সিলেটের বিয়ানীবাজারে ২০১৭ সালের একটি নাশকতার ঘটনায় করা মামলায় এক ব্রিটিশ বাংলাদেশিকে আসামি করাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত ওই ব্যক্তি ঘটনার সময় বাংলাদেশে ছিলেন না; বরং তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন।
মামলার আসামি জাকারিয়া মাহমুদ বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ জুন সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে করা একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় জাকারিয়া মাহমুদকে ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদীর অভিযোগ, ২০১৭ সালে সংঘটিত বাড়িঘর পোড়ানো ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় জাকারিয়াসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে জাকারিয়া মাহমুদ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন এবং ২০১৮ সালের পর কয়েকবার দেশে এলেও প্রতিবার সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৭ দিন অবস্থান করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মামলা নিয়ে আমি বিচলিত নই। বাদীকেও আমি চিনি না। তবে দেশে এখন মিথ্যা মামলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই আমার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও ন্যায়বিচার চাইবেন বলে জানান।
জাকারিয়ার পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার সময় দেশে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও তাকে মামলার আসামি করায় বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে, একজন প্রবাসী ব্রিটিশ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার আগে তার পাসপোর্টের ভ্রমণ তথ্য, ইমিগ্রেশন রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা উচিত ছিল।
জাকারিয়ার খালাতো ভাই তানভীর বলেন, ‘আমার ভাই যদি ঘটনার সময় দেশেই না থাকেন, তাহলে তাকে কিভাবে বিস্ফোরক আইনের মামলায় আসামি করা হলো? বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।’
তবে এ বিষয়ে মামলার বাদী বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার অভিযোগ ও আসামিপক্ষের দাবির বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




