• ই-পেপার

অ্যামোনিয়া সংকটে বন্ধ হতে পারে দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা

জাহাজের লিজ ভাড়া পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অনুমোদন

বাসস
জাহাজের লিজ ভাড়া পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অনুমোদন

দেশের শিপিং খাতের উন্নয়ন ও কার্যক্রম সহজ করতে বাংলাদেশে নিবন্ধিত শিপিং কম্পানিগুলোর জাহাজ বা ভেসেল লিজ ভাড়া পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ বৃহস্পতিবার  এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সকল অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের কাছে পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা এফই সার্কুলার নং-৩৭ অনুযায়ী বাংলাদেশে নিবন্ধিত এয়ারলাইন্সগুলোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তে লিজ ভাড়া বাবদ অর্থ পাঠানোর সুযোগ ছিল। এখন একই ধরনের সুবিধা বাংলাদেশে নিবন্ধিত শিপিং কম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিপিং কম্পানিকে লিজ নেওয়া জাহাজ বা ভেসেল পরিচালনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে।

এ ছাড়া আবেদনকারী কম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্ধারিত রিটার্ন দাখিল এবং ২০২৬ সালের ৭ মে জারি করা এফই সার্কুলার নং-৮ অনুযায়ী উদ্বৃত্ত আয় দেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে নিয়মিত থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা এফই সার্কুলার নং-৩৭-এর অনুচ্ছেদ ৫৩-এর অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানের অবগতির জন্য সার্কুলারের নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রচারের জন্য অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।

রেকর্ড পরিমাণ বাজেট

হেলথ কার্ড, বিশেষায়িত হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য খাতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা

বাসস
হেলথ কার্ড, বিশেষায়িত হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য খাতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা

রেকর্ড পরিমাণ স্বাস্থ্য বাজেট, সর্বজনীন ডিজিটাল হেলথ কার্ড, ব্যাপক জনবল নিয়োগ এবং নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মতো একগুচ্ছ উচ্চাভিলাষী সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক নতুন যুগে পদার্পণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত। দেশব্যাপী সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো এবং রোগীদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট এবং সাম্প্রতিক বেশ কিছু উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সরকারের একটি সমন্বিত কৌশলের প্রতিফলন ঘটেছে। যার উদ্দেশ্য রোগীদের আর্থিক বোঝা কমিয়ে একটি সহজে প্রাপ্য, রোগ প্রতিরোধকেন্দ্রিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এই রূপান্তরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত। বিদায়ি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১.০১ শতাংশ, যা স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ।

গত ১১ জুন সংসদে বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্বাস্থ্য খাতের বিনিয়োগকে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জাতীয় সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সরকার বিশ্বাস করে যে, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা এবং সমাজকল্যাণ বজায় রাখার জন্য স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা অপরিহার্য। সরকারের স্বাস্থ্য ভাবনার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—শুধু চিকিৎসাকেন্দ্রিক মডেল থেকে সরে এসে রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং কমিউনিটিভিত্তিক সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার।

প্রতিটি কেন্দ্রকে কমিউনিটি ক্লিনিক এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে, যারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক যত্ন, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি সহায়তা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এ উদ্যোগের ফলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে, অবহেলিত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তি সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের পকেট থেকে চিকিৎসা বাবদ বাড়তি খরচ কমে আসবে।

স্বাস্থ্য খাতের এই সংস্কার পরিকল্পনার আরেকটি বড় অংশ হলো জনবল বৃদ্ধি। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণে সরকার অবিলম্বে ৫ হাজার এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

এই বর্ধিত জনবল মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি এবং কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করবে। এই উদ্যোগকে গতিশীল করতে সরকার ইতিমধ্যে শত শত নতুন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পদ তৈরি করেছে। সরকারের এই স্বাস্থ্য কৌশলের অন্যতম প্রধান অংশজুড়ে রয়েছে ডিজিটাল রূপান্তরও।

সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় প্রতিটি নাগরিক পর্যায়ক্রমে একটি করে ডিজিটাল হেলথ কার্ড পাবেন, যা একটি সমন্বিত রোগী ব্যবস্থাপনা ও রেফারেল সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এই প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা দেশের যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে রোগীদের চিকিৎসার ইতিহাস, রোগনির্ণয়ের রেকর্ড এবং প্রেসক্রিপশন দেখতে পারবেন।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ব্যবস্থা চিকিৎসার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে, একই চিকিৎসার পুনরাবৃত্তি কমাতে এবং পুরো স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কে জবাবদিহি জোরদার করতে সাহায্য করবে। সরকারের এই সংস্কার পরিকল্পনা শুধু সেবা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং চিকিৎসা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতের মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত।

