kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড

বিতর্কিতদের আ'লীগে দলীয় মনোনয়নের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১৩:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিতর্কিতদের আ'লীগে দলীয় মনোনয়নের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বিতর্কিতদের আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসাবে নৌকা প্রতীক প্রদানের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। 

বক্তব্য পাঠের শুরুতে তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অগ্নিসংযোগকারীর পুত্র, অনুপ্রবেশকারী, ভূমিদস্যু ও নদী দখলবাজকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসাবে নৌকা প্রতীক প্রদানের প্রতিবাদে সাংবাদিক বন্ধুদের শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছি।

বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক সংগঠন যার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সর্বজনবিদিত। বর্তমানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাসসহ সকল অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন যা সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি নিজ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গ/ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনসমূহে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের অংশ হিসাবে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা প্রণয়ন করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে প্রেরণ করেছেন।

আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে সম্প্রতি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি হতে অনুপ্রবেশকারী, ভূমিদস্যু, নদী দখলবাজ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অগ্নিসংযোগকারীর পুত্র আব্দুল খালেককে নৌকা প্রতীক প্রদান করা হয়েছে। জনশ্রুতি আছে, আব্দুল খালেক ইতোপূর্বে শিবিরের সক্রিয় কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন।

ইতোপূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন মর্মে ঘোষণা দিলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

মেহেদী হাসান বলেন, সম্প্রতি সাধারণ সম্পাদক অনুপ্রবেশকারীদের সংজ্ঞায় স্ববিরোধী বক্তব্য দেন বলে আমরা মনে করি। মাননীয় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনুপ্রবেশকারীকে মনোনয়ন প্রদান জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের অবমাননা নয় কি?

তিনি আরও বলেন, শাপলাপুর ইউনিয়নে প্রার্থী হিসাবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নূরুল আমিন হেলালীর পুত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ও বিশিষ্ট টিভি সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন হেলালী কমল নৌকা প্রতীক প্রার্থনা করলে তৃণমূল হতে নাম প্রেরণ করা হলেও তাকেসহ তৃণমূল প্রস্তাবিত অন্য প্রার্থীদের উপেক্ষা করে কোন বিবেচনায় অনুপ্রবেশকারী এবং নদী দখলদার হিসাবে অভিযুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিকে নৌকা প্রতীক প্রদান করা হলো সেটা আমরা জানতে আগ্রহী!

মেহেদী হাসান বলেন, মাননীয় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কঠোর নির্দেশনা স্বত্ত্বেও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনুপ্রবেশকারীকে মনোনয়ন প্রদান জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের অবমাননা।

সংবাদ সম্মেলনে সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল এস আর সিদ্দিকী সাঈফ ২০১৬ সালের ১৩৯৮৯ নং রিট পিটিশনে মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের ১৫ নম্বর নির্দেশনা পড়ে শোনান। এ রায়ের আলোকে এবং নির্দেশনায়, কোনো নদী দখলদার ও নদী দূষণকারী হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের সকল প্রকার নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এবং এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে উপর্যুপরি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য মাননীয় আদালত নির্দেশ প্রদান করেন।

এর পর দাবি তুলে ধরেন মেহেদী হাসান

১. অনতিবিলম্বে আওয়ামী লীগ এবং এর সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন সমূহের সর্ব পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে অনুপ্রবেশকারীদের নাম, পদবী, ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা সকল গণমাধ্যমে প্রকাশসহ সংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা হোক। 

২. স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তান ও নাতি-নাতনিসহ বিএনপি, জায়ামাত-শিবির চক্রের সদস্য, দুর্নীতিবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবনকারী ব্যক্তিদের দলের সর্ব পর্যায়ে সম্মেলনে যাতে প্রার্থী, কাউন্সিলর ও ডেলিগেট হতে না পারে সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

৩. অন্যান্য দল থেকে আগত নেতা-কর্মীদের ন্যুনতম ১০ বছর কোনো পদে পদায়ন করা হবে না মর্মে আওয়ামী লীগ এর গঠণতন্ত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হোক। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা