সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে নবম জাতীয় পে স্কেল। নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট বা সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এবং এটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়ন করতে পারে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন স্কেলে সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর কথা থাকলেও তা কিছুটা পেছাতে পারে। পে স্কেলের গেজেট প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশ করা হতে পারে। এর আগে চলতি মাসেই পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছিল।
এ দিকে, চলতি সপ্তাহেই পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গঠিত তিনটি পৃথক পে কমিশনের প্রতিবেদনের পর্যালোচনা শেষে এই কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পে কমিশনের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। ফলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি ভাতা সমন্বয় বা পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বাড়িভাড়া ভাতা। বর্তমানে কর্মস্থল ও অঞ্চলভেদে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ভাতা পেয়ে থাকেন। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে একই হারে বাড়িভাড়া ভাতা বহাল রাখলে সরকারি ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। এজন্য বাড়িভাড়া ভাতার হার কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনার প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।
চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাসিক এক হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারিত চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় এই ভাতার পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ অথবা সর্বোচ্চ একটি সীমা নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের শিক্ষা সহায়ক ভাতাও পুনর্বিবেচনার আওতায় এসেছে। বর্তমানে দুই সন্তানের জন্য যে শিক্ষা সহায়ক ভাতা দেওয়া হয়, সেটির ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ বা ভাতা কাঠামোয় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানিয়েছে, যাতায়াত ভাতা, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা এবং অন্যান্য কিছু ভাতা সমন্বয়ের পাশাপাশি অপ্রাসঙ্গিক বা কম ব্যবহৃত ভাতা বিলুপ্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।






