kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

ইরফানের খোঁজ নিতে আসেনি কেউ, খেয়েছেন সরকারি বরাদ্দের খাবার

অনলাইন ডেস্ক   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০৮:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইরফানের খোঁজ নিতে আসেনি কেউ, খেয়েছেন সরকারি বরাদ্দের খাবার

র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হাজী সেলিমপুত্র ইরফান, ফাইল ছবি।

নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম এখন ধানমণ্ডি থানার হাজতখানায় তিন দিনের রিমান্ডে আছেন। তাঁর কোনো স্বজন খোঁজখবর নিতে থানায় আসেনি। থানা থেকেই তাঁকে দুপুর ও রাতের খাবার দেওয়া হয়েছে।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ইরফান সেলিম এবং তাঁর দেহরক্ষী জাহিদকে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধানমণ্ডি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে দুই আমামিকে আদালত থেকে ধানমণ্ডি থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ধানমণ্ডি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশফাক রাজীর হাসান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দুই আসামি ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত দুই আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দুপুরের পরপরই তাদের ধানমণ্ডি থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের হাজতখানায় রাখা হয়।

তিনি আরো জানান, ইরফানের কোনো স্বজন থানায় তাঁর খোঁজখবর নিতে আসেনি। থানা থেকে বরাদ্দকৃত খাবারই তাঁকে দেওয়া হয়। দুপুরে ও রাতে দুই বেলা ভাত-তরকারি দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রাতেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এ বিষয়ে কথা হয় ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম আলী মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, থানার হাজতখানায় আসামিদের খাবারের জন্য সরকার থেকে কিছু বরাদ্দ আছে। সেই বরাদ্দকৃত থেকে ইরফান ও তাঁর দেহরক্ষীকে খাবার দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ধানমণ্ডিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যার হুমকির ঘটনায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমসহ তাঁর দেহরক্ষী জাহিদুল ইসলাম, গাড়িচালক মিজানুর রহমান, মদীনা গ্রুপের প্রটোকল কর্মকর্তা এ বি সিদ্দিক দীপু ও অজ্ঞাতনামা তিনজনসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান। ওই রাতেই হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৬ অক্টোবর দুপুরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুরান ঢাকার চকবাজারে চান সরদার দাদাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইরফানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

অভিযানে অবৈধ দুটি অস্ত্র, মদ, বিয়ার, ৩৮টি ওয়াকিটকি ও ভিএইএফ ডিভাইসযুক্ত ওয়াকিটকি বেজ স্টেশন জব্দ করা হয়। এরপর মদ্যপান ও বেআইনিভাবে ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ইরফানকে ১৮ মাসের সাজা দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তার দেহরক্ষী জাহিদুলকে বেআইনি ওয়াকিটকি ব্যবহারের জন্য ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা