kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

এটিএম বুথ জালিয়াতিতে রাশিয়ানরাও

শনাক্ত তিনজনের একজন দেশ ছেড়েছে ৪ জুন
বিদেশিদের ওপর চলছে নজরদারি

এস এম আজাদ    

২৪ জুন, ২০১৯ ০৩:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এটিএম বুথ জালিয়াতিতে রাশিয়ানরাও

পালিয়ে যাওয়া রাশিয়ান নাগরিক ভ্লাদিস্লাভ সের্গিয়েভিচ। ছবি : সংগৃহীত

ডাচ বাংলা ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিনে (এটিএম) জালিয়াতি করে বুথ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ইউক্রেনের নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশি ছাড়াও কয়েকজন রাশিয়ান নাগরিক জড়িত। তিনজন বিদেশিকে শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা, যাদের ভ্লাদিস্লাভ সের্গিয়েভিচ (৩৪) নামে এক রাশিয়ান গত ৪ জুন বাংলাদেশ ছেড়েছেন। 
এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অপর বিদেশিদের শনাক্ত করতে বিদেশিদের তথ্য যাচাই শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ান নাগরিকরাই বাংলাদেশে জালিয়াতি করতে এসেছে। উভয় দেশের নাগরিকরা রুশ ভাষা জানে বলে একই সিন্ডিকেটে কাজ করছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
 
সার্বিক বিষয়ে জানতে আজ-কালের মধ্যে ছয় ইউক্রেনিয়ানকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে আসবেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তদন্তকারীরা। 
 
জানতে চাইলে ডিবির পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহিদুর রহমান রিপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদেশি ও দেশি কারা জড়িত তা বের করতে তদন্ত চলছে। আজ-কালের মধ্যে দোভাষীর মাধ্যমে ছয়জনকে দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে আনা হবে।’
 
পুলিশের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ছয়জন ছাড়াও ভিতালি ক্লিমচাক নামের ইউক্রেন নাগরিক এখনো বাংলাদেশ ছাড়েনি। তবে এরই মধ্যে তথ্য পাওয়া গেছে চক্রের আরো তিন সদস্য বাংলাদেশ ছেড়েছে। ওই তিনজনের একজন ছিল ইউক্রেন নাগরিক। 
সর্বশেষ আরো তিনজনের তথ্য মিলেছে। যাদের মধ্যে ভ্লাদিস্লাভ সের্গিয়েভিচ রাশিয়ান পাসপোর্টধারী। গত ৩১ মে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় আসেন। ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি গুলিস্থানের হোটেল সালিমারে ওঠেন। ৪ জুন রাত ৯টা ১০ মিনিটে হোটেল ছেড়ে দেন। ওইদিনই রাত ১টা ৫৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশ ছাড়েন তিনি। এর আগে ২ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আরো দুই বিদেশি হোটেলে গিয়ে ভ্লাদিস্লাভ সের্গিয়েভিচের সঙ্গে দেখা করেন। 
 
রেডিসন হোটেলের ডাচ বাংলা এটিএম বুথ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সময় সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ওই দুইজনকে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এরা রাশিয়ান বা ইউক্রেন নাগরিক। ইউক্রেন নাগরিকরা রুশ ভাষা জানেন। এ কারণে তাদের মধ্যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এ দুই দেশসহ মে মাসের শেষ থেকে চলতি মাসের প্রথম দিকে যারা বিদেশ থেকে এসেছেন তাদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। ঘটনার ১৫ দিনের মধ্যে ইউক্রেন থেকে ৭৪ জন বাংলাদেশে এসেছে এবং ১০৪ জন গেছে। চলে যাওয়া এক ইউক্রেনিয়ানসহ আরো তিনজনের কর্মকাণ্ড ছিল সন্দেহজনক। 
 
জালিয়াতি ধরা পড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশের পুলিশের গোয়েন্দাদের জানায়, ‘হিডেন কোবরা’ নামে উত্তর কোরীয় হ্যাকার গ্রুপ ‘ফাস্টক্যাশ ক্যাম্পেইন’ নামে অভিনব ব্যাংক জালিয়াতির পরিকল্পনা করেছে। এরপর ৩১ মে রাতে বাড্ডার ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা তুলে নিলেও পরদিন খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কেটের সামনের বুথে গিয়ে ধরা পড়ে একজন। 
 
দেনিশ ভিতোমস্কি নামে ইউক্রেন নাগরিকের তথ্যে, পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেন থেকে ভালেনতিন সোকোলোভস্কি, ভালোদিমির ত্রিশেনস্কি, নাজারি ভজনোক,  সের্গেই উইক্রাইনেত্স, আলেগ শেভচুক নামে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা