• ই-পেপার

ঢাকার বাতাস আজ অস্বাস্থ্যকর

সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কূটনৈতিক সম্পর্কের বহুমুখীকরণ ও ভারসাম্য রক্ষা পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
কূটনৈতিক সম্পর্কের বহুমুখীকরণ ও ভারসাম্য রক্ষা পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কোনো একক শক্তিকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল না থেকে স্বাধীন ও বাস্তবভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে বাংলাদেশ। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ঐতিহ্যগত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি নতুন নতুন অঞ্চলের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার। বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কূটনৈতিক সম্পর্কের বহুমুখীকরণ এবং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পুনর্বিন্যাস, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিবাসন ইস্যু আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুনভাবে প্রভাবিত করছে। এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, মধ্যপ্রাচ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো ঐতিহ্যগত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আসিয়ানভুক্ত দেশ, পূর্ব ও মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ন্যায্যতা, সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে। ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সহযোগিতা ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে।

সংসদে মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গবেষণা ও উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) এবং ব্লু ইকোনমির মতো নতুন খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

রপ্তানি বাজার ও জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, পূর্ব ও মধ্য এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকাকে রপ্তানি সম্প্রসারণের নতুন গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, সক্রিয় অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং কার্যকর বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বপরিসরে তার অবস্থান সুদৃঢ় করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পাট ও বস্ত্র সচিব হলেন শরফ উদ্দিন

অনলাইন ডেস্ক
পাট ও বস্ত্র সচিব হলেন শরফ উদ্দিন
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। 

বুধবার (১৭ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে গত ৯ জুন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।

বেনজীর অধ্যায়ের নতুন মোড়, আলোচনায় সিডনির সেই বৈঠক

শিপন আহমদ (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া
বেনজীর অধ্যায়ের নতুন মোড়, আলোচনায় সিডনির সেই বৈঠক
ফাইল ছবি

দুবাইয়ে বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় এসেছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে তার অবস্থান ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা। ২০২৪ সালে সিডনিতে বেনজীর আহমেদকে দেওয়া একটি সংবর্ধনা বা বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক ও নানা প্রশ্ন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবেশবাদী লেখিকা ড. নার্গিস বানু সম্প্রতি একাধিক ফেসবুক পোস্টে এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অবশেষে বেনজীরকে নাকি দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য উদঘাটন হলে ফেঁসে যেতে পারে কমিউনিটির কিছু পরিচিত মুখ।’

অন্য এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে লেখেন, ‘বেনজীরের নামে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে মহিলাসহ ২-১টা সাদা মানুষ নিয়ে সেই একই এইডের ধান্দাবাজি শুরু। সাবধান!’ মন্তব্যের ঘরে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সিডনিতে বেনজীরকে সেবাদানকারী চক্রটি এখন দেশে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করছে।

ড. নার্গিস বানুর এসব পোস্টের নিচে প্রবাসীদের নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এই চক্রের সদস্যদের পরিচয় প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ পুরো বিষয়টি নিয়ে গভীর অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক এই প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ বিদেশে পলাতক ছিলেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়— সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও দুবাই হয়ে বেনজীর আহমেদ পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছিলেন। ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর সিডনিতে তার একটি ব্যক্তিগত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন। সে সময় ওই বৈঠকের একটি ছবিও প্রকাশ্যে আসে।

সূত্রমতে, ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ ও ২ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি দেশ ছাড়েন। প্রথমে সিঙ্গাপুর এবং পরে মালয়েশিয়ায় ‘মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম’ কর্মসূচির আওতায় কেনা বাড়িতে অবস্থান করেন। সেখান থেকে দুবাই ও পর্তুগাল হয়ে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যান।

বেনজীরের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘চেঞ্জ ডট ওআরজি’–তে (change.org) ‘ইনভেস্টিগেট অ্যান্ড ডিপোর্ট বেনজীর আহমেদ ফ্রম সিডনি’ শিরোনামে একটি পিটিশন চালু করা হয়। স্বাধীন বাংলা পডকাস্টের পক্ষে তৌহিদ হোসেনের উদ্যোগে শুরু হওয়া ওই আবেদনে বেনজীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ফেডারেল পুলিশ, নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে প্রায় ৪৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে— বেনজীর আহমেদ ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা, স্ত্রী জীশান মির্জা ২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, বড় মেয়ে ফারহিন রিশতা ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ও ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসার ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা রয়েছে।

এছাড়া কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে ঢাকার গুলশানে বেনজীর পরিবারের মালিকানাধীন চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এর আগে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আসে বেনজীর আহমেদের নাম।

প্রবাসী কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আবিদ আহমদ বলেন, ‘অতীতে সিডনিতে বেনজীরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি এখন নতুন রাজনৈতিক ছায়াতলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যৌথ অনুসন্ধান চালালে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

অন্য এক প্রবাসী শাহিন আহমদ বলেন, প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করার জন্য কমিউনিটিতে যাদের নাম আসছে, তাদের বক্তব্যও সামনে আসা প্রয়োজন।

