• ই-পেপার

পাখির জন্য ভালোবাসা

ফ্রান্স-বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি ড. এরশাদ হুসাইন রানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্রান্স-বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি ড. এরশাদ হুসাইন রানা

ফ্রান্স-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিআইএফবি) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ড. মো. এরশাদ হুসাইন রানা। তিনি ডন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত চেম্বারের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শেষে নতুন পরিচালনা পর্ষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। এ সময় দুই বছরের জন্য নতুন নেতাদের নির্বাচন করা হয়।

নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এক্সপো হোল্ডিংস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবসা উন্নয়ন পরিচালক এম. এ. রিয়াজ এবং আই লজিস্টিকস (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার। একই মেয়াদের জন্য কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাবিস্তা এফএস লিমিটেডের ফারজানা চৌধুরী।

চেম্বারের ১৭ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদে নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও করপোরেট ব্যক্তিত্বরা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাদাত আহমেদ, আখতার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাতো কে. এম. রিফাতুজ্জামান, বাংলাদেশ এক্সপোর্টস লিমিটেডের মার্কেটিং পরিচালক বদরিয়া আনিস, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ সাইফুদ্দিন চৌধুরী, বেঙ্গল এয়ারলিফট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ রহমান, এলিট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শরীফ আজিজ, ফারিহা নিট টেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসাদুল ইসলাম, নোভো কার্গো সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. রহমান, প্যাসিফিক ডিজাইন অ্যান্ড সোর্সিংয়ের সিইও মোহাম্মদ রাশেদ, রেডিয়েন্ট করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও এস. এ. বাহাদুর, তাশো এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালিমুল হক এসা, ইউনিগ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল ইসলাম পারভেজ এবং ইউটাহ নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সানা সাত্তার।

এজিএম-পরবর্তী বোর্ড ট্রানজিশন অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে চেম্বারের সদস্য, ব্যবসায়ী ও অতিথিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সিসিআইএফবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
 

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে বদলি

অনলাইন ডেস্ক
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে বদলি
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ পুলিশের পাঁচজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন সহকারী পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সংযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ রাজিবুল হাসানকে সুনামগঞ্জের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে এপিবিএনে, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকারকে সিআইডিতে, পুলিশ সদরদপ্তরে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাওয়াত হোসেনকে পাবনায়, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হামায়ুন কবিরকে সুনামগঞ্জের দিরাই সার্কেলে এবং পুলিশ সদর দপ্তর ঢাকায় সংযুক্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুল হাসানকে র‌্যাবে বদলি করা হয়েছে।

জাতীয় আরবান ডিজাইন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় আরবান ডিজাইন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ঘোষণা

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করে আরো পরিবেশবান্ধব, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘কার্বন কনিওস আরবান ডিজাইন আইডিয়া কম্পিটিশন ২০২৬’-এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস) ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। 

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তরুণ স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদদের উদ্ভাবনী ধারণায় উঠে এসেছে আগামী দিনের জলবায়ু-সংবেদনশীল ও টেকসই ঢাকার রূপরেখা।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড)-এর অর্থায়নে ইউএনওপিএস, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি), ইউএন-হ্যাবিট্যাট এবং রাজউকের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে টেকসই উপকরণের মাধ্যমে বিল্ট এনভায়রনমেন্টের রূপান্তর’ প্রকল্পের আওতায় প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করা হয়।

টেকসই নগর উন্নয়নের জন্য উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জলবায়ু-সচেতন ডিজাইনের মাধ্যমে গণপরিসরকে নতুনভাবে কল্পনা করার আহ্বান জানানো হয়।

অংশগ্রহণকারীরা বাস্তুতান্ত্রিক পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্বল্প-কার্বন উপকরণ ব্যবহার, পানি-সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিসরের সমন্বয়ে বিভিন্ন নকশা ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা, প্রকৌশল ও টেকসই উন্নয়ন খাতের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ড ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জমা পড়া মোট ৩৬টি প্রস্তাবনা মূল্যায়ন করে। বিচারকদের মতে, অংশগ্রহণকারী দলগুলো অসাধারণ সৃজনশীলতা, কারিগরি উৎকর্ষতা এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর, স্থিতিশীল ও জনকেন্দ্রিক নগর পরিবেশ নির্মাণের কার্যকর ধারণা তুলে ধরেছে।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) টিম বার্ন/ব্রেথ। তাদের ‌‘দ্য রিসিডিং মেমব্রেন’ শীর্ষক প্রস্তাবনায় একটি অব্যবহৃত জলাশয়কে পরিবেশগতভাবে পুনরুদ্ধার করে সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিসরে রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়, যা বিচারকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। একই প্রকল্প ‘এক্সিলেন্স ইন প্রেজেন্টেশন অ্যাওয়ার্ড’-ও অর্জন করেছে।

দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে চুয়েটের টিম ইউনিট ফাইভ তাদের ‘স্ট্রার্ট এট : অন আরবান স্কেপ দ্যাট রিটার্ন ওয়াটার টু আর্থ’ শীর্ষক প্রস্তাবনার জন্য। তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) টিম ওয়েস্ট লাইন, তাদের ‘মেমোরিজ অব বেঙ্গল : অ্যান ইকোলজি অব বিলংগিং ইন দ্য আরবান ফ্যাব্রিক’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে।

এ ছাড়া বিষয়ভিত্তিক বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে তিনটি দল। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির টিম ভ্যানগার্ড আরবানিস্টস অর্জন করেছে ‘লো কার্বন পাবলিক স্পেস ওয়ার্ড', খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ছায়া পেয়েছে ‘ক্লাইমেট রেজিলেন্ট অ্যান্ড ডিজাস্টার-রেডি পাবলিক স্পেস ওয়ার্ড’ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) টিম অরণ্যক অর্জন করেছে ‘ইনক্লুসিভ এন্ড একসেসিবল পাবলিক স্পেস অ্যাওয়ার্ড’।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিজয়ী দলগুলোর মধ্যে মোট ১০ লাখ টাকা পুরস্কার বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি এসব উদ্ভাবনী ধারণা ভবিষ্যতে জলবায়ু-সহনশীল, স্বল্প-কার্বন এবং সম্পদ-সাশ্রয়ী নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সব দলকে অভিনন্দন জানিয়ে আয়োজকরা বলেন, তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী নকশা বাংলাদেশের টেকসই নগর উন্নয়নের ভবিষ্যতকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

রাজউকের চেয়ারম্যান এবং ইউএনওপিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জমাকৃত প্রস্তাবনাগুলোর উচ্চমানের প্রশংসা করে দেশের টেকসই নগর উন্নয়ন কর্মসূচিতে এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আয়োজকরা জানান, আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

টিআইবির জরিপ

অন্তর্বর্তী সরকারের ১ বছরে সেবা খাতে ঘুষ ১২৬৩৩ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের ১ বছরে সেবা খাতে ঘুষ ১২৬৩৩ কোটি টাকা
সংগৃহীত ছবি

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন সরকারি ও আধাসরকারি সেবা খাতে এক বছরে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি : জাতীয় খানা জরিপ-২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশকালে এই তথ্য জানানো হয়। টিআইবির মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সেবা খাতের দুর্নীতির চিত্র বিশ্লেষণ করে পরিচালিত এক খানা জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনাকাঠামো ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে দুই ধাপে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা নির্বাচন করে এই জরিপ করেছে টিআইবি। জরিপে সুনির্দিষ্ট ১৮টি সেবা খাতের চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে ২০২৩ সালে এই জরিপ করেছিল টিআইবি।

বর্তমান জরিপের ফলাফল বলছে, ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও পাসপোর্ট (৭৬.৬ শতাংশ) ও বিআরটিএ (৬৩.৫) থেকে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এরপর রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি ও বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা। এসব খাতে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণও সবচেয়ে বেশি।

তবে সার্বিকভাবে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। গত বছরে খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৫ হাজার ১২৪ টাকা।

জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক সেবায় ঘুষ ও দুর্নীতির উচ্চহার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা হয়ে আছে। পাশাপাশি কৃষি, স্থানীয় সরকার, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট ও বিআরটিএ খাতেও দুর্নীতির প্রবণতা বেড়েছে বা আগের মতোই রয়ে গেছে।

দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। তাদের মতে, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত। আবার প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই দুর্নীতির অভিযোগ কোথায় ও কিভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই।

দুদক সম্পর্কে ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) সম্পর্কে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার জানলেও অভিযোগ করার হার খুবই কম। অভিযোগ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয়নি বা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, দুর্নীতির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বিচারহীনতা, সচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির বদলে সুবিধা পাওয়া।

জরিপে আরো দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের পরিবারগুলো শহরের তুলনায় বেশি ঘুষের শিকার হয় (৬৬ শতাংশ বনাম ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ)। তবে ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে শহরের পরিবারগুলোকে বেশি টাকা দিতে হয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়।

টিআইবির প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়েছে, ‘নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী’ ব্যক্তিদের জন্য এ পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা চালু হলেও তা দুর্নীতি কমাতে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের এখনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ থেকেই যাচ্ছে।

পাখির জন্য ভালোবাসা | কালের কণ্ঠ