kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

উত্তম পন্থায় প্রতিবাদের নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ নভেম্বর, ২০২০ ১০:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উত্তম পন্থায় প্রতিবাদের নির্দেশনা

মহান আল্লাহ মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। একেকজনকে একেক রঙে একেক ভাষায়। কেউ আরবি কেউ অনারবি। কেউ নরম প্রকৃতির আবার কেউ স্বভাবগত একটু গরম। তিনি সব প্রকৃতির মানুষ দিয়ে এ ভুবন সাজিয়েছেন। জমিন যেমন বিভিন্ন ধরনের—কোনো অংশ উর্বর আবার কোনো অংশ অনুর্বর। তেমনি মানব প্রকৃতিও বিভিন্ন আকৃতির ও প্রকৃতির। কেননা আদি পিতা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে নানা রঙের মাটি দিয়ে।

আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, `নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম (আ.)-কে একমুঠো মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা তিনি সমগ্র পৃথিবী থেকে নিয়েছিলেন। তাই আদম সন্তান মাটির বিভিন্ন বর্ণ ও প্রকৃতি অনুসারে হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ লোহিত, কেউ সাদা, কেউ কালো এবং কেউ এসবের মধ্যবর্তী বর্ণের। একইভাবে কেউ কোমল, কেউ কঠোর এবং কেউ অসৎ ও কেউ সৎ।' (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৬৯৩)

তাই অন্যের সব কথা পছন্দ হওয়া আবশ্যক নয়; বরং বৈচিত্র্যপূর্ণ হওয়া স্বাভাবিক। চিন্তার পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। সুতরাং নিজের মতামত জোর করে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কখনো ন্যায়সংগত হতে পারে না। প্রতিবাদ অবশ্যই হতে হবে মার্জিত ও যৌক্তিক পন্থায়। অনেকে এ ক্ষেত্রে পদস্খলনের শিকার হয়। অথচ আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের জন্য এর উত্তম নিদর্শন রেখে গেছেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিকৃষ্টতম সুদ হচ্ছে কোনো মুসলমানের ইজ্জত সম্মান নষ্ট করা।’ (আল মুজামুল আওসাত : ৭১৫১)

এর মানে এটা নয় যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যাবে না। বরং প্রতিবাদ হবে শালীন ভাষায়। আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে ফেরাউনের কাছে দাওয়াত নিয়ে পাঠানোর যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা হচ্ছে তাকে দাওয়াত দেওয়ার সময় যেন নম্রতা অবলম্বন করা হয়। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বলো, হয়তো সে চিন্তা-ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৪৪)

এ আয়াত থেকে বোঝা যাচ্ছে, প্রতিপক্ষ যতই অবাধ্য ও ভ্রান্ত চিন্তাধারী হোক, তার সঙ্গে হিতাকাঙ্ক্ষার ভঙ্গিতে নম্রভাবে কথাবার্তা বলতে হবে। এরই ফলে সে কিছু চিন্তা-ভাবনা করতে বাধ্য হতে পারে এবং তার অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হতে পারে।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আপন পালনকর্তার পথে আহ্বান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে এবং উত্তমরূপে উপদেশ শুনিয়ে। আর তাদের সঙ্গে বিতর্ক করুন পছন্দনীয় পন্থায়।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১২৫)

আয়েশা (রা.) বলেন, একবার একদল ইহুদি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘আসসামু আলাইকা। (তোমার মরণ হোক)।’ আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি এ কথার অর্থ বুঝে প্রত্যুত্তরে বললাম, ‘আলাইকুমুস সামু ওয়াল লানাতু। (তোমাদের মৃত্যু হোক এবং তোমাদের ওপর লানত)।’ রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে আয়েশা! তুমি থামো। আল্লাহ সর্বাবস্থায় নম্রতা পছন্দ করেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! তারা যা বলল তা কি আপনি শোনেননি? রাসুল (সা.) বলেন, এ জন্যই আমিও বলেছি, ‘ওয়া আলাইকুম (তোমাদের ওপরও)।’ (বুখারি, হাদিস : ৬২৫৬)

আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, একবার আমি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে হাঁটছিলাম। তখন তাঁর গায়ে একখানা গাঢ় পাড়যুক্ত নাজরানি চাদর ছিল। এক বেদুইন তাঁকে পেয়ে চাদরখানা ধরে খুব জোরে টান দিল। আমি নবী (সা.)-এর কাঁধের ওপর তাকিয়ে দেখলাম, জোরে চাদরখানা টানার কারণে তাঁর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। তারপর বেদুইন বলল, হে মুহাম্মদ! তোমার কাছে আল্লাহর দেওয়া যে সম্পদ আছে, তা থেকে আমাকে দেওয়ার আদেশ করো। তখন নবী (সা.) তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু দান করার আদেশ করলেন। (বুখারি, হাদিস : ৬০৮৮)। এই ছিল আমাদের প্রিয় নবীর অনুপম আদর্শ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা