• ই-পেপার

ঢাকাকে অক্সিজেন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে : মেয়র আতিক

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো গতিশীল করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে দ্রুত সমাধানযোগ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সুপারিশসহ রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।

মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. নাসিমুল গনির সমন্বয়ে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং সিটি করপোরেশনসহ মাঠ পর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে এ সভা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সমস্যা থাকবেই। সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বার্থে সবাইকে আরো দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশ একসময় আমাদের চেয়েও অনুন্নত ছিল। অথচ আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। সবাই একসঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করলে সেটি অবশ্যই সম্ভব।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন।

বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে জনবল বাড়ানো, উন্নত মানের ল্যাবরেটরি স্থাপন, মাঠ পর্যায়ে কাজ করার জন্য আধুনিক সরঞ্জামসহ সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা বাড়ানোরও দাবি জানান তারা।

উপ-প্রেসসচিব আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের সংকটের কথাগুলো অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এ জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী গুলশান লেকের ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক লেকই আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব আবর্জনা সমাজের শিক্ষিত মানুষরাই ফেলছেন। যাদের সচেতন হওয়ার কথা, অনেক সময় তারাই সচেতন হন না। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদেরও সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’

সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার, বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

পে স্কেলে নতুন বাধা, গেজেটের পর মিলবে বকেয়াও

অনলাইন ডেস্ক
পে স্কেলে নতুন বাধা, গেজেটের পর মিলবে বকেয়াও

ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যারসংক্রান্ত জটিলতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে। এ কারিগরি সমস্যার কারণে ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা থাকলেও এখনো এসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারি চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে বেতন বৃদ্ধি, নতুন ভাতা এবং অবসরকালীন সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়গুলোর সমন্বয় করে গেজেট চূড়ান্ত করতে সরকারকে অতিরিক্ত সময় নিতে হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে গেজেট জারি হতে পারে। তবে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই গণনা করা হবে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন-ভাতার সুবিধা পাবেন।

এর আগে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই এটি কার্যকর করতে চাইছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে মূল প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সফটওয়্যার ব্যবস্থা। ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় বেশির ভাগ কাজ ম্যানুয়ালি বা হাতে করা হলেও এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক লেনদেন ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই অবস্থায় ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের কারিগরি পরিবর্তন আনতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আগের মতো হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ এখন নেই। যদি একাধিক ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য বারবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।’ তিনি আরও জানান, এতে করে পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণেও নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এই কারিগরি জটিলতার কারণে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যেহেতু পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নসহ অধিকাংশ আর্থিক সুবিধা শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, তাই বর্তমান ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থায় দুই বা তিন ধাপে অবসর সুবিধা সমন্বয়ের সুযোগ নেই। ফলে ভবিষ্যৎ প্রাপ্যতা নিয়ে তারা রীতিমতো শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

এই কারিগরি সংকট মোকাবেলায় সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন আব্দুল মালেক। তার মতে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিবর্তে প্রথম দফাতেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। এরপর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা যেতে পারে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে বারবার সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের বৈষম্য তৈরির আশঙ্কা থাকবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি বর্তমানে নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যারের সামঞ্জস্যতা ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও ইতিপূর্বে জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকারকে অবশ্যই সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাকে সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

প্রাথমিকের পাঠাগারে প্রধানমন্ত্রীর লেখাসহ ৩ বই রাখার নির্দেশনা বাতিল

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিকের পাঠাগারে প্রধানমন্ত্রীর লেখাসহ ৩ বই রাখার নির্দেশনা বাতিল
সংগৃহীত ছবি

দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠাগারে ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া : রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই তিনটি বই রাখার নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে।সোমবার (৬ জুলাই) রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রওশন আরা পলি স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

জানা যায়, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া : রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া : জীবন ও সংগ্রাম’—এই বই দুটি সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর লেখা। আর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বইটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা। বইগুলো জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশ হয়েছে।

