নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতির মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একাধিক আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামোয় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন। নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। তবে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল ভিন্ন ভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে জানা গেছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের প্রস্তাবিত সুবিধাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো টিফিন ভাতা বৃদ্ধি। বর্তমানে মাসিক ২০০ টাকা টিফিন ভাতা পেলেও নতুন পে স্কেলে তা পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল কার্যকরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা কাঠামোয় এটিকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্র জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেল পাবেন। তবে তাদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে কার্যকর হবে না। দেরিতে এই সুবিধা পাবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। অর্থাৎ আগে সরকারি চাকরিজীবীদের পে স্কেল কার্যকর হবে। পরবর্তীতে এর আওতায় আসবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে মাউশি পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) প্রফেসর মোহাম্মদ মনির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পে স্কেল আগে হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কিছুটা দেরিতে পে স্কেল পাবেন। সচরাচর সরকারি চাকরিজীবী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল একইসঙ্গে বাস্তবায়ন হয় না।’
অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান টিফিন ভাতা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা লাঘব করতে ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। শুধু টিফিন ভাতাই নয়, নতুন পেস্কেলের খসড়ায় আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বৈশাখী উৎসব ভাতা বর্তমান মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষাব্যয় নির্বাহে মাসিক ২ হাজার টাকা শিক্ষা ভাতা চালুর প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের চিকিৎসা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে এমন কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার টাকার বিশেষ চাইল্ড কেয়ার ভাতা প্রদানের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে এসব সুবিধা এখনো প্রস্তাবনার পর্যায়ে রয়েছে। সচিব কমিটি ও সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হবে এবং তখনই চূড়ান্ত সুবিধাগুলো নিশ্চিত হবে।






