• ই-পেপার

'বিএনপি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করেছিল'

অবশেষে হরমুজ পার হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

অনলাইন ডেস্ক
অবশেষে হরমুজ পার হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ সাড়ে ৩ মাসের বেশি সময় আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে জাহাজটি প্রণালি অতিক্রম করে। বর্তমানে জ্বালানি বা বাংকারিং নেওয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুকে নিয়ে জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। জাহাজে কর্মরত অতিরিক্ত চিফ অফিসার প্রণয় সাহাও ক্ষুদে বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে এটি কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় বিএসসি জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দরেই আটকে পড়ে।

পরবর্তীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি কেপটাউনের উদ্দেশে রাস আল খায়ের ত্যাগ করলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ পাড়ি দিতে গিয়ে পুনরায় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। নিরুপায় হয়ে জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়। সর্বশেষ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাহাজটি আজ রাতে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেয়। 

বিএসসি আরো জানায়, ২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার বাল্ক ক্যারিয়ারটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের জলসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে বাংকারিং ও প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিক ও ক্রু সবাই সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) হিসাব অনুযায়ী, হরমুজের চার পাশে এখনও প্রায় ১ হাজার ৬০০টি জাহাজ আটকে আছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক দিন পরেই ইরান এই সংকীর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেয় এবং তাদের অনুমতি ছাড়া এই পথ দিয়ে কারও যাওয়ার সুযোগ নেই বলে ঘোষণা দেয়। যুদ্ধ বন্ধে সম্প্রতি নতুন করে অগ্রগতি হওয়ায় এবার আবার হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করে এমভি বাংলার জয়যাত্রা।

বাজেট আলোচনায় পাল্টাপাল্টি

অনলাইন ডেস্ক
বাজেট আলোচনায় পাল্টাপাল্টি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রেখেছেন সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা।

সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধীদের (জামায়াত) রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘অবাস্তব, বাস্তবায়ন অযোগ্য ও বৈষম্যের দলিল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব স্থগিত রেখে সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।

তিনি বলেন, এ দলটি ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল। তারা যেন রাজনীতি করতে না পারে। তাদের রাজনীতিও ফ্যাসিস্টদের মতো নিষিদ্ধ করা হোক। তিনি আরো বলেন, এই প্রথম বাজেটের প্রতিফলন- বাজারে দ্রব্যের মূল্য বাড়েনি। বাজেটে নিত্যপণ্যের ওপর ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ করার এক বিশাল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রথম ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বাজেট রাখা হয়েছে। তিনি কওমি মাদ্রাসার জন্য বাজেট রাখার দাবি জানান।

এর আগে দেশে মসজিদ-মাদরাসায় সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মিটিং বন্ধে আইন পাস করার দাবি জানান বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ। তিনি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে মানুষ নামাজ ও কোরআন শরিফ পড়বে। একটি রাজনৈতিক দল মসজিদে রাজনীতি করছে। মসজিদের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘অবাস্তব, বাস্তবায়ন অযোগ্য ও বৈষম্যের দলিল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব আলম।

তিনি বলেন, এ বাজেটে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়নি এবং উত্তরবঙ্গকে চরমভাবে অবহেলা করা হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নেও সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বগুড়ার শিবগঞ্জে ১৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও গাজীপুরে তার চেয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাজেটের ৩ লাখ কোটি টাকা ৩০০ সংসদীয় আসনে সমানভাবে বণ্টনের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না- জি এম সিরাজ : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ‘ডিভোর্স’ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) সিরাজ। ভারত বাংলাদেশকে অস্বীকার করতে পারবে না, বাংলাদেশও ভারতকে অস্বীকার করতে পারবে না। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।

সংসদে ‘মবক্রেসি’ শব্দ নিয়ে বিতর্ক, এক্সপাঞ্জের দাবি নাকচ : জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর মিছিল ও প্রতিবাদকে ‘মবক্রেসি’ হিসেবে উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শব্দটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানালেও তা নাকচ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাজেট প্রতিক্রিয়া হিসেবে জামায়াতে ইসলামী যে মিছিল ও প্রতিবাদ করেছে, তা নিয়ে আলোচনার সময় এক সদস্য ‘মবক্রেসি’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। শব্দটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান তিনি।

জবাবে স্পিকার বলেন, ‘মবক্রেসি’ কোনো অশ্লীল শব্দ নয়। এটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার মতো বিষয়ও নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট সদস্যকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, বাজেট আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ এলে তিনি চাইলে এ বিষয়ে জবাব দিতে পারেন। এ সময় স্পিকারের বক্তব্যে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি শব্দটি নিয়ে আপত্তি তুলে বলেন, ‘মবক্রেসি’ শব্দটি ইতিবাচক অর্থ বহন করে না এবং এটি আপত্তিকর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, অতীতে বিএনপি বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলও বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় কর্মসূচি দিয়েছে। সেসব আন্দোলনও কি তাহলে ‘মবক্রেসি’ ছিল? তবে স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তিনি বলেন, ‘মবক্রেসি’ বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত রাজনৈতিক পরিভাষা এবং বিভিন্ন বক্তৃতায় শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। এটি কোনো অশ্লীল বা অসংসদীয় শব্দ নয়। শব্দটি মূলত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে জনতার চাপভিত্তিক রাজনৈতিক আচরণের সমালোচনায় ব্যবহৃত হয়। তাই সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এটি বাদ দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ : বাজেট অধিবেশনে সংসদ কক্ষে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রীদের আসন খালি থাকা নিয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে স্পিকার বলেন, অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি দেখতে চাই। তবে অর্থমন্ত্রী এখানে আছেন। সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে অন্য মন্ত্রীদেরও অনুরোধ জানাব, তারা থাকলে আমরা বাধিত হব। এরপর চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, অনেকে রাষ্ট্রীয় কাজে বা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন, এটা ঠিক। তবে তাদের সংসদে আসা উচিত, আসলে ভালো হয়। অর্থমন্ত্রী আগাগোড়া এখানে উপস্থিত আছেন। কারণ বাজেটসংক্রান্ত বিষয়ে যেসব কথা বলা হয়, সব কথার শেষ কথা গিয়ে অর্থমন্ত্রীই বলবেন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সুখবর মালয়েশিয়া থেকে

অনলাইন ডেস্ক
সুখবর মালয়েশিয়া থেকে
–প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পেরদানা পুত্র ভবনে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেন -পিআইডি

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুততম সময়ের মধ্যে উন্মুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। গতকাল সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দুই শীর্ষ নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ অনুরোধ জানান তারেক রহমান।

বৈঠকে সংস্কৃতিবিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হয়। দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একমত হন দুই সরকারপ্রধান। রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সকালে ‘পরদানা পুত্রা’য় পৌঁছালে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনারসহ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরপর দুই শীর্ষ নেতার অংশগ্রহণে যৌথ এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরো বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগপ্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য দেন। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান, মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব দাতো শাহরোল আনুয়ার বিন সারমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল তান শ্রী আমরান মোহাম্মদ জিন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে শুভেচ্ছাবার্তাগুলোর একটি পেয়েছিলাম, তা ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছ থেকে। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।’

তিনি বলেন, ‘তার সেই আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিতবোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’

পিতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল এবং শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করছি। তাঁর সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরো গভীর করে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করে।’

তিনি আরো বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।  মালয়েশিয়ায় তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মালয়েশিয়া সরকার ও জনগণের প্রতি ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা আজ এক মধুর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বৈঠকে সংস্কৃতিবিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হওয়ায় স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’

এ বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দলিল দুটি বিনিময় করেন। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি।’

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালালশিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

আসিয়ানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি)-এ যোগদানে আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।’

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের জনগণ তাঁদের স্বাগত জানাতে গর্ববোধ করবে।’

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্য : সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে তিনি তার প্রথম সরকারি সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। তার এ সদিচ্ছাকে আমরা গভীরভাবে সাধুবাদ জানাই। এটি আপনাদের গভীর ভালোবাসা ও আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। আমরা সৌভাগ্যবান যে আপনার প্রয়াত বাবা ও মায়ের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ছিল। আমি তাকে (তারেক রহমানকে) আমার প্রথম অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছি যখন আমি একজন যুবনেতা হিসেবে মৌচাক ক্যাম্পে তার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম।’

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার প্রয়াত মায়ের সঙ্গেও বেশ কয়েকবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আমার দেখা হয়েছিল। এর চেয়েও বড় কথা হলো, ভাই তারেক রহমান এবং তাঁর পরিবার চরম কষ্ট ও সংগ্রাম সহ্য করেছেন। তিনি নিজের দেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসেন এবং তাঁদের স্বাধীনতা ও উন্নতির পক্ষে নিজের আদর্শে সব সময় অবিচল থেকেছেন।’

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘মানবসম্পদ সহযোগিতা বিশেষ করে আমাদের শ্রমিকরা, প্রথমত আমাদের অর্থনীতিকে টিকে রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু একই সঙ্গে এই খাতটি নিয়ে অনেক বিতর্ক ও উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মানবিক দিক, শ্রমিকদের সঙ্গে আচরণ এবং এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরো স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত করার চ্যালেঞ্জ এর মধ্যে অন্যতম। আমি তার স্পষ্টবাদিতা এবং আমাদের যৌথ লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে সাধুবাদ জানাই। হ্যাঁ, আমাদের শ্রমিকের প্রয়োজন আছে। তবে তার চেয়েও বড় কথা হলো আমাদের অবশ্যই শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের কল্যাণ রক্ষা করতে হবে।’

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের শোষণ ও নিপীড়নের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের শোষণ, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং কেবল নিজেদের স্বার্থে তাদের ব্যবহার করার এই চলমান প্রবণতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ব্যক্তিগতভাবে এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি যে মনোভাব প্রকাশ করেছেন, আমি তার গভীরভাবে প্রশংসা করি। এই বাড়াবাড়ি বন্ধে এবং প্রক্রিয়াটি যেন স্বচ্ছ হয় তা নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই নেতৃত্ব দিতে হবে। এটি যেন উভয় দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের স্বার্থ রক্ষা করে।’

২০২৭ সালের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া : ২০২৭ সালের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। পাশাপাশি রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) যোগদান এবং আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা জোরদারে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের হালাল শিল্পের উন্নয়নে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি। গতকাল পুত্রজায়ায় সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের ৩৩ দফা যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আসিয়ান-আরসিইপির সঙ্গে সম্পৃক্ততায় সমর্থন : গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে যোগদানে বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটি জানায়, ভবিষ্যতে আরসিইপিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে।

শ্রমবাজার নিয়ে নতুন চুক্তিতে সম্মতি : বৈঠকে দুই নেতার আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে শ্রমিক নেওয়া অব্যাহত রাখার বিষয়টি। বিদ্যমান শ্রমশক্তি অভিবাসন সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করে বর্তমান বাস্তবতা ও প্রয়োজন অনুসারে একটি নতুন, হালনাগাদ কাঠামো তৈরির জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। নির্ভরযোগ্য এজেন্সির মাধ্যমে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার : দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রশংসা করে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক পুরোপুরি কার্যকর করার অঙ্গীকার করেন উভয় নেতা। সামরিক বিজ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা ও প্রতিরক্ষা শিল্প অংশীদারিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত হন। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামোগত রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ কমিটি (জেসিডিসি) বৈঠক আয়োজনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।

হালাল শিল্পে সহযোগিতা : দুই নেতা বৈশ্বিক ইসলামি অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক গুরুত্বের স্বীকৃতি দেন এবং বাংলাদেশের হালাল শিল্প খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারে একমত হন। তারা মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট বিভাগ (জাকিম) ও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চলমান সহযোগিতাকে স্বাগত জানান এবং হালাল সনদ প্রদান, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, গবেষণা, উদ্ভাবন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।

জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ : জ্বালানি খাতে সহযোগিতাও আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল। উভয়পক্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য বিষয়ক বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরসহ অনাবিষ্কৃত খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ।

এ ছাড়া বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থানের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, ফিনটেক, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের মতো অগ্রসরমান প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে সম্মত হন দুই নেতা।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সরকারের অ্যাসিড টেস্ট

অনলাইন ডেস্ক
মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সরকারের অ্যাসিড টেস্ট

