• ই-পেপার

সরকারি কর্মকর্তাদের ২৫ হাজার ট্যাব বিতরণ

জনসংখ্যার বড় অংশ শ্রমবাজারের বাইরে

অনলাইন ডেস্ক
জনসংখ্যার বড় অংশ শ্রমবাজারের বাইরে

২৮ বছর বয়সি মো. রাকিব ঢাকার মিরপুর এলাকার বাসিন্দা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করেছেন বছরখানেক হলো। তবে এখনো তিনি কোনো চাকরি পাননি। তিনি বলছিলেন, স্নাতকোত্তর শেষ করেছি এক বছর হলো, এখনো ঠিকমতো কোনো কাজ পাইনি। চেষ্টা করছি, কিন্তু কোথাও সুযোগ পাচ্ছি না। বেশির ভাগ জায়গায় অভিজ্ঞতা খুঁজছে। আর নতুন যেখানে-সেখানে বেতন খুবই কম। রাকিবের এই অভিজ্ঞতা একার নয় বাংলাদেশের বড় একটি অংশ এখনো শ্রমবাজারের বাইরে রয়ে গেছে, যদিও দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সি অর্থাৎ কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১১ কোটি ৪৪ লাখের বেশি। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশ এখন কর্মক্ষম বয়সে, যা একটি বড় জনমিতিক সুযোগ হিসেবে ধরা হয়। এ ছাড়া ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণ জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ১৫ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ। অন্যদিকে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি তরুণ শ্রমশক্তির সংখ্যা ২ কোটি ৬৭ লাখ। কিন্তু এই বড় জনগোষ্ঠীর সবাই শ্রমবাজারে সক্রিয় নয়।

শ্রমশক্তি জরিপের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৫-৬৪ বছর বয়সিদের মধ্যে মাত্র ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ শ্রমবাজারে রয়েছে অর্থাৎ তারা কাজ করছে বা কাজ খুঁজছে। অন্যদিকে, শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৫৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা দেখায় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে।

শ্রমশক্তির জরিপ বলছে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি তরুণ শ্রমশক্তির প্রায় ২০ লাখই বেকার। তাদের মধ্যে সাড়ে ১৩ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ উচ্চ মাধ্যমিক পাস। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজন বেকারের একজন স্নাতক বা উচ্চ মাধ্যমিক সনদধারী। শুধু তা-ই নয়, ১৫-২৯ বছর বয়সি যুব বেকারদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ স্নাতক। এর মানে দাঁড়ায় প্রতি তিনজন স্নাতক তরুণের একজন বেকার।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু অর্থনীতিতে সেই অনুপাতে মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। ফলে অনেকেই শ্রমবাজারে ঢুকছে না, বা ঢুকলেও টিকে থাকতে পারছে না।

দেশে ১১ কোটির বেশি কর্মক্ষম মানুষ : বিবিএসের হিসাব বলছে, বর্তমানে শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সি জনসংখ্যা ৪ কোটি ৯৪ লাখ, ১৫-৬৪ বছর বয়সি ১১ কোটি ৪৪ লাখ এবং ৬৫ বছরের বেশি ১ কোটি ১৯ লাখের বেশি। ২০১১ সালের তুলনায় শিশুদের (শূন্য থেকে ১৪) অংশ কমে এসেছে। বেড়েছে বয়স্কদের সংখ্যা।

এই পরিবর্তনকে জনমিতিক রূপান্তর হিসেবে দেখা হয়। অর্থনীতির ভাষায়, এটি ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-যেখানে বেশি কর্মক্ষম মানুষ থাকলে উৎপাদনশীলতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে শর্ত একটাই-এই মানুষদের কাজের মধ্যে আনতে হবে। দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়ার অর্থ হলো প্রতি বছর নতুন করে বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু সেই হারে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

বর্তমানে দেশে তরুণ বেকার প্রায় ২৭ লাখ। যা মোট জনসংখ্যার হার ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সংখ্যাটি তুলনামূলক কম মনে হলেও বাস্তবে অনেকেই আংশিক বেকার বা কম আয়ের কাজে যুক্ত।

নারীরা পিছিয়ে পড়ছে শ্রমবাজারে : শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বৈষম্য দেখা যায় নারীদের ক্ষেত্রে। সবশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে পুরুষের চেয়ে নারীর অনুপাত বেশি। তবে শ্রমশক্তিতে পুরুষের চেয়ে পিছিয়ে নারীরা। আর সাড়ে ২৭ লাখ বেকারের মধ্যে প্রায় ১০ লাখই নারী। উচ্চশিক্ষিত নারীদের মধ্যেই বেকারত্ব বেশি। বৈষম্য, সামাজিক অবকাঠামো, কাজের পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় অনেক নারীই আগ্রহ হারাচ্ছেন কর্মক্ষেত্রের ওপর থেকে। এমন হলে দেশের অর্থনৈতিক পরিধি বৃদ্ধিতে বাধা আসবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পতন উদ্বেগজনক। কারণ, নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে অর্থনীতির সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

বিবিএসের হিসাবে, ২০১৫-১৬ সালে নারী শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ছিল ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ধীরে ধীরে বেড়ে ২০২২ সালে ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু এরপর আবার কমে ২০২৩ সালে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৩৮ দশমিক ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ কমে যাওয়া মানে আমরা আমাদের সম্ভাবনার বড় একটি অংশ ব্যবহার করতে পারছি না। সামাজিক বাধা, নিরাপত্তা, উপযুক্ত কাজের অভাব-সব মিলিয়ে নারীরা পিছিয়ে পড়ছে।

শিশু কমছে, বাড়ছে বয়স্ক জনগোষ্ঠী : জনসংখ্যার কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আসছে। ২০১১ সালে যেখানে শিশুদের হার ছিল ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ, সেখানে ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ১ শতাংশে। অন্যদিকে, ৬৫ বছরের বেশি মানুষের হার বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বিবিএসের হিসাবে, শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা এখন প্রায় ৫ কোটি। আর ৬৫ বছরোর্ধ্ব বয়স্ক মানুষের সংখ্যা এখন দেড় কোটির কাছাকাছি।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

১২ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক
১২ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা
ফাইল ছবি

দেশের ১২ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাংগাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

নির্বাচনি অঙ্গীকার ও ব্যয় বৃদ্ধির বাজেট

অনলাইন ডেস্ক
নির্বাচনি অঙ্গীকার ও ব্যয় বৃদ্ধির বাজেট

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে দুই দফা। মাত্র কয়েক দিন আগে বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। এর প্রভাবে জিনিসপত্রের দাম হু-হু করে বাড়তে শুরু করেছে। আবার নতুন বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে করে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে আরেক দফা।

অন্যদিকে নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এ খাতকে বহুমুখীকরণ করা হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে এনে ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সৃজনশীল অর্থনীতি ও ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে কর্মসৃজনের কথা ভাবছে সরকার। এজন্য সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে টাকার প্রবাহ বাড়ানো হবে। যার অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ বছরের বাজেটে ১২ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা ও কৃষক কার্ডের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। ব্লু ইকোনমি বিকাশের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করতে ব্যবসা-বিনিয়োগে বিভিন্ন রকমের কর ছাড় ও সুযোগসুবিধা বাড়ানো হবে। সরকারের ভিতরে তীব্র আর্থিক টানাপোড়েন ও বৈশ্¦িক সংকট সত্ত্বেও ব্যয়ের বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে রেকর্ড পরিমাণ। সরকারের পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে। সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্যও অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। জানা গেছে, ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা, কৃষি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা প্রায় চূড়ান্ত করেছে অর্থ বিভাগ। বাজেট পরিকল্পনায় দেশের অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এক বছরে অন্তত ১০ লাখ মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তারেক রহমান দেশে ফেরার সময় সবচেয়ে বেশি প্রচার পায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান। এই দর্শন স্থান পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম বাজেট প্রস্তাবনাতেও। এজন্য দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তুলতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ও নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করেছেন আসছে বাজেটে। কর্মসংস্থানে বৈচিত্র্য আনতে উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ নামক নতুন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের জন্য ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল আকারের এই বাজেট কাল ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শন সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্রিক উচ্চাভিলাষী বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তাবিত এই বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা গঠনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

 সরকারের মতে, আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই বাজেটে ভৌত অবকাঠামো নয়, সবচেয়ে বেশি অর্থ মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর পেছনে সবচেয়ে যুক্তি হলো সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং আগামী দিনে অর্থনীতির চাহিদা পূরণ। এর অংশ হিসেবে দক্ষতাসম্পন্ন ১০ লাখ মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ সব মিলিয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ শতাংশ। এর আগের বছর ছিল ৯৭ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যা জিডিপির ১.০১ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে ছিল ৩৪ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০.৫৭ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, ওষুধ ও টিকা সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং ১৪ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ রয়েছে।

বেকারত্ব কমানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ দ্রুত পূরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ কার্যক্রম জোরদার করতে ২১ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থান তথ্যকেন্দ্র চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ২ হাজার কোটি টাকার সহায়তা তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১২ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা এবং কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী, ক্রীড়া উন্নয়ন এবং নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণেও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৫ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬১ হাজার ১৩২ কোটি টাকা এবং কৃষি খাতে ৪৩ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, ব্লু ইকোনমি এবং স্টার্টআপ খাতের জন্য পৃথক বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ২০ বছর পর এটা বিএনপির প্রথম বাজেট। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানেরও প্রথম বাজেট। অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের সঙ্গে রয়েছে বৈশ্বিক অচলাবস্থা। জ্বালানির সংকট তো ভোগাচ্ছেই। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ডলারসংকট কিছুটা কমেছে। ফলে এত কিছুর মাঝে ভারসাম্য রেখে একটি কল্যাণমুখী বাজেট দেওয়া অত্যন্ত কঠিন বিষয়। এখানে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য খাত, বিনিয়োগ, ব্যবসা গুরুত্ব পেতে হবে। তবে বিএনপি হয়তো তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নকেই বেশি গুরুত্ব দেবে বলে মনে করেন তিনি।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হচ্ছে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হচ্ছে আজ
সংগৃহীত ছবি

যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। প্রতিবছর ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও এবার ঈদের ছুটি থাকায় দেশে আজ এই দিবস পালিত হতে যাচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় শাহাদাতবরণকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। সাকাল সাড়ে ৯টায় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার তাঁর বাণীতে বলেছেন, বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রম একটি অনন্য উদ্যোগ। বিশ্বের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত  সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাহসী শান্তিরক্ষী আত্মত্যাগ করেছেন তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাঁদের এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরক্ষী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, সর্বোচ্চসংখ্যক শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে মর্যাদাপূর্ণ স্থান অক্ষুণ্ন রেখে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম স্থানে ছিল।

এর আগেও কখনো প্রথম, কখনো দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের বহু গৌরবময় অধ্যায়ের অংশ বাংলাদশের শান্তিরক্ষীরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরানে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশ নেওয়া শুরু। এরপর ৩৮ বছরে বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের এক গর্বিত অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এই মিশনে দায়িত্ব পালন করছে ১৯৯৩ সাল থেকে।

বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন ১৯৮৯ সাল থেকে। ওই বছর নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ পরিবারের সদস্য হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের এক হাজার ৯২৮ জন নারী সদস্যসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন সদস্য ২৫টি দেশের ২৭টি শান্তি রক্ষা মিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের ৪৩টি দেশ ও স্থানে ৬৩টি জাতিসংঘ মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এসব মিশনে মোট দুই লাখ ছয় হাজার ৪৭৬ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে নারী শান্তিরক্ষী তিন হাজার ৬৪৫ জন। সেনাবাহিনী থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন এক লাখ ৬২ হাজার ৩৫ জন। বর্তমানে জাতিসংঘের ৯টি শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের চার হাজার ৪১২ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন।

শুরু থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ১৩৮ জন, নৌবাহিনীর চারজন, বিমানবাহিনীর ৯ জন এবং পুলিশের ২৪ জন। আহত হয়েছেন মোট ২৮৭ জন।

সরকারি কর্মকর্তাদের ২৫ হাজার ট্যাব বিতরণ | কালের কণ্ঠ