গত ৩ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) তিন বই রাখার বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন উপসচিব রওশন আরা পলি। চিঠিতে বলা হয়েছিল, প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠাগারে যেন এই তিনটি বইয়ের অন্তত এক সেট রাখা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাজেটে ছাড় ও সরকারি নীতিতে স্বস্তিতে প্লাস্টিকশিল্প : বিপিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজেটে ছাড় ও সরকারি নীতিতে স্বস্তিতে প্লাস্টিকশিল্প : বিপিজিএমইএ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের প্লাস্টিকশিল্পে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎবিভ্রাট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের এই উদীয়মান শিল্প খাত এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে এই সংকটের মধ্যে চলতি অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)-এর দাবির প্রেক্ষিতে কিছু শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়ায় এ খাতের শিল্পে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। 

আজ সোমবার সকাল ১২টায় বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের কাযার্লয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি সামিম আহমেদ।

এ সময় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে রাজধানীতে এলাকাভেদে প্রতিদিন গড়ে ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এই স্থবিরতা আরো প্রকট, দৈনিক ১ থেকে ৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই অনিশ্চয়তার কারণে প্লাস্টিক কারখানাগুলোতে উৎপাদন ১০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্লাস্টিকের মূল উপাদানসমূহের দাম বেড়েছে। যুদ্ধের পূর্বে যেখানে প্লাস্টিক কাঁচামালের অ্যাসেসমেন্ট প্রতি টনে ৮০০-৯০০ ডলার ছিল, বর্তমানে হরমোজ প্রণালী বন্ধের ফলে তা বেড়ে ১৫০০-১৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিক শিল্পকে এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে টেনে তুলতে কিছু কর ও শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দেয় এ সরকার। 

প্রস্তাবিত বাজেটে পিভিসি রেজিন, জিপিএস রেজিন, পিইটি রেজিন এর ওপর আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা প্রত্যাহার করে পূর্বের ন্যায় ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে, যা দেশীয়  শিল্পকে সুরক্ষা দেবে। ফার্মাসিউটিক্যালস মেডিসিন প্যাকেজিং মেটেরিয়ালস অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের আমদানি শুল্কও ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক রিসাইক্লিং শিল্পের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা হয়েছে এবং ওয়েস্ট সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া রপ্তানি প্রণোদনা হতে উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, নতুন বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব ও শিল্পোন্নয়ন সহায়ক হিসেবে আমরা দেখছি। প্লাস্টিক কাঁচামালের মূল সোর্স হলো মিডল ইস্ট যেমন ওমান, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, ইরান। যুদ্ধের পূর্বে যেখানে প্লাস্টিক কাঁচামালের অ্যাসেসমেন্ট প্রতি টনে ৮০০-৯০০ ডলার ছিল, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে তা বেড়ে ১৫০০-১৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

কাঁচামালের দাম ও জাহাজ ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় তৈরি পণ্যের দামও অনেক বেড়ে গেছে, যার ফলে প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। পিভিসি, পিপিসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যে প্লাস্টিক ম্যাটেরিয়ালের ২৫ কেজির প্রতি ব্যাগের দাম আগে ছিল ৩২০০ টাকা, তা বর্তমানে ৫২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেজিংয়ের খরচ ৪ টাকা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৩০ পয়সায় ঠেকেছে।

তিনি আরো বলেন, প্লাস্টিক খাতের সংযোজনের জন্য মোট ২৪টি আইটেমের ওপর ডিউটি বা শুল্ক ছাড়ের দাবি করা হয়েছিল। সরকার মাত্র ১২টি আইটেমে এই সুবিধা দিয়েছে। পলিসি মেকারদেরকে এটা বুঝতে হবে, প্লাস্টিক সেক্টর শুধু নিজের জন্য ব্যবসা করে না, সে অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির জন্যও ব্যবসা করে, অন্য ইন্ডাস্ট্রিকে প্রমোট করে, সাপ্লাই দেয়—প্যাকেজিং, কম্পোনেন্ট।