• ই-পেপার

ডিএমপির নতুন কমিশনার শেখ সাজ্জাদ আলী

দেশে ফিরলেন ৫৫ হাজার ১৩৩ হাজি, মারা গেছেন ৫১

অনলাইন ডেস্ক
দেশে ফিরলেন ৫৫ হাজার ১৩৩ হাজি, মারা গেছেন ৫১

হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৫৫ হাজার ১৩৩ জন বাংলাদেশি হাজি। দেশে প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫০ হাজার ৮২০ জন।

এদিকে হজ পালনে সৌদিতে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে এবং পরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৫১ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ৩৪ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা যান।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, ১৪ জুন (সৌদি সময়) পর্যন্ত দেশে ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ২৬৫ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ১৯ হাজার ৬৮৫ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৩৮০ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৩ হাজার ৮০৩ জন হাজি।
হজযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত মোট ১৩১ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৬১টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৪৯টি এবং ফ্লাইনাস ২১টি ফ্লাইট।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৪২৭টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৭ হাজার ৮১০টি সেবা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন। হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মেধাপাচারকে ‘মেধা প্রবাহে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা সরকারের

বাসস
মেধাপাচারকে ‘মেধা প্রবাহে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা সরকারের

উচ্চশিক্ষিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের শিক্ষা ও গবেষণা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ‘মেধা পাচার’ (ব্রেইন ড্রেন) চ্যালেঞ্জকে ‘মেধা আবর্তন’ (ব্রেইন সার্কুলেশন)-এ রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। 

জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো— বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি পেশাজীবী ও শিক্ষাবিদদের মেধা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবনী ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা।

এ পরিকল্পনার আওতায় সরকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রেডিট ট্রান্সফার পদ্ধতি, শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি, সামার স্কুল, ভিজিটিং স্কলার স্কিম এবং যৌথ গবেষণা উদ্যোগ চালু করবে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দেশ না ছেড়েই বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণা এবং পেশাদার নেটওয়ার্কের সরাসরি সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। 

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ঐতিহাসিক জাতীয় বাজেট পেশ করার সময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মেধা পাচারকে মেধা আবর্তনে রূপান্তর করতে কাজ করছি।’ তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরো দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

বাজেট বক্তৃতায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি নতুন করে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলার লক্ষ্যে দেশীয় গবেষণা কার্যক্রমে সরকারের পক্ষ থেকে আরো বেশি সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিকীকরণ প্রচেষ্টার পাশাপাশি, সরকার দেশের বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থাকে সমন্বিত করার পাশাপাশি যোগ্যতার সমমান মানদণ্ডের বাস্তবায়ন জোরদার করার পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা থেকে শুরু করে মাদরাসা, কারিগরি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সকল স্তরে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে— শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সহনশীলতা, পরিবেশগত সচেতনতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন ও বিশ্বমানের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

বাজেটে মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বাজারে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে ডিজিটাল লার্নিং টুলস এবং আধুনিক শিক্ষাসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।  

শিক্ষকদের শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সরকার তাদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পুনঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি, পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ এবং উন্নত কল্যাণমূলক ব্যবস্থার পরিকল্পনা ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য অতিরিক্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে।  

যুব উন্নয়নকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকের শিশু ও তরুণরাই দেশের আগামী দিনের প্রবৃদ্ধির মূল শক্তি। কোনো পারিপার্শ্বিক সীমাবদ্ধতার কারণে যেন প্রতিভা বিকশিত হতে বাধা না পায়, তেমন একটি পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায়, যারা কেবল নিজেদের ভবিষ্যৎই গড়বে না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, উদ্ভাবন বাড়াবে এবং সামাজিক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেবে।

যুব-নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক রূপান্তর ও জাতীয় অগ্রগতির রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা যে প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, তারা সুযোগের জন্য অপেক্ষা করবে না। বরং নিজেরাই সুযোগ সৃষ্টি করবে।’

শিক্ষা খাতে বরাদ্দের বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আগামী অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন, যার মোট পরিমাণ ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। এর আগে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

সন্ধ্যার মধ্যে ১০ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
সন্ধ্যার মধ্যে ১০ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা

দেশের ১০ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি ঝরতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছ, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে হতে পারে এই ঝড়। 

রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ঢাকার বাতাসে সুখবর, দূষণে শীর্ষে দিল্লি

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকার বাতাসে সুখবর, দূষণে শীর্ষে দিল্লি
সংগৃহীত ছবি

সারা বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থানের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আজ রবিবার (১৪ জুন) সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের লাইভ র‍্যাংকিংয়ে ঢাকা ২২তম অবস্থানে রয়েছে।

আজ সকাল ৯টা ০৯ মিনিটের পরিমাপ অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ৮১। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী এই স্কোরকে ‘মাঝারি’ বা গ্রহণযোগ্য বাতাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সংবেদনশীল মানুষের জন্য এই বাতাস সামান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আইকিউএয়ারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই মুহূর্তে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি, যার একিউআই স্কোর ১৯৫। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তানের লাহোর (১৮৭ স্কোর) এবং চিলির সান্তিয়াগো (১৬৫ স্কোর)।

এ ছাড়াও শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে ইরাকের বাগদাদ (৪র্থ, ১৬২ স্কোর), ডিআর কঙ্গোর কিনসাসা (৫ম, ১৫৮ স্কোর), ভারতের কলকাতা (৬ষ্ঠ, ১৫৩ স্কোর), ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (৭ম, ১৪৯ স্কোর), উগান্ডার কাম্পালা (৮ম, ১৪৪ স্কোর), ফিলিপাইনের ম্যানিলা (৯ম, ১৩২ স্কোর) এবং আরব আমিরাতের দুবাই (১০ম, ১২৯ স্কোর)।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রধান শহরের তুলনায় আজকের সকালটিতে ঢাকার বাতাসের অবস্থা তুলনামূলক ভালো। ভারতের দিল্লি ও কলকাতার বাতাস যেখানে ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে, সেখানে ঢাকার বাতাস হলুদ জোনে অর্থাৎ ‘মাঝারি’ অবস্থানে রয়েছে। এমনকি নেপালের কাঠমান্ডু (১৩তম, ৯৬ স্কোর) এবং মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের (১৭তম, ৮৪ স্কোর) চেয়েও ঢাকা আজ তালিকায় পেছনের দিকে (ভালো অবস্থানে) রয়েছে।

আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে স্কোর থাকলে বাতাসের মান ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে তা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে সবার জন্যই ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়।

সাধারণত শুষ্ক ও শীতকালে ঢাকার বায়ুদূষণ চরম আকার ধারণ করলেও বর্ষা বা বৃষ্টির মৌসুমে দূষণের মাত্রা অনেকটাই কমে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ কম থাকা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে আজ সকাল থেকে ঢাকার বাতাসের মানে এই ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।

ডিএমপির নতুন কমিশনার শেখ সাজ্জাদ আলী | কালের কণ্ঠ