আধুনিক সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ (Lee Kuan Yew) বলেছিলেন, মাদক হলো সব অপরাধের মা (Mother of all crime)। তিনি বলেছিলেন, শুধু মাদক বন্ধ করতে পারলেই একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সিঙ্গাপুর গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্যে তার নেতৃত্বে ১৯৭৩ সালে প্রণীত ‘মিউজিস অব ড্রাগস অ্যাক্ট’ (Misuse of Drugs Act)-এর অধীনে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মাদক রাখা বা পাচারের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়। তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের সমালোচনা সত্ত্বেও এ আইনকে দেশটির নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে জোরালোভাবে রক্ষা করেন। সেন্ট্রাল নারকোটিকস ব্যুরোকে (CNB) ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়, যার ফলে তারা যেকোনো সময় মাদকবিরোধী অভিযান, র‌্যান্ডম তল্লাশি ও কঠোর নজরদারি চালাতে পারে।

লি কুয়ানের এই শূন্য সহনশীলতার (Zero-Tolerance) নীতির কারণেই সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম মাদকমুক্ত দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আর মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়ার কারণেই সিঙ্গাপুরে অপরাধ কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুর।

মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার বিশ্ব : লি কুয়ানের এই কঠোর অবস্থান তখন পশ্চিমা বিশ্ব সমালোচনা করলেও বিশ্বের অধিকাংশ দেশই মাদকের আগ্রাসন থেকে মুক্তির জন্য এ পথই বেছে নিয়েছে। মাদক বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়লে মালয়েশিয়ায় মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। দেশটিতে মাদক রাখার জন্য জেল-জরিমানার ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া অভিবাসীদের কাছে মাদক পাওয়া গেলে তাদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে থাইল্যান্ডে মাদক পাচারের কারণে হতে পারে মৃত্যুদণ্ড। সৌদি আরবে মাদক বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়লে মৃত্যুদণ্ড প্রায় নিশ্চিত। মাদক সেবন কিংবা সেগুলো রাখার জন্য দেশটিতে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত, জরিমানা ও দীর্ঘদিনের কারাবাস দেওয়া হয়। একই বিধান রয়েছে কুয়েত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে।

ইন্দোনেশিয়ায় মাদক বিক্রির দায়ে হতে পারে মৃত্যুদণ্ড। ১৯৭১ সালের গ্রীষ্মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন মাদককে ‘এক নম্বর গণশত্রু’ ঘোষণা করে এর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন, যা পরবর্তীতে ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ নামে পরিচিত হয়। এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তাঘাটকে মাদকমুক্ত করা, পাচার নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাদক নিয়ন্ত্রণে কেবল তাদের দেশে নয়, বিশ্বের যেকোনো দেশে অভিযান চালাতে পারে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে।

ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে সেদেশে মাদকবিরোধী যুদ্ধের কারণে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন বটে। কিন্তু তার এই বিতর্কিত অভিযান বিশ্বে সমালোচিত হলেও ফিলিপাইনে মাদকের অবাধ বিস্তার বন্ধ করে দিয়েছে। দুতার্তে কয়েক দফায় ফিলিপাইনের দাভাওয়ের সিটি মেয়র ছিলেন। পরে তিনি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট হন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। দুতার্তে মেয়র ও প্রেসিডেন্ট থাকাকালে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন। কথিত এই মাদকবিরোধী যুদ্ধের নামে বহু মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। গত বছর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দুতার্তেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন দুতার্তেকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আইসিসির উদ্দেশে পাঠানো হয়। ৭৯ বছর বয়সি দুতার্তে এখন এ আদালতে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। কিন্তু সেদেশের জনগণ মাদক থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এখনো দুতার্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

