সরকারি হাসপাতালের মুসলিম স্বাস্থ্যকর্মীদের হিজাব পরার অনুমতি দিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। গত রবিবার (২৯ আগস্ট) সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং জাতীয় দিবসের এক বক্তব্যে এ কথা জানান। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের। খবরে জানা যায়, আগামী নভেম্বর থেকে দেশটির চিকিৎসাসেবায় নিযুক্তি মুসলিম নারী চিকিৎসকর্মী ও নার্সরা হিজাব বা স্কার্ফ পরতে পারবেন। মুসলিম নারীরা হিজাবকে গুরুত্বপূর্ণ পোশাক হিসেবে বিবেচনা করেন এবং অনেকে এটাকে গভীর বিশ্বাসের প্রকাশ মনে করেন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানান। এখনও সিঙ্গাপুরের অনেক সরকারি দায়িত্বপালনকালে নিজস্ব ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক। সেখানে নারীদের হিজাব বা অন্য কিছু পরা অনুমোদিত নেই। জাতীয় দিবসের সমাবেশে লি সিয়েন বলেন, বর্তমানে পুরো বিশ্বে বিশেষত সিঙ্গাপুরসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ইসলামের ধর্মীয় প্রবণতা বেশ শক্তভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিবর্তন ধীরে ধীরে আসছে। তবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বেশ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। আর মুসলিম নারীদের হিজাব পরার আগ্রহের কথাও সরকার উপলব্ধি করেছে। লি সিয়েন আরো বলেন, হিজাব পরা মুসলিম নারীদের দেখে অমুসলিমরা অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তা ছাড়া সিঙ্গাপুরের তরুণ প্রজন্ম ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র্যকে অন্যদের চেয়ে বেশি গ্রহণ করে। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রথমে নিশ্চিত করব যে, মুসলিম ও অমুসলিম সবাই পরিবর্তনের বিষয়টি উপলব্ধি করেছে। কারণ এ বিষয়টি শুধুমাত্র মুসলিমদের নয়, বরং তা দেশের জাতীয় ইস্যু। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির সাত হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী ইউনিফর্মের নতুন নীতি অনুসরণ করবে। ইউনিফর্ম হিসেবে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবায় নিযুক্ত মুসলিম নারীরা তা পরতে পারবেন। সিঙ্গাপুরের সশস্ত্র বাহিনী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হোম টিম একাডেমি ও অন্যান্য পরিষেবাগুলো আগের মতো নিজস্ব ইউনিফর্ম পরবে। সূত্র : দ্য স্ট্রেইট টাইমস