২০৩০ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উন্নত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি আধুনিক যোগ্যতাভিত্তিক (কম্পিটেন্সি-বেসড) এমবিবিএস শিক্ষাক্রম চালু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসা শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম চিকিৎসক তৈরি করতেই এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মেডিক্যাল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন ও ব্যাংক লোনের সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে পারেন এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা যেন তাদের একাডেমিক অগ্রযাত্রায় বাধা না হয়, সে জন্য একটি বিশেষ অর্থায়ন কর্মসূচির কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

শিক্ষা সংস্কারের পাশাপাশি দেশের সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর একাডেমিক ভবন, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, ডরমিটরি ও প্রশিক্ষণ সুবিধার আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাজেটে দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার খরচ কমানোর পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হার্টের স্টেন্ট, ডায়ালাইসিস ফিল্টার এবং আরো বেশ কিছু জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর থেকে ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার করায় হাজার হাজার রোগী বড় ধরনের স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর ফলে হার্টের স্টেন্টের দাম ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং প্রতি সেশনে ডায়ালিসিস চিকিৎসার খরচ প্রায় ৮০০ টাকা কমে আসতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপগুলোকে পকেট থেকে হওয়া চিকিৎসা ব্যয় (আউট-অফ-পকেট এক্সপেন্ডিচার) কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এদিকে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবার এই সম্প্রসারণ শুধু নীতিগত ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে চলমান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর একটি হলো খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই হাসপাতালগুলো পুরোদমে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং উন্নত রোগনির্ণয়ের সুবিধাসম্পন্ন এই হাসপাতালগুলো রাজধানীর বাইরে শিশু স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে।

আসবাবপত্র ও চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান থাকায় হাসপাতালগুলো চালুর প্রস্তুতি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি জানিয়েছেন, এ হাসপাতালগুলোতে রোগীরা তাদের বাড়ির কাছাকাছি বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাবেন। ফলে পরিবারগুলোকে শিশু চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে ভ্রমণের ভোগান্তি পোহাতে হবে না।

এই শিশু হাসপাতালগুলো চালুর পরিকল্পনা মূলত সরকারের একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ, যার লক্ষ্য হলো অব্যবহৃত স্বাস্থ্য অবকাঠামো সচল করা এবং আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আরো বেশি বিশেষায়িত সেবা পৌঁছে দেওয়া।

সার্বিকভাবে দেখলে— স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, জনবল বৃদ্ধি, ডিজিটাল স্বাস্থ্য উদ্যোগ, চিকিৎসা শিক্ষা সংস্কার, কর রেয়াত সুবিধা এবং নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতকে নতুন রূপ দেওয়ার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টারই ইঙ্গিত দেয়।

বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যত সামনে এগোচ্ছে, নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন যে এই উদ্যোগগুলো এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, যা আরো বেশি সমতাভিত্তিক, দক্ষ এবং জনগণের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প : কৃষি ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা

বাসস
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প : কৃষি ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়নের স্বপ্নযাত্রায় এবার যোগ হয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বদলে যাবে ২৪টি জেলার দৃশ্যপট। নদী ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পদ্মা ব্যারাজ শুধু নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প নয়, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিনের নাব্য সংকট ও সীমিত ব্যবস্থাপনার কারণে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়নি।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নদীভাঙন রোধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আসবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২৪টি জেলার ১৬১টি উপজেলার পাঁচ কোটি মানুষের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এর সুফল সরাসরি ও পরোক্ষভাবে পৌঁছাবে সারাদেশের মানুষের কাছে।

নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ও আঞ্চলিক বৈষম্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন আশার নাম হয়ে উঠছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

কৃষিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২ লাখ হেক্টরের বেশি এক ফসলি জমি দুই ফসলি জমিতে এবং ১ লাখ হেক্টরের বেশি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হতে পারে। সাগরের লবণাক্ত পানি বদলে কৃষকের কাছে পৌঁছবে মিঠা পানি, যা কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে বিরাট বিপ্লব এনে দেবে। এতে বছরে অতিরিক্ত কয়েক মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরো ধানের গড় উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৪.৫ থেকে ৫ টন। নিরবচ্ছিন্ন সেচ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এটি ৬ থেকে ৭ টন পর্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি গবেষকরা।

একইভাবে গমের উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৩.৫ টন থেকে ৪.৫ টন, ভুট্টার উৎপাদন ৮ টন থেকে ১০-১২ টন এবং আলুর উৎপাদন ২৫ টন থেকে ৩০-৩৫ টন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

পদ্মা পাড়ের জেলা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সংসদ সদস্য ও সরকারের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নে বুক বেঁধে আছে পদ্মা পাড়ের জনগণ। তারা এই প্রকল্পের সুফল পেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রাজবাড়ীসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলার জনগণ বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ছাড়া এ প্রকল্প কখনোই হয়তো পাস হত না। এরই মধ্যে এ প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। এজন্য তিনিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদনে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা পাড়ের জেলাগুলোতে নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নদী ব্যবস্থাপনার আধুনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসংকট দূর করতে এবং মৃতপ্রায় নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পের কাজ ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। কৃষকের আয় গড়ে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে কয়েকশ’ হেক্টর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। গত দুই দশকে পদ্মা নদী বিধৌত বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।

পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের আওতায় নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম, তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নদীভাঙনের হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ, কংক্রিট ব্লক ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পরিকল্পনায় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহ এবং দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হলে বন্যার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে নদীর পানিধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষকে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে হাজার হাজার কোটি টাকার কৃষি উৎপাদন, সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বসতভিটা রক্ষা পাবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এ মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বিপণন এবং সেবা খাত মিলিয়ে লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে কৃষিযন্ত্র, বীজ, সার, কীটনাশক, কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিপণন খাতেও নতুন বিনিয়োগ বাড়বে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় গুদামজাতকরণ, হিমাগার এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের চাহিদাও বাড়বে। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্পে প্রতি ১ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ২০ থেকে ৩০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। সেই হিসেবে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এক থেকে দুই লাখ অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহও বাড়বে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। পাশাপাশি কৃষকের আয় গড়ে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ ২০ লাখ ৬০ হাজার টন ছাড়িয়েছে

বাসস
দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ ২০ লাখ ৬০ হাজার টন ছাড়িয়েছে

দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ ২০ লাখ ৬০ হাজার টন ৫০৭ মেট্রিক টন ছাড়িয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন খাদ্যশস্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, সরকারি গুদামগুলোতে ১৭ জুন পর্যন্ত প্রধান খাদ্যশস্য চালের মজুদ রয়েছে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। এছাড়া গমের মজুদ রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন। এর ফলে ফ্লোটিং বা ভাসমান মজুদ বাদে মোট মজুদের পরিমাণ ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন। এর সাথে গমের ২০ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন এবং চালের ১ হাজার ৯৬২ মেট্রিক টনের ফ্লোটিং মজুত যুক্ত হয়ে সর্বমোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টনে।

ধানের এ পরিমাণকে চালের আকারে রূপান্তর করেই মোট মজুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দেশব্যাপী বোরো সংগ্রহ অভিযান পুরোদমে চলছে। ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন, আতপ চাল ৩১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন এবং গম সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৯৪ মেট্রিক টন। এক্ষেত্রেও ধানকে চালের আকারে (১০০:৬৫ অনুপাতে) মোট সংগ্রহের হিসাবভুক্ত করা হয়েছে।

১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল আমদানি হয়েছে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন এবং গম আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭ টন।

আমদানির খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি ও আন্তর্জাতিক টেন্ডার) মোট ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০ টন চাল এবং ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৮ টন গম রয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৩ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে; যার মধ্যে সিংহভাগ চাল (৬৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৬ টন) এবং গম ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭ টন। চলতি অর্থবছরে খাদ্য সাহায্য হিসেবে কোনো চাল বা গম আমদানি করা হয়নি। শুধু গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২০ টন (৫.১২ হাজার মে. টন)। যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৯০ টন চাল এবং ৩ হাজার ৩০ টন গম ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার উপ সচিব মোহাম্মদ মামুন মিয়া বলেন, ‘১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ থাকলে তা নিরাপদ মজুদ হিসেবে গণ্য হয়। সে হিসেবে এখন দেশে যা মজুদ আছে তা খুবই নিরাপদ।’

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘সরকার যেসব লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, তা বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। খাদ্য মজুদ এখন খুবই সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে।’

অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘চলতি বোরো মৌসুমে নতুন ধান ও চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আগামী দিনগুলোতে এ মজুদের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ৩ মে থেকে খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এসময় ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল, ৫০ হাজার মেট্রিক টন গমসহ  সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।’

অ্যামোনিয়া সংকটে বন্ধ হতে পারে দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা | কালের কণ্ঠ