kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

‘কভিড অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউ : কিভাবে সামলাবো’ ভার্চুয়াল আলোচনা সভা

মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে সিপিডি চায় কঠোর হস্তক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০১:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে সিপিডি চায় কঠোর হস্তক্ষেপ

কঠোর লকডাউনে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ চেয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ও আর্মড ফোর্সকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ব্যবহার করার দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।  

সোমবার (১১ এপ্রিল) সিপিডি আয়োজিত ‘কভিড অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউ : কিভাবে সামলাবো’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় এই দাবি জানায় বক্তারা। পাশাপশি  স্বাস্থ্যবিধি, চিকিৎসা এবং অন্যান্য সহায়তারও সুপারিশ করেন বক্তারা।
 
আলোচনা সভার শুরুতে ব্র্যাকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুস্তাক রেজা চৌধুরী বলেন, ‘এই করোনা মহামারি সম্পর্কে যে দেশ বেশি ভারো বুঝেছে সে দেশ তত ভালোভাবে এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। প্রথম ঢেউয়ের কথা আমরা এখনো ভুলিনি। কিন্তু আমরা প্রথম ঢেউ থেকে কিছু শিকতে পারিনি। আমরা বৈজ্ঞানিকভাবে তেমন কিছু করতে পারিনি। তিনি আরো বলেন, ‘এই কঠোর লকডাউনকে আমি সাধুবাদ জানাই। তবে একসঙ্গে সারা দেশে লকডাউন করা কষ্টকর। সেজন্য ম্যাপিং পদ্ধতিতে কঠোর থেকে কঠোর লকডাউন প্রয়োজনে কারফিউ জারি করতে হবে। যাতে করে মানুষ সচেতন থাকে বেশি করে।’  

সংক্ষিপ্ত আলোচনা সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সুতরাং এর আলোকে এখন স্বাস্থ্যবিধিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কলকারখানায়, বাজারে স্বাস্থ্যবিধি বিশেষ করে মাস্ক পরা সুনিশ্চিত করার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আর্মড ফোর্স, সরকারের এজেন্সিগুলোকে ব্যবহার করতে হবে। সরকারের যেসব এজেন্সি রয়েছে, সেখানে লোকবল কম, প্রয়োজনে অন্যান্য এজেন্সি থেকে লোকবল নেয়া যেতে পারে।’ এসময় তিনি এলাকাভিত্তিক জোন ভাগ স্বাস্থ্যবিধি পর্যবেক্ষণ করারও পরামর্শ দেন।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘কঠোরভাবে শিল্প-কারখানা হোক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হোক, এমনকি সাধারণ মানুষের চলাচলেও এনফোর্সমেন্টের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এটা এনফোর্সমেন্ট না হলে জারিমানা, এমনকি সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে প্রতিষ্ঠান বা কলকারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার মতো ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতা এই কর্মকর্তাদের দেওয়া যেতে পারে।’

আলোচনা শেষে সারসংক্ষেপ তুলে ধরে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘আলোচনায় সুপারিশগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো- স্বাস্থ্যবিধি, চিকিত্সা এবং অন্যান্য সহায়তা। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে অনেকে বলেছেন জনসম্পৃক্ততা বড়ানোর জন্য। মাস্ক পরা এবং মাস্ক আরও বেশি পরিমাণে বিতরণ করা, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম না হাওয়ার বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ এসেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘চিকিৎসার বিষয়ে ফিল্ড হাসপাতালের সুপারিশ এসেছে। সেখানে কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার ব্যবহারের সুপারিশ এসেছে। আমরা দেখছি যে টিকা দেয়া শুরু হয়েছে, সেখানে একটা অসামঞ্জস্যতা দেখা যাচ্ছে। টিকার সরবরাহ কম এবং জনসচেতনতাও কম। টিকার সরবরাহ কম হওয়ার জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে টিকা আমদানির সুপারিশ এসেছে। সেই সঙ্গে কোভিড চিকিৎসার ওষুধ কিভাবে সুলভ মূল্যে দেয়া যায় তার সুপারিশও এসেছে।’

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর, সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুখ হোসেন, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলালউদ্দিন প্রমুখ। 



সাতদিনের সেরা