kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

এসএ পরিবহনের কুরিয়ারে ইয়াবা, এক লাখসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০১৯ ২৩:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এসএ পরিবহনের কুরিয়ারে ইয়াবা, এক লাখসহ গ্রেপ্তার ২

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেলে বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে লুকিয়ে ইয়াবা আনা হচ্ছে ঢাকায়। নজরদারির কারণে এই অপকর্ম কিছুটা কমে আসলেও ফের শুরু হয়েছে। ইয়াবা কারবারিরা বেশি পার্সেল পরিবহন করা এসএ পরিবহনকে বেছে নিয়েছে। র‍্যাবের নজরদারিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে। আজ রবিবার রাজধানীর উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের আলাওল অ্যাভিনিউ এলাকার ২০ নম্বর বাড়িতে এসএ পরিবহনের অফিস থেকে এক লাখ পিস ইয়াবার চালান জব্দ করেছে র‍্যাব-৩। এ সময় কাশেম (৩১) ও মোরশেদ আলী (৩৩) নামে দুই কারবারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
 
এ ঘটনায় এস এ পরিবহনের নির্বাহী পরিচালক, উত্তরা শাখার ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টিকাটুলীর র‍্যাব-৩ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, ঝিনুকের তৈরি অংলকার সামগ্রীর মধ্যে করে এক লাখ ইয়াবা আনা হয়। ইয়াবা কারবারিরা কক্সবাজার থেকে ভুয়া নামে পার্সেল পাঠিয়ে দেয়। ঢাকায় এসে তাদের দলের লোকজনই সেই চালান গ্রহণ করে।
 
র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ইয়াবার একটি চালান ঢাকায় এসেছে বলে আমাদের কাছে তথ্য ছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে এসএ পরিবহনের অফিসে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাগুলো পাওয়া যায়। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অপর ব্যক্তিদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’
 
তিনি আরো বলেন, ‘এ ইয়াবা পাচারের সঙ্গে এসএ পরিবহনের কোনো ব্যক্তি জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ 
 
র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজারের লাবনী বিচ শাখা থেকে ইয়াবাসহ পার্সেলটি পাঠানো হয়। কাশেম ও মোরশেদের বাড়ি কক্সবাজার সদরে। তারা চালানটি গ্রহণ করতে উত্তরার এসএ পরিবহনের অফিসে যায়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে র‍্যাব তাদের আটক করে।
 
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা র‍্যাবকে জানায়, আগেও কয়েকবার কক্সবাজার থেকে বড় কার্টুনে করে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর আড়ালে ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান এসএ পরিবহনসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসে ঢাকায় পাঠানো হয়। তারা আকাশ পথে ঢাকায় এসে এসব পার্সেল নিজেরাই গ্রহণ করে। কক্সবাজারে তাদের আরো সহযোগী আছে।
 
এসএ পরিবহনের নিজস্ব সিন্ডিকেটে ইয়াবা চালান পাচার করছিল তারা। এ কারণে এ কুরিয়ার সার্ভিসের কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছে র‍্যাব। রবিবার রাতে এসএ পরিবহনের নির্বাহী পরিচালক, উত্তরা শাখার ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপককে র‍্যাব-৩ কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। 
 
প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে এসএ পরিবহনে মাদক চোরাচালানের তথ্য পেয়ে পথে তল্লাশি শুরু করে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় হয়রানির অভিযোগ তুলে আদালতে যায় এসএ পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এতে উচ্চ আদালত পথে এসএ পরিবহনে তল্লাশি না করার আদেশ দেন। পরবর্তীতেও এসএ পরিবহনে আসা চালান জব্দ করা হয়।
 
সুন্দরবন, কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসেও আসা চালান জব্দ করে পুলিশ, র‍্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সংস্থাগুলো গোয়েন্দা নজরদারি করে পার্সেল খালাশের সময় অফিসে অভিযান চালিয়েই এসব মাদক জব্দ করে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকার কারণে গোপনে মাদক পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন অনেক অভিযানকারী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা