kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ১৭ মে ২০২২ । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩  

আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি?

আতাউর রহমান খসরু   

৬ মে, ২০২২ ০৯:০৯ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি?

রমজান মুমিনের জন্য আল্লাহভীতি ও নেক আমলের প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাস। পবিত্র রমজানে মুমিন চর্চার মাধ্যমে নেক আমলে অভ্যস্ত হয় এবং পরবর্তী মাসগুলোতেও তা পরিপালন করে। রমজানের নেক আমলগুলো যদি পরবর্তী সময়ে ত্যাগ করার অর্থই হলো রমজানের শিক্ষা ধারণে ব্যর্থ হওয়া।

কোরআনের নির্দেশনা : পবিত্র কোরআনে রমজান মাসে রোজা রাখার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা আল্লাহভীরু হতে পারো।

বিজ্ঞাপন

’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩)

উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহভীতি অর্জন করাকে রোজার রাখার উদ্দেশ্য বলা হয়েছে। আর তাকওয়া বা আল্লাহভীতি মুমিনের জন্য সব সময় আবশ্যক। আল্লাহভীতি ছাড়া পরিপূর্ণভাবে ঈমান ও ইসলামের ওপর চলা সম্ভব নয়। তাই কোরআনের শিক্ষা ও নির্দেশনা হলো মুমিন রমজানের ভালো গুণগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করবে।

ধারাবাহিকতা মুমিনের বৈশিষ্ট্য : আমলের ধারাবাহিকতা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। কেননা পবিত্র কোরআনে সেসব মানুষের নিন্দা করা হয়েছে, যারা আমল শুরু করার পর তা ছেড়ে দেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সেই (নির্বোধ) নারীর মতো হয়ো না, যে তার পাকানো সুতা শক্ত করে পাকিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে। ’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯২)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বলেন, ধারাবাহিক আমল। যদিও তা অল্প হয়। (সুনানে বায়হাকি, হাদিস : ৪২৪০)

মুমিনের আমৃত্যু প্রচেষ্টা : মুমিন মৃত্যু পর্যন্ত নিজের ঈমান ও আমলের উন্নতি এবং পরকালীন মুক্তির জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমার মৃত্যু উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার প্রতিপালকের ইবাদত কোরো। ’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৯৯)

রমজানের শিক্ষা ধারণের নানা দিক : রমজানের নেক আমল ও শিক্ষা জীবনে ধারণ করার তিনটি দিক রয়েছে। তা হলো—

১. আমল অব্যাহত রাখা : রমজানে মুমিন যেসব নেক আমল করেছে, রমজানের পরও তার ধারা অব্যাহত রাখা। যেমন—জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা, বেশি বেশি দান ও সদকা করা, কোরআন তিলাওয়াত করা, অসহায় মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা, সুযোগ হলে নফল রোজা রাখা ইত্যাদি। কেননা নেক আমল আল্লাহর অনুগ্রহকে ত্বরান্বিত করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমার দয়া—তা তো প্রত্যেক বস্তুতে ব্যাপ্ত। সুতরাং আমি তা তাদের জন্য নির্ধারিত করব, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, জাকাত দেয় ও আমার নিদর্শনে বিশ্বাস করে। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৫৬)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার। ’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৫৬)

২. ভালো গুণ ধরে রাখা : রমজান মুমিনকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও ক্ষমা দান শিক্ষা দেয় এবং মিথ্যা ও পাপাচার পরিহারের শিক্ষা দেয়। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা এবং সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তার এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০৩)

রমজানের পর মুমিন ভালো গুণাবলি অর্জন এবং মন্দ স্বভাব পরিত্যাগের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমরা ঈমান আনো...। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৩৬)

উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) লিখেছেন, আল্লাহ এখানে অর্জিত বিষয় অর্জনের নির্দেশ দেননি, বরং পূর্ণতা, দৃঢ়তা ও ধারাবাহিকতা অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। মুমিন ঈমানের বৈশিষ্ট্যে দৃঢ়তা অর্জন করবে এবং সর্বদা তার ওপর অটুট থাকবে। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

. রাতের ইবাদত : রমজানে মুমিনের জন্য রাতের ইবাদত করা তুলনামূলক সহজ হয়, বিশেষত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা। মুমিনের উচিত, রমজানের পরে রাতের ইবাদতগুলো অব্যাহত রাখা। কেননা রাতের ইবাদত, বিশেষত তাহাজ্জুদ আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাহাজ্জুদের নামাজে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা রাত অতিবাহিত করে তাদের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দণ্ডায়মান থেকে। এবং তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি দূর করুন, তার শাস্তি তো নিশ্চিত ধ্বংস। নিশ্চয়ই তা অস্থায়ী ও স্থায়ী আবাস হিসেবে নিকৃষ্ট। ’ (সুরা : ফোরকান, আয়াত : ৬৪-৬৬)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি রাতের বিভিন্ন প্রহরে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, আখেরাতকে ভয় করে এবং তাঁর প্রতিপালকের অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান যে তা করে না?’ (সুরা : ঝুমার, আয়াত : ৯)

সতর্কতা : আমলের ধারাবাহিকতা রক্ষায় মুমিন অবশ্যই এমন সব আমল বেছে নেবে, যা সে অব্যাহত রাখতে পারবে এবং যা তার স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যাহত করবে না। রাসুল (সা.) বলেছেন, হে মানুষ, যত আমল তোমরা স্থায়ীভাবে করতে সক্ষম, তত আমল করবে। কেননা আল্লাহ তাআলা তোমাদের ইবাদতের সওয়াব দিতে ক্লান্ত হবেন না; বরং তোমরাই ইবাদত-বন্দেগি করতে করতে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়বে। আর অল্প হলেও আল্লাহর কাছে স্থায়ী আমলই সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয়। (বর্ণনাকারী বলেন) মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারী ও বংশধররা যে আমল করতেন তা ধারাবাহিকভাবে সর্বদাই করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭১২)

আল্লাহ সবাইকে ভালো কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 



সাতদিনের সেরা