প্রবাসী কমিউনিটি নেতা শিপন আহমদ বলেন, ‘বেনজীরের অনুসারী একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক এখানেও সক্রিয় রয়েছে। স্বচ্ছ তদন্ত হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।’

অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হায়দার আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীরের অস্ট্রেলিয়ায় কালো টাকা পাচারের বিষয়সহ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত অনেকেই এখন অস্ট্রেলিয়ায় এসে ভিন্ন কৌশলে কালো টাকা সাদা করছেন। 
সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবি, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত এসব ব্যক্তিদের আইনগতভাবে শনাক্ত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হোক।’

সচেতন মহলের মতে, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন আর শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বা একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষমতা, জবাবদিহি ও প্রবাসী রাজনীতির এক জটিল সমীকরণে রূপ নিয়েছে।

সবুজ পরিবহনে শ্রমিক ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা চাইলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক
সবুজ পরিবহনে শ্রমিক ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা চাইলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের পরিবহন খাতকে সবুজ ও টেকসই ব্যবস্থায় রূপান্তরের সময় শ্রমিক, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেছেন, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর আলোকি কনভেনশন সেন্টারে ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুঙ (এফইএস) বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জাতীয় যুব সম্মেলন ‘জাস্ট ট্রানজিশন অ্যান্ড সাসটেইনেবল আরবান মোবিলিটি’র সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে তরুণ নেতা, নীতিনির্ধারক, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, গবেষক, শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী ও শ্রমিক প্রতিনিধিসহ প্রায় ১৫০ জন অংশ নেন। তারা বাংলাদেশের নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সবুজ, নিরাপদ ও ন্যায়সংগত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

মাইকেল মিলার বলেন, দ্রুত নগরায়ণের ফলে ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোর পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। বৈদ্যুতিক যানবাহন, গণপরিবহন ও সমন্বিত নগর পরিকল্পনা নিয়ে আজ যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা আগামী কয়েক দশকের জীবনমান নির্ধারণ করবে।

তিনি বলেন, নগর চলাচল কেবল পরিবহনের বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সামাজিক কল্যাণের সঙ্গেও জড়িত। বাংলাদেশ যখন ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, তখন যানজটজনিত অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে কার্যকর নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

ইইউ রাষ্ট্রদূত ইয়ুথনেট গ্লোবালের ১০ বছরের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সার্কুলার অর্থনীতি নিয়ে সংগঠনটির কাজ ইইউ-বাংলাদেশ সহযোগিতার অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু তাদের কথা শোনা নয়, নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তাদের মতামতের প্রতিফলনও ঘটাতে হবে।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ যখন হালনাগাদ জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি ৩.০) বাস্তবায়ন এবং কপ-৩১ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন পরিবহন খাতকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মিলার বলেন, টেকসই পরিবহন অবকাঠামো ইইউর ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ও ইইউ সদস্যদেশগুলোর সহায়তায় বাংলাদেশে রেল যোগাযোগ ও বিদ্যুতায়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-গাজীপুর সম্ভাব্য বৈদ্যুতিক রেল করিডরের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আর বিলম্বের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থা এমন হতে হবে, যেখানে শ্রমিক, চালক, যাত্রী, নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজন সমান গুরুত্ব পাবে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাফিউল্লাহ বলেন, পরিবহন খাতে রূপান্তর প্রয়োজন হলেও সেই প্রক্রিয়ায় শ্রমিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে হবে।

এফইএস বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ড. ফেলিক্স গেরডেস বলেন, নগর পরিবহন ও পরিবেশগত সংকট মোকাবেলায় অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সংলাপ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান বলেন, ন্যায়সংগত ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, কম কার্বন নিঃসরণকারী ও জলবায়ু সহনশীল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যুব নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

‘নগর সহনশীলতা, সুশাসন ও সবুজ অবকাঠামো’ শীর্ষক এক অধিবেশনে সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও উন্নয়ন সহযোগিতার উপপ্রধান নয়োকা মার্টিনেজ-ব্যাকস্ট্রম বলেন, ঢাকার পরিবহন সংকট সমাধানে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, সমন্বিত পরিকল্পনাও প্রয়োজন। তিনি বৈদ্যুতিক বাস, উন্নত ফুটপাত ও সাইকেল ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যদিকে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. আহমাদ কামরুজ্জামান মজুমদার পরিবহন খাতে দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উন্নত জ্বালানি মান, পরিবেশগত নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

শ্রমিক প্রতিনিধি নাহিদুল হাসান নয়ন বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের তথ্যভান্ডার, পরামর্শ প্রক্রিয়া ও সুরক্ষা ব্যবস্থা এখনো দুর্বল। তিনি শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, অধিকার সুরক্ষা এবং বড় নীতিগত সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ঢাকার বাতাস আজ অস্বাস্থ্যকর | কালের কণ্ঠ