• ই-পেপার

ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার

অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন পেতে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।

সোমবার (২৯ জুন) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অবস্থিত প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জাপানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

​সাক্ষাৎকালে উভয় দেশের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ও ‘ফোর্সেস গোল’ অর্জনের লক্ষ্যে জাপানের প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

​উভয় পক্ষ দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ, নিয়মিত সামরিক প্রতিনিধি দলের সফর, পেশাগত ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। এছাড়া, আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

​এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বিদ্যমান চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে ভবিষ্যতে আরো সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধে শরণার্থীদের মুখে হাসি ফেরান ‘পুতুলওয়ালা’ মুস্তাফা মনোয়ার

অনলাইন ডেস্ক
মুক্তিযুদ্ধে শরণার্থীদের মুখে হাসি ফেরান ‘পুতুলওয়ালা’ মুস্তাফা মনোয়ার

মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় আশ্রয় নেওয়া বিমর্ষ শরণার্থীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে কলকাতার কাছে ব্যারাকপুরের শরণার্থী শিবিরে প্রথম পাপেট প্রদর্শনী করেছিলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মুস্তাফা মনোয়ার চাকরি করতেন পাকিস্তান টেলিভিশনে। যুদ্ধ শুরু হতেই সব ছেড়ে চলে গেলেন কলকাতায়। শরণার্থী শিবিরে সেই সময় পাপেটের খেলার মধ্যে দিয়ে তিনি দেখাতেন- ইয়াহিয়া খানকে মারছে কৃষক। আর জিজ্ঞেস করছে –‘আর কেউ কি মারতে চাও?’ তখন সবাই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে এগিয়ে আসছে অত্যাচারী ইয়াহিয়াকে মারতে। এভাবে পাপেটের কথা বলা দেখে দেশ ছেড়ে আসা দুখী মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটে। এরপর থেকে তার পাপেট শো ছিল শরণার্থী শিবিরের অসহায় মানুষগুলোর কাছে আনন্দের উৎস। তিনি যেখান যেতেন শিশুরা তাকে ঘিরে ধরত ‘পুতুলওয়ালা’ ‘পুতুলওয়ালা’ বলে।

মুস্তাফা মনোয়ারের অনেক গৌরবময় পরিচয়ের মধ্যে একটি হল তিনি একাত্তরের রণাঙ্গনে পাপেট শো দেখিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন। মুক্তির গানের চিত্রগ্রাহক লিয়ার লেভিনের ধারণ করা মুক্তিযুদ্ধের ফুটেজেও অম্লান হয়ে আছে একাত্তরের পুতুলওয়ালা মুস্তাফা মনোয়ারের এই কীর্তি।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ভারতে অবস্থানকালীন বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ প্রবাসী সরকারের সাংস্কৃতিক দলের নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষে জনমত গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করেন। 

বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আজ সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। 

মুস্তফা মনোয়ার বা মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর যশোর জেলার মাগুরা (বর্তমান জেলা) মহকুমার শ্রীপুর থানার অন্তর্গত নাকোল গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা থানার মনোহরপুর গ্রামে। তার পিতা কবি গোলাম মোস্তফা বাংলা সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ। মাতা জামিলা খাতুন ছিলেন একজন গৃহিণী। খুব অল্প বয়সে তার মাতৃবিয়োগ ঘটে যখন তার বয়স মাত্র পাঁচ বছর। 

মুস্তফা মনোয়ারের শিক্ষা জীবন শুরু হয় কলকাতায়। তিনি প্রথম ভর্তি হয়েছিলেন কলকাতার শিশু বিদ্যাপীঠে। পরবর্তীতে তার বাবা হুগলি থেকে বাকুড়া হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে আসার পর প্রথমে ফরিদপুর তারপর স্থায়ীভাবে ঢাকার শান্তিনগরে বাড়ি কিনলেন। মুস্তফা মনোয়ার মাতৃহীন ছিলেন বলে নারায়ণঞ্জে মেজ বোনের বাড়িতে আশ্রয় গাড়েন। সেখানে নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে তাকে ভর্তি করা হয়। 
নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং কলকাতায় গিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। নারায়ণগঞ্জ স্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়াকালীন তিনি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের কথা শোনেন। ঢাকায় গুলি হয়েছে, বাঙালি শহীদ হয়েছে, পাকিস্তানিরা বাংলা ভাষা বন্ধ করে দিতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে ছবি আঁকতে শুরু করেন এবং সেই ছবি বন্ধুদের সঙ্গে সারা নারায়ণগঞ্জ শহরের দেয়ালে দেয়ালে সেঁটে দেন। যার ফলে পুলিশ এসে তার দুলাভাইসহ তাকে বন্দী করে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে পাঠিয়ে দেয়।

বিজ্ঞানে পড়া ছেড়ে তিনি কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৫৯ সালে ফাইন আর্টস বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ছাত্র অবস্থায় দার্জিলিং বেড়াতে যেয়ে দার্জিলিং এর প্রাকৃতিক দৃশ্যের ওপর জল রং-এর কতকগুলি ছবি এঁকে সকলকে তিনি অবাক করে দিয়েছিলেন। তৎকালীন ইউ. এস. আই. এস-এর পরিচালনায় তার ছবিগুলির ওপর ঢাকায় এক প্রদর্শনী হয়। এ প্রদর্শনীই তাঁর শিল্পীজীবনের প্রথম স্বীকৃতি বয়ে আনে।

মুস্তাফা মনোয়ার কর্মজীবন শুরু করেন পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে (বর্তমান চারুকলা অনুষদ, ঢাবি) প্রভাষক পদে। ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের শুরুতেই তিনি সেখানকার স্টেশন প্রডিউসার হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুস্তফা মনোয়ারের প্রচেষ্টায় টেলিভিশনের গতানুগতিক অনুষ্ঠানমালার এক আশ্চর্য রকমের পরিবর্তন সাধিত হয়। তিনি জাতীয় পারফর্মিং আর্টস একাডেমী, জাতীয় সমপ্রচার একাডেমী এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ ফিল্ম উন্নয়ন কর্পোরেশনের মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে অবসর গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি জনবিভাগ উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং এডুকেশনাল পাপেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। 

১৯৭২ সালে বিটিভি থেকে প্রচারিত শিশু প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে জনপ্রিয় ‘নতুন কুঁড়ির’ রূপকার তিনি। ১৯৭৩ সালে মুস্তাফা মনোয়ার ‘রক্তকরবী’ নাটক তৈরি করেছিলেন। মুস্তফা মনোয়ারের উল্লেখযোগ্য শৈল্পিক সৃষ্টি ‘পাপেট’। বাংলাদেশ থিয়েটার পাপেট এন্ড এনিমেশনের তিনি পরিকল্পক, গবেষক ও উদ্ভাবক। তার পাপেট শিল্প সুর, কথা, গান, অভিনয়, চিত্রকলা, কবিতা সব শিল্পকেই ধরে আছে। পাপেট নিয়ে বহুদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আছে তার। প্রথমবার তিনি তার নিজের পাপেট দলসহ বাংলাদেশের ফোক পাপেট দল ধনমিয়াকে নিয়ে মস্কো ও তাশখন্দ সফর করেন। সেখানে বাংলাদেশের ফোক পাপেট ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। 

বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে প্রচারিত তাঁর ‘পাপেট’ এর মাধ্যমে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান ‘ক’ ও ‘খ’ জাপানে ও পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের টিভি অনুষ্ঠান প্রতিযোগিতায় পুরস্কার লাভ করে। ১৯৮২ সালে তিনি কলম্বোয় ‘এনিমেশন এন্ড পাপেট ফর টেলিভিশন’ বিষয়ক আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। ঢাকায় জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাফ - গেমসের জন্যে তাঁর উদ্ভাবিত ‘মিশুক’ যা বৃহৎ আকারের চলমান পাপেটরূপে সকলের নিকট জনপ্রিয় ও অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর উদ্ভাবিত পাপেট আন্তজার্তিক মানের। যার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনিই একমাত্র ব্যক্তিত্ব যাকে ইউ. এন. আই. এম. এর সদস্যপদ প্রদান করা হয়।

১৯৭১-এর মার্চে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে টেলিভিশন থেকে ফজল-এ- খোদা রচিত ও আজাদ রহমান সুরারোপিত 'সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম, চলবে দিনরাত অবিরাম' গণসংগীতের পরিচালনায় ছিলেন মুস্তফা মনোয়ার। গানটি দশজন শিল্পী গেয়েছিলেন, কিন্তু যখন গানটি প্রচারিত হয় তখন বাংলাদেশ টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে মনে হয়েছিল যেন কয়েকশ শিল্পী একত্রে গানটি গাইছেন। এটি সম্ভব হয়েছিল মুস্তফা মনোয়ারের অসাধারণ নির্দেশনার কারণে। কোনো গানকে একটি অনন্য শৈল্পিক রূপ দেয়ার এটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ। টেলিভিশনে সেই গানটির প্রচারের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের "একাত্তরের দিনগুলি" বইতে। গানটির প্রচারের ধরনের অভিনবত্বে সেটি স্বাধীনতাকামী বাঙালি দর্শকদের মনে বিশেষ প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছিল।

কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। ১৯৫৭ সালে কলকাতায় একাডেমি অব ফাইন আর্টস আয়োজিত নিখিল ভারত চারু ও কারুকলা প্রদর্শনীতে গ্রাফিক্স শাখায় শ্রেষ্ঠ কর্মের স্বীকৃতিতে স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চারুকলা প্রদর্শনীতে তেলচিত্র ও জলরঙ শাখার শ্রেষ্ঠ কর্মের জন্য দুটি স্বর্ণপদক পান। ১৯৯০ সালে টিভি নাটকের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য টেনাশিনাস পদক লাভ করেন। চিত্রশিল্প, নাট্য নির্দেশক এবং পাপেট নির্মাণে অবদানের জন্য শিশু কেন্দ্র থেকে ২০০২ সালে বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন। চারুকলার গৌরবময় অবদান ও কীর্তির স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি।

ব্যাক্তিগত জীবনে এই গুণী শিল্পী ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রামের মেয়ে মেরীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্ত্রী মেরী পড়াশোনা শেষ করে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তিনি বেশ কিছুদিন ঢাকা মিউজিক কলেজের প্রিন্সীপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন ছিলেন। শিল্পী মুস্তফা মনোয়ার এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান জনক। পুত্র সাহদত মনোয়ার বাংলাদেশ বিমানের পাইলট এবং কন্যা নন্দিনী মনোয়ার একটি এনজিওতে কর্মরত। বাংলাদেশী অস্কারজয়ী অ্যানিমেটর নাফিস বিন জাফর তার ভ্রাতুষ্পুত্র।

পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে বিল

অনলাইন ডেস্ক
পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে বিল

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ এবং সংঘটিত পরীক্ষা অপরাধের শাস্তির বিধান রেখে একটি বিল জাতীয় সংসদে উঠেছে। সংসদ কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

রবিবার জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

সংসদে উপস্থাপিত বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সার্টিফিকেট তৈরি এবং অন্যান্য অনিয়মসহ অসদুপায় অবলম্বন রোধে প্রায় ৪৫ বছর আগে বিদ্যমান ‘দি পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ প্রণয়ন করা হয়। তবে বিলটিতে উল্লেখ করা হয়, প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের ক্রমবর্ধমান প্রবণতার কারণে বিদ্যমান আইনের বেশ কয়েকটি ধারা এখন যুগোপযোগী নয়।

প্রস্তাবিত এ সংশোধনীর মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবস্থা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে একটি সুষ্ঠু ও অসদুপায়মুক্ত পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ শব্দটির সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা। এর আওতায় সাইবার অপরাধের মাধ্যমে পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ এবং যেকোনো ধরনের ডিজিটাল কারসাজিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

বিলে ডিজিটাল কারসাজির অপরাধে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস বা এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অপরাধীচক্র গঠন বা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরো কঠোর শাস্তি ও আর্থিক জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সরকারের মতে, ডিজিটাল যুগে পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় উদ্ভূত নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য এ সংশোধনী অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সন্ধ্যার মধ্যে ১২ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
সন্ধ্যার মধ্যে ১২ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

দেশের ১২ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে এই ঝড় হওয়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। 

সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
 

অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন পেতে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ | কালের কণ্ঠ