• ই-পেপার

করোনাভাইরাস পুরুষ নাকি স্ত্রী? লিঙ্গ নিয়ে টানাটানি ফরাসিদের!

মানুষের গলা যখন বিমানের সাথে পাল্লা দেয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
মানুষের গলা যখন বিমানের সাথে পাল্লা দেয়
প্রতীকী ছবি/ এআই দিয়ে তৈরি

একজন মানুষ কত জোরে চিৎকার করতে পারে? একজন সাধারণ মানুষ গড়ে ৯২ ডেসিবেল পযন্ত চিৎকার করতে পারে। আর স্বাভাবিকভাবে মানুষের কান ৭০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ সইতে পারে। তাই বলে ১২২ দশমিক ৪ ডেসিবেল! বিশ্বাস করতে কষ্ট হতে পারে। ডেসিবেলের হিসেবে বুঝতে হয়তো অসুবিধা হতে পারে। ১২২ ডেসিবেল মানে একটি জেট বিমানের উড্ডয়ন বা কাছ থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের আওয়াজ শোনার অভিজ্ঞতা। অতি মানবিক এই আওয়াজ বেরিয়েছে একজন মানুষের গলা থেকেই।

অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরার বাসিন্দা জোসেফ ম্যাকগ্রেল-বেটাপ ১২২ দশমিক ৪ ডেসিবেল জোরে চিৎকার করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। ম্যাকগ্রেল একজন এয়ার কন্ডিশনার পরিচ্ছন্নতাকমী। উচ্চকণ্ঠের কারণে তাকে শহরের ঘোষক হিসেবেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অবশ্য এই নিয়োগটি সম্মানসূচক।

গত সপ্তাহে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ৫৮ বছর বয়সী ম্যাকগ্রেলের চিৎকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি ‘নাও’ বলে চিৎকার করেছিলেন, যা ১২২ দশমিক ৪ ডেসিবেল শব্দ তৈরি করে। বিশ্ব রেকর্ড গড়ার জন্য তাকে ৭ বার চেষ্টা করতে হয়েছে। এর  আগে এই রেকর্ডটি ছিল উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্কুলশিক্ষিকা অ্যানালিসা ফ্ল্যানাগানের। ১৯৯৪ সালে তিনি ‘কোয়ায়েট’ বলে চিৎকার করেছিলেন, যা ১২১ দশমিক ৭ ডেসিবেল শব্দ সৃষ্টি করেছিল।

বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর ম্যাকগ্রেল-বেটাপ মঙ্গলবার বলেন, ’প্রশিক্ষণ নিয়ে বা অনুশীলন করে এটা করা সম্ভব নয়। আপনাকে কেবল বিশেষ করে বিশ্বরেকর্ড চেষ্টার দিনটির জন্যই এটি জমিয়ে রাখতে হবে।’ বিশ্বরেকর্ড গড়তে ৭ বার উচ্চস্বরে ‘নাও’ বলতে গিয়ে পরের কয়েকদিন ম্যাকগ্রেলের গলা ভেঙ্গে গিয়েছিল, কণ্ঠস্বর কর্কশ হয়ে গিয়েছিল। অভিজ্ঞতাটি তার জন্য ভয়াবহ হলেও এটি করে বেশ মজা পেয়েছেন ম্যাকগ্রেল।

ম্যাকগ্রেল-বেটাপ অবশ্য নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠের ব্যক্তির চেয়ে বরং বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠের পুরুষ হিসেবে  বিবেচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এর আগে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠের পুরুষের কোনো রেকর্ড ছিল না।

ম্যাকগ্রেল বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে তিনি (ফ্ল্যানাগান) তার রেকর্ডটি ধরে রাখতে পেরেছেন। সুতরাং তিনি এখনও বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠের নারী এবং আমি বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠের পুরুষ।’

২০১৭ সালে ক্যানবেরার অফিসিয়াল ঘোষক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি প্রতিযোগিতামূলকভাবে উচ্চকণ্ঠী হয়ে ওঠেন। এটি স্থানীয় সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি সম্মানসূচক এবং খণ্ডকালীন ভূমিকা, যাকে তিনি ’একটু মজা’ হিসেবে বিবেচনা করেন। শহরের ঘোষক হিসেবে তার নাম 'লর্ড জোসেফ'।

তিনি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, স্কুলের মেলা এবং গাড়ি প্রদর্শনীতে ঘোষণা দেন। ম্যাকগ্রেল-বেটাপ জানান, শহরের ঘোষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এ ব্যাপারে আগের রেকর্ড খুঁজতে গিয়ে তিনি ঘটনাক্রমে ফ্ল্যানাগানের রেকর্ডের সন্ধান পান।

বিশ্বরেকর্ডের চেষ্টার জন্য ‘নাও’ শব্দটি চূড়ান্ত করার আগে তিনি বেশ কয়েকটি শব্দ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন। গত ২ মে ক্যানবেরার একটি রেডিও স্টুডিওতে একজন পেশাদার শাব্দিক প্রকৌশলী সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার ‘নাও’ চিৎকার রেকর্ড করেছিলেন। ফাইলগুলো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কাছে পাঠানো হয়, যারা গত শুক্রবার ম্যাকগ্রেলের রেকর্ডটি ঘোষণা করে।

এর আগেও ম্যাকগ্রেল-বেটাপ আরেকটি বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি ৬০.০৩ সেকেন্ডে ১০টি তীর ছুড়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। তবে নয় মাস পর, ৭ বছর বয়সীেএক ছেলে ম্যাকগ্রেল-বেটাপের রেকর্ডটি ১১.৪ সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেঙ্গে দেয়। তবে তীরন্দাজির রেকর্ডটি পুনরুদ্ধার করতে বা চিৎকারের রেকর্ডটি ধরে রাখার ব্যাপারে ম্যাকগ্রেলের তেমন আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, ’কেউ যদি আমাকে ছাড়িয়ে যায়, তবে তা চমৎকার হবে। রেকর্ড তো গড়াই হয় ভাঙার জন্য।’

খুলনা বিভাগীয় সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা ২৭ জুন

অনলাইন ডেস্ক
খুলনা বিভাগীয় সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা ২৭ জুন
সংগৃহীত ছবি

খুলনা বিভাগীয় সমিতি ঢাকার কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২৬-২৮ এর প্রথম সভা শনিবার (২৭ জুন) অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন বিকেল সাড়ে ৫টায় এরিস্টোক্র্যাট রিসোর্ট (পূর্বাচল বাণিজ্য মেলার সন্নিকটে এবং এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়ক সংলগ্ন) রাথুরা, উলুখোলায় অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ আলি আজগার লবি এমপি। খুলনা বিভাগীয় সমিতি ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম সভায় উপস্থিত থাকার জন্য সদস্যদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।

মার্কিন মুলুকের কাহিনি

ককেশিয়ান এক নারীর বিচিত্র জগৎ!

ড. রশিদ উল আহসান চৌধুরী
ককেশিয়ান এক নারীর বিচিত্র জগৎ!
সংগৃহীত ছবি

মিনেসোটার ডাউন টাউন মিনিয়াপলিস থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে ছিমছাম সুন্দর ছোট্ট উপশহর বারন্সভিলের অবস্থান। এই ছোট শহরটার আয়তন প্রায় ২৭ বর্গমাইল। আর এখানেই ১৭৬০ একর জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মোট ৭৬টি পার্ক। ফলে বারন্সভিল শহরের যেকোনো জায়গায় বসবাসরত যেকোনো নাগরিক বাসা থেকে বেরিয়ে কয়েক কদম হাঁটলেই একটা পার্কের সন্ধান পেয়ে যাবেন। এতগুলো পার্কের মধ্যে একটি পার্ক নিকলে এভিনিউয়ের পাশ ঘেঁষে ৭৬ একর জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর নাম ক্রস টাউন ওয়েস্ট পার্ক। এই পার্কে আছে হাঁটার জন্য লম্বা একটা ট্রেইল। আছে মাঝারি সাইজের দুটো লেক। আর সারা পার্কজুড়ে ছড়িয়ে আছে এলম, গ্রিন অ্যাশ, ম্যাপেল, বার্চ, ওক ও জানা-অজানা হরেক রকমের গাছ গাছালি।

পার্কের ভেতর হাঁটাচলা করলেই গভীর বনে হাঁটার অনুভূতিটা সহজেই পাওয়া যায়। সারা সামার জুড়ে লেক দুটোর টইটুম্বুর স্বচ্ছ কালচে নীল জলে বিচরণ করে এক ঝাঁক বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস, মিনি আকারের কচ্ছপ আর বেশ কিছু সাদা আর খয়েরি রঙের বক; যাদের মূল উদ্দেশ্য লেক থেকে মাছ শিকার করে উদরপূর্তি করা। ট্রেইলের আশপাশের জঙ্গলে বিচরণ করে অসংখ্য কাঠবিড়ালি আর ছাই রঙের খরগোশ। মাঝে মাঝে এক রঙা হরিণ এবং টার্কি প্রজাতির মোরগেরও দেখা মেলে।

এক দিন এই ট্রেইল দিয়ে হাঁটতে গিয়ে লেকের মাঝ বরাবর উঠে যাওয়া কাঠের পাটাতনের ব্রিজে দাঁড়িয়ে এক ককেশিয়ান মহিলাকে দেখতে পেলাম। তিনি পরম মমতায়, নিবিষ্ট মনে একটা প্যাকেট থেকে ওটের তৈরি রুটি বের করে পানিতে ছুড়ে ফেলছেন। আর ব্রিজের নিচে এক দঙ্গল খাদ্য রসিক হাঁস সেগুলো কবজা করতে চারদিকে পাঁয়তারা করছে। এর মাঝে বেশ কয়েকটা মিনি কচ্ছপ পানির নিচে সাঁতরাতে সাঁতরাতে খোল থেকে মুখটা পানির ওপরে তুলে ওটের টুকরোগুলো ধরতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হাঁসগুলোর দাপট আর দ্রুত গতির কারণে তাদের সব প্রচেষ্টাই বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। 

আরেক দিন দেখি সেই মহিলাই একটা ব্যাগ হাতে ট্রেইল ধরে ধীর গতিতে হেঁটে যাচ্ছেন আর তার পেছনে পেছনে এক ঝাঁক হাঁস প্যাক প্যাক শব্দ করে তাকে অনুসরণ করছে। একদম যেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা আর তার অনুগত অনুসারী। কোনো কোনো দিন দেখি প্রচণ্ড বাতাসের কারণে রাস্তাজুড়ে পরে থাকা গাছের ভাঙা ডাল আর লতা পাতাগুলো সরিয়ে পরম যত্নে রাস্তার পাশে সরিয়ে রাখছেন। আবার কোনো কোনো দিন দেখি পার্কের বেঞ্চে তিনি ধ্যানরত ঋষির মতো নির্বাক হয়ে বসে আছেন আর তার পায়ের আশপাশে বেশ কয়েকটা কাঠবেড়ালি আর খরগোশ ঘুরে ঘুরে রাস্তা থেকে খাদ্য দানা তুলে নিয়ে উদরস্ত করছে। মানুষ আর প্রাণীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দেখে বিস্মিত হই। ধারণা করি, এই মহিলা নিশ্চিত পার্কের কোনো কর্মকর্তা হবেন। কিন্তু আমার ধারণা ভ্রান্ত ছিল।

বাঙ্গাল আর মার্কিনিদের সাংস্কৃতিক আচার ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রেই বিপরীতধর্মী। এখানে ট্রেইল ধরে হাঁটার সময় পাশ দিয়ে অতিক্রম করে যাওয়া মার্কিনিরা মৃদু হাসি দিয়ে ‘হাই’ শব্দটা উচ্চারণ করে। আর আবহাওয়া চমত্কার হলে ‘নাইস ওয়েদার’ বা ‘লাভলি ডে’ এ ধরনের মন্তব্য করে পাশ কেটে বেরিয়ে যায়। মার্কিনিদের এ ধরনের ব্যবহার ভালো লাগে আর মনটাকে করে তোলে প্রফুল্ল। তেমনি  দারুন এই মহিলার সাথে হাই হ্যালো করতে করতে একদিন পরিচয় হয়ে গেল। নাম তার প্যাটরিসিয়া লিলি। তুলা রাশির জাতিকা এই মহিলার জন্ম ১৯৫৩ সালের অক্টোবর মাসের ১৮ তারিখ বরফ ঝরা এক শীতের রাতে। মহিলা একজন পাক্কা মিনেসোটিয়ান। অর্থাত্ এই মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন, শৈশব, কৈশোর আর যৌবনে এখানেই বেড়ে উঠেছেন। বিয়ে, চাকরিবাকরি করে এখানেই থিতু হয়েছেন। এখন অনেক দিন ধরে একাকী অবসর কাটাচ্ছেন। পার্কের অতি নিকটেই তার নিজের বাড়ি, এখন তিনি সেখানেই থাকেন। অবাক বিষয় হলো তিনি কখনোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সফর করেননি এবং অনেক মার্কিনির মতো বহিঃবিশ্ব সম্পর্কে তার ধারনা একেবারেই সীমিত।

প্যাটরিসিয়া খোদ রাজধানী মিনিয়াপলিসের কেন্দ্র সেন্টপলে জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন। বেবি বুমার জেনারেশনে জন্মগ্রহণকারী এই মহিলার ছিল আরো সাত ভাই বোন। বাবা ছিলেন একজন সেলসম্যান আর পরিবারের আকার ছিল যথেষ্ট বড়। তাই পরিবারের কষ্ট লাঘব করতে হাই স্কুল পার হয়েই স্বাধীন জীবিকা অর্জনের জন্য  মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্যাটরিসিয়া ঘর  হতে বেরিয়ে পরেন। আকাশ পথে উড়ালের স্বপ্ন তার অনেক দিনের। তাই এয়ারলাইনসে এয়ার হোস্টেসের চাকরি নিয়ে বহু বছর আমেরিকার আকাশ পথে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়িয়েছেন। পরে এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে চাকরি ছেড়ে দেন এবং নিজেকে হোম মেকারে রূপান্তরিত করেন। দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে তার একটা ছেলেসন্তানও জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে লাঙ্গ ক্যানসারে ছেলে মৃত্যুবরণ করে। ছেলের মৃত্যুর পর প্যাটরিসিয়া মানব কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে কেয়ার গিভারের চাকরি গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে অসংখ্য প্রবীণ দম্পতির দেখভাল করেন। অবসর গ্রহণের পর বর্তমানে তিনি তার সাধ্যের মধ্যে প্রাণপরিবেশ রক্ষায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।

প্রাণিকুলের প্রতি নিবেদিত প্রাণ এই নারী ছোটবেলা থেকেই বিপন্ন এবং অকুলে ডোবা প্রাণীদের বিভিন্ন জায়গা থেকে খুঁজে বের করে নিজের বাসস্থানে নিরাপদ আশ্রয় দিতেন। এই তালিকা খুবই লম্বা আর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে অসংখ্য প্রাণী। যেমনঃ  কুকুর, বেড়াল, খরগোশ, টিয়া এবং গিনিপিগ। প্যাটরিসিয়ার যুক্তি খুবই সরল-প্রাণীরা অবলা। বিশেষ করে তারা যখন সংকটে পরে, তখন তাদের দেখভাল করার কেউ থাকে না। কাজেই মানবকুলের দায়িত্ব অবলা এই প্রাণীদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খোলা মনে এগিয়ে আসা। প্রাণীদের কেবল খাবার দিলে হবে না, তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য পরিবেশের যত্ন নিতে হবে। পরিবেশকে নিরাপত্তা দিলেই প্রাণীরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারবে। পার্কের কোনো বেতনভোগী কর্মকর্তা না হয়েও কেবল এ যুক্তিতে ভদ্রমহিলা পার্কের পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে অষ্টমের পেয়াদার মতো প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। খ্রিস্টান ক্যাথলিক ধর্ম পালনকারী প্যাটরিসিয়া তার এই কল্যাণমুখী কাজের জন্য ধর্মীয় নির্দেশাবলিকে সব চেয়ে বড় অনুপ্ররণা বিবেচনা করেন, আর প্রায়ই বলেন, জেসাস সেজ লাভ দাই নেইবার, বি ইট আ হিউম্যান বিং অর এন অ্যানিম্যাল। 

আর দশটা সাধারণ মার্কিনির মতো প্যাটরিসিয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে মোটেই মাথা ঘামায় না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কী ধরনের ঘটনা ঘটছে, সে বিষয়ে তার একেবারেই কোনো ধারণা নেই। তার চিন্তাভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি সব কিছুই ঘুরপাক খায়  মার্কিন মুলুক নিয়ে। এর বাইরে যে বিশাল একটা জনগোষ্ঠী আর বহু দেশের অস্তিত্ব আছে সে সম্পর্কে তার ইষৎ ধারণা আছে। কিন্ত  নেই একবিন্দুও কৌতূহল। এ ক্ষেত্রে সে সাধারণ মার্কিনিদের চিন্তাভাবনার আদর্শ প্রতিবিম্ব। প্যাটরিসিয়া লিলি অবশ্যই জানে বিশ্বে অনেক দেশ আছে যেগুলো অনুন্নত এবং ভঙ্গুর। এ দেশগুলোর জনগণ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। তাই সে মনে করে উন্নত দেশগুলোর উচিত পৃথিবীর সব সম্পদের সুষম বণ্টন করে আদর্শিকভাবে একটা ইউটোপিয়ান বিশ্ব সৃষ্টি করা। তবে সম্পদের সুষম বণ্টন কিভাবে করা যায়, আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে স্বল্প ধারণা থাকায়, সে যথাযথ বিশ্লেষণ করতে পারে না। দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশ সম্পর্কে প্যাটরিসিয়া লিলির কোনো ধারণা নেই। গুগল ম্যাপ আর ইন্টারনেট খুলে তাকে জ্ঞান দিতে হল। আর যখনই বলা হলো বাঙালি সমাজের সংস্কৃতি, ধ্যান-ধারণা, জীবনযাপন ও আচার-ব্যবহার অনেকাংশে মার্কিনিদের বিপরীতমুখী। কেন জানি তখন সে অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে বাংলাদেশকে দেখার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করল। সুযোগ-সুবিধা মতো তাকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানাব। এই অপেক্ষায় আছি।  

লেখক : বিশেষ লেখক, কালের কণ্ঠ, যুক্তরাষ্ট্র

সন্তান জন্মের পর বাবার জীবনেও আসতে পারে বিষণ্নতার ঝড়

সঞ্জয় দে
সন্তান জন্মের পর বাবার জীবনেও আসতে পারে বিষণ্নতার ঝড়
সংগৃহীত ছবি

একজন নারীর মা হয়ে ওঠার পরের অধ্যায়টি একদিকে যেমন আনন্দের, তেমনি বহু চ্যালেঞ্জে ভরপুর। এসব নিয়ে গবেষণা, আলোচনা, তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। তবে যে পুরুষ বাবা হয়ে ওঠেন, তার জীবনেও আছে রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা যেমন নেই, তেমনি আছে সচেতনতার অভাব। কারণ ধরেই নