পুনর্মিলন এবং জাতি গঠনের পথ। কারাগারের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে তিনি প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন, ঘৃণা আর ঘৃণার জন্ম দেয়, প্রতিশোধ আরেকটি প্রতিশোধকে ডেকে আনে; কিন্তু ক্ষমা একটি জাতিকে নতুন করে বাঁচার সুযোগ দেয়।
বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য শুনতে গিয়ে বারবার নেলসন ম্যান্ডেলার সেই মানবিক দর্শনের কথাই মনে পড়ে। রাজনৈতিক মতাদর্শ, দলীয় অবস্থান কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে যদি একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে দেখা যাবে—ব্যক্তিগত নির্যাতনের স্মৃতি পেছনে ফেলে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে আহ্বান তারেক রহমান জানিয়েছেন, তার মধ্যে ম্যান্ডেলার দর্শনের এক সুস্পষ্ট প্রতিধ্বনি রয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভ, প্রতিশোধ কিংবা অতীতের নির্যাতনের হিসাব মেলানোর পরিবর্তে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করাই হওয়া উচিত সবার প্রধান লক্ষ্য।
এই বক্তব্যের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হলে আমাদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের রাজনীতি প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ, বিভাজন এবং পাল্টাপাল্টি দমন-পীড়নের সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার প্রবণতা বহুবার দেখা গেছে। ফলে জাতীয় উন্নয়নের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাই অনেক সময় প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনি নিজেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কারাবরণ করেছেন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমনকি এখনো তার শরীরে সেই নির্যাতনের চিহ্ন বহন করছেন। তার ভাষায়, এক্স-রে করলে এখনো দেখা যাবে তার পিঠের একটি হাড় বাঁকা হয়ে জোড়া লেগে আছে। কিন্তু এই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা বলার পর তিনি যে প্রশ্নটি করেছেন, সেটিই একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রশ্ন—‘আমি যদি তাদের সঙ্গে একই আচরণ করি, তাহলে কি আমার হাড় জোড়া লাগবে?’
আমি মনে করি, এই একটি বাক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তারেক রহমানের একটি গভীর রাজনৈতিক দর্শন।
নেলসন ম্যান্ডেলা যখন কারাগার থেকে মুক্তি পান, তখন দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রবল। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা বর্ণবাদী নিপীড়নের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু ম্যান্ডেলা বুঝেছিলেন, প্রতিশোধ একটি জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে না। তাই তিনি জাতীয় পুনর্মিলনের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যেও আমরা একই ধরনের উপলব্ধির প্রতিফলন দেখতে পাই। তিনি বলেছেন, প্রতিশোধ নিলে তার হারানো সময় ফিরে আসবে না, নির্যাতনের ক্ষতও মুছে যাবে না। তাই অতীতের ক্ষত নিয়ে পড়ে না থেকে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ধরনের ভাষা খুব বেশি শোনা যায়নি। কারণ রাজনীতিতে প্রতিশোধের ভাষা সহজ, ক্ষমার ভাষা কঠিন। ঘৃণা ছড়ানো সহজ, ঐক্যের আহ্বান জানানো কঠিন। বিভাজনের রাজনীতি সহজ, জাতিকে একত্রিত করা কঠিন। ম্যান্ডেলা সেই কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলেন। তারেক রহমানের বক্তব্যও সেই কঠিন পথের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
তবে তারেক রহমানের এই মানবিক রাষ্ট্রদর্শনের উৎস খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের দিকে।
স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় ঐক্য, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, আত্মনির্ভরতা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিলেন। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, নিপীড়ন ও ব্যক্তিগত বেদনার মধ্য দিয়ে পথ চলেছেন।
এই দুই নেতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহনকারী তারেক রহমানের বর্তমান অবস্থানকে তাই বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। মানুষের জন্য কাজ করার যে মানসিকতা আজ তার বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে, তা অনেকাংশেই তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা। বলা যায়, দেশপ্রেম, জনকল্যাণ ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই মানসিকতা তার রক্তের উত্তরাধিকার।
এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রচারণা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মিডিয়া ট্রায়াল এবং পরিকল্পিত চরিত্রহননের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতন্ত্রের অংশ, কিন্তু ব্যক্তি ও পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার কখনোই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।
বাস্তব জীবনে যারা তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাদের অনেকেই তার সৌজন্যবোধ, বিনয় এবং মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। শৈশব থেকেই তার ভদ্রতা ও সৌজন্যের সুনাম বিভিন্ন মহলে আলোচিত। আমার নিকটাত্মীয়দের মুখে তারেক রহমানের অসাধারণ বিনয়ের কথা বহুবার শুনেছি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের কারণে তার সেই দিকটি প্রায়ই আড়ালে থেকে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার কিছু পদক্ষেপও বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তিনি ব্যক্তিপূজার পরিবর্তে মূল্যবোধভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দিচ্ছেন। সরকারি ব্যয়সংকোচনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর সীমিত করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। পুরোনো প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি থেকে সরে এসে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন। অনেকের মতে, এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
গণমাধ্যম সম্পর্কে তার বক্তব্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, সরকারের ভুল হতে পারে এবং সেই ভুল ধরিয়ে দিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং গণতন্ত্রের অংশীদার হিসেবে দেখতে চান।
তবে প্রাসঙ্গিকভাবে আমি এখানে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই। সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলো কি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে? তারেক রহমান নিজেই আক্ষেপ করে বলেছেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মতো বিশাল আয়োজন, যেখানে লাখো শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে, তা গণমাধ্যমে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুযোগ খুবই বাস্তবসম্মত। এর আগেও আমি বহুবার বলেছি যে, সরকারের ছোটখাটো সীমাবদ্ধতা বা ভুলত্রুটি অনেক সময় শিরোনাম হয়, কিন্তু জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো যথার্থ গুরুত্ব পায় না।
অবশ্যই গণমাধ্যমের কাজ সরকারের সমালোচনা করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু একই সঙ্গে ইতিবাচক উদ্যোগের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করাও গণমাধ্যমের দায়িত্ব। একটি দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ—সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়।
এখানেই আরেকটি বাস্তবতা সামনে আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে যে মানবিকতা, ক্ষমাশীলতা এবং দেশগঠনের আন্তরিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। কিন্তু একজন নেতার সদিচ্ছা যতই মহৎ হোক না কেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তার সবচেয়ে বড় শক্তি হল একটি দক্ষ, সৎ, দেশপ্রেমিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন স্তরে এখনো দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গোষ্ঠীস্বার্থের প্রবণতা পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে সরকারের অনেক ইতিবাচক উদ্যোগও কাঙ্ক্ষিত গতিতে বাস্তবায়িত হতে পারছে না। একজন প্রধানমন্ত্রী একা দেশ গড়তে পারেন না; তাকে ঘিরে থাকতে হয় সৎ, দক্ষ, যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী দল।
আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, জাতীয় ঐক্য ও পুনর্মিলনের যে বার্তা প্রধানমন্ত্রী দিচ্ছেন, তার বিপরীতে বিভিন্ন মহল থেকে বিভাজন, ভুল বোঝাবুঝি এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টাও দেখা যায়। একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে মানুষকে একত্রিত করতে হয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে একই লক্ষ্যে এগিয়ে আসতে হবে।
তারেক রহমান যদি তার কল্পিত আধুনিক, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চান, তবে তার চারপাশে প্রয়োজন হবে এমন একদল সৎ, সাহসী, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা, যারা ব্যক্তিস্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বড় নেতা একা ইতিহাস রচনা করেন না; তার নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত হয় একদল নিবেদিতপ্রাণ মানুষ, যারা সততা, দক্ষতা ও দেশপ্রেম দিয়ে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়।
তরুণ সমাজ নিয়ে তার উদ্বেগও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। মাদকাসক্তি, নৈতিক অবক্ষয়, খেলাধুলার সংকট, সাংস্কৃতিক চর্চার অভাব—এসব বিষয়ে তার বক্তব্য একটি বৃহত্তর রাষ্ট্রচিন্তার পরিচয় বহন করে। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা যায় না। প্রয়োজন সুস্থ সংস্কৃতি, খেলাধুলা, বিজ্ঞানচর্চা এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা।
এখানে ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষার কথাও স্মরণ করা প্রয়োজন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বারবার ক্ষমা, ধৈর্য ও সংযমের কথা বলেছেন। আল্লাহ নিজেই পরম ক্ষমাশীল। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনও ছিল ক্ষমা, বিনয় ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যারা তাকে নির্যাতন করেছে, অপমান করেছে, তাদের অনেককেই তিনি ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।
সুতরাং প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা ও মানবিকতার যে বার্তা আজ তারেক রহমান দিচ্ছেন, তা শুধু রাজনৈতিক দর্শনের নয়; এটি আমাদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গেও গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আজকের বিশ্বে নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে মানবিক নেতৃত্বের সংকট। ক্ষমতা অর্জনের জন্য নেতা পাওয়া যায়, কিন্তু ক্ষমতা পেয়ে ক্ষমাশীল থাকা নেতার সংখ্যা খুবই কম। ক্ষমতায় বসে প্রতিশোধ নেওয়া সহজ; ক্ষমা করা কঠিন। ঘৃণা ছড়ানো সহজ; জাতিকে একত্রিত করা কঠিন। বিভাজনের রাজনীতি সহজ; পুনর্মিলনের রাজনীতি কঠিন।
নেলসন ম্যান্ডেলা সেই কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তিগত ক্ষতকে জাতীয় অগ্রগতির পথে বাধা হতে দেননি। কারাগারের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে শিখিয়েছিলেন—একটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রতিশোধে নয়, ক্ষমা ও ঐক্যের মধ্যে নিহিত থাকে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও আমি সেই মানবিক দর্শনের প্রতিধ্বনি খুঁজে পাই। যে মানুষটি নিজেই রাজনৈতিক নির্যাতন, কারাবরণ এবং দীর্ঘ প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তিনি যদি আজ প্রতিশোধের পরিবর্তে দেশ ও মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান, তবে সেটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার মতো একটি রাজনৈতিক বার্তা।
অবশ্যই ইতিহাসই শেষ কথা বলবে। সময়ই নির্ধারণ করবে তারেক রহমান তার ঘোষিত দর্শন ও অঙ্গীকারকে কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারেন। কিন্তু এটুকু বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যদি সত্যিই প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহনশীলতা, বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য এবং ক্ষমতার অহংকারের পরিবর্তে মানবিক নেতৃত্বের নতুন ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা হবে জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন।
পরিশেষে বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে যে মানবিক আহ্বান, ক্ষমাশীলতার বার্তা এবং জাতীয় পুনর্মিলনের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে, তা অনেকের কাছেই নেলসন ম্যান্ডেলার স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়। আর যদি তিনি সত্যিই এই দর্শনকে ধারণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হন, তাহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার অধ্যায়টি কেবল একটি রাজনৈতিক অধ্যায় হবে না; বরং তা হয়ে উঠতে পারে মানবিক নেতৃত্ব, জাতীয় ঐক্য এবং রাষ্ট্রগঠনের এক নতুন দৃষ্টান্ত।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক




২২০ কোটি টাকার আরেকটি মাদকের চালান ধরা পড়ে। বেনজীর তখন আইজিপি। মাদক কারবারিরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করে। এতে বাদ সাধেন আইজিপি। তখন স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেনজীরকে ডেকে বিষয়টি মীমাংসা করার দায়িত্ব দেন। তখন তিনি সেই আগের ফর্মুলায় মাদকের স্যাম্পল ল্যাব টেস্টে পাঠিয়ে মাদককে কেমিক্যালে রূপান্তর করেন। ১৫০ কোটি টাকার বিনিময়ে এই চালান ছেড়ে দেওয়ার কাজটি করা হয়। এই টাকার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পান ৫০ কোটি টাকা। বাকিটা থাকে বেনজীরের পকেটে। মাদককে কেমিক্যাল বানানোর এই চতুরতায় বেনজীরের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন পুলিশের একটি গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ইংলিশ মাহবুব নামে পরিচিত পুলিশের একজন কর্মকর্তা।