প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের জন্য জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) সংসদ অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদ সদস্যদের সম্মতিতে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রস্তাব উত্থাপনের সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এই সফরে দুই দেশের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে, যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। সফরকালে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে চীনের আরো সক্রিয় ভূমিকার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশের স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির বাস্তব প্রতিফলন।
তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মান, অভিন্ন স্বার্থ, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বাধীনতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার যে নীতি বাংলাদেশ অনুসরণ করছে, প্রধানমন্ত্রী সেই অবস্থানকে আরো সুস্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরেছেন।
তিনি আরো বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ধন্যবাদ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, দেশের স্বার্থে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল গঠনমূলক সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো বহুমুখী করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এই সফরের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সফরটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
পরে স্পিকার ধন্যবাদ প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত সমর্থনে তা গৃহীত হয়। এ সময় সংসদে উপস্থিত সবাই টেবিল চাপড়ে অভিনন্দন জানান।