বাংলাদেশের অবস্থা : পৃথিবীতে যেসব দেশ মাদকের করাল গ্রাস থেকে বাঁচতে পেরেছে তারা সবাই কঠোর আইন প্রণয়ন করে এবং সেই আইনের পক্ষপাতহীন প্রয়োগের মাধ্যমেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। ফলে বাংলাদেশ মাদক কারবারিদের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সারা দেশে চলছে মাদকের অবাধ বিস্তার। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত আজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষের কর্মশক্তি, সৃজনশীলতা, নৈতিক মূল্যবোধ সবকিছু ধ্বংস করছে মাদক। মাদক মানুষকে করছে হিংস্র, পাশবিক। যেমনটা সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা লি কুয়ান বলেছিলেন- মাদক হলো সব অপরাধের উৎস-তার বাস্তব প্রমাণ আমরা এখন দেখছি বাংলাদেশে। মাদকের কারণে বাড়ছে ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের ঘটনা। মাদকের সঙ্গে বিস্তৃত হচ্ছে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতির মতো ঘটনা। মাদকের অবাধ বিচরণের কারণেই অবৈধ অস্ত্রের রমরমা ব্যবসা চলছে। মাদক সিন্ডিকেটের ওপর ভর করেই গড়ে উঠেছে চোরাচালান এবং নারী পাচারের সিন্ডিকেট। কিশোর গ্যাং আজ সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যাধি। এর প্রধান কারণ মাদকের অবাধ বিস্তার। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ৯০ শতাংশই মাদক থেকে শুরু। মাদক চোরাচালান এবং তার অবাধ বিস্তার বন্ধ করতে পারলে বাংলাদেশে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে উল্লেখযোগ্য হারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাংলাদেশ কেন সফল হতে পারছে না : বাংলাদেশে প্রতিটি সরকারই দায়িত্ব গ্রহণ করে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে মাদকের সিন্ডিকেট বন্ধ হয় না। অতীতে আমরা দেখেছি অনেক স্বীকৃত মাদক কারবারি জাতীয় সংসদে সদস্য পর্যন্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের আলোকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানে শুরু করেছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সারা দেশে ৩০ হাজার ৭৪৪টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৯ হাজার ২৫১টি মামলা দায়ের করে ৯ হাজার ৬৮৫ জন মাদক চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকের বিস্তার রোধে মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কিন্তু মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি করাই ছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ দেশের শীর্ষ মাদক কারবারিদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল সরকারকে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় ৩ হাজার মাদক কারবারির একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই তালিকা আদালতে পেশ করা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২৯২ জন গডফাদার এবং ৪ হাজার শীর্ষ মাদক কারবারির একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে। পুলিশের আইজি বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযান পুলিশের অন্যতম অগ্রাধিকার। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে রাখা হয়েছে।

কিন্তু এসব বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায় না। গত ২২ জুন কালের কণ্ঠ পত্রিকায় ‘নতুন মাদকের নীরব বিস্তার’ শিরোনামে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রচলিত মাদকের পাশাপাশি দেশে অনেকটা নীরবে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন প্রজন্মের বিচিত্র সব মাদক। এসব মাদকের মধ্যে নতুন প্রজন্মের কাছে বেশি পরিচিত সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক। নতুন এই মাদকের গড়ন-গঠনও পাল্টে হয়েছে এমডিএমবি, আইস, খাথ, এলএসডি, ফেন্টানাইল, ব্ল্যাক কোকেন, এমডিএমএ, ডিএমটি, ডিওবি, ম্যাজিক মাশরুম, কুশ, ট্যাপেন্টাডল, ট্রামাডল এবং কিটামিন।’ এখনই যদি এ নতুন ধরনের মাদক নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তাহলে একটি প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

বাংলাদেশকে যা করতে হবে : বাংলাদেশে মাদকের বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না বিভিন্ন কারণে। মাদকের বিরুদ্ধে যে মামলা হয় তা শেষ পর্যন্ত টেকে না। মাদক কারবারি ও অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যায়। আইনে মাদক চোরাচালানের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু এই সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান শুধু আইনেই আছে, বাস্তবে নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে যায়। পুলিশ বলছে, সাক্ষীর অভাবে মামলার সুষ্ঠু বিচার সম্ভব হচ্ছে না। মাদকবিরোধী যুদ্ধে কেবল আইন যথেষ্ট নয়, দরকার সামাজিক সচেতনতা। সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে ঘৃণার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা দরকার। সরকার গাড়িচালকদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে। কিন্তু সেখানেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার কথা থাকলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা দরকার। তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার হবে। অতীতে দেখা গেছে, মাদক কারবারি ও গডফাদাররা যখন যে দল ক্ষমতায় আসে সেই দলের ছত্রছায়ায় ভিড়ে যায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক ঐকমত্য দরকার। সব রাজনৈতিক দলকে অঙ্গীকার করতে হবে, মাদক চোরাচালানকারি, মাদকের গডফাদারদের তারা আশ্রয় দেবে না। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এই সরকারের অ্যাসিড টেস্ট। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে উপলব্ধি করতে হবে মাদকের সর্বনাশা ছোবল থেকে মুক্ত না হতে পারলে দেশের কোনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। মাদকের অপব্যবহার বন্ধ করতে না পারলে এ দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমাদের জয়ের কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

'বিএনপি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করেছিল' | কালের কণ্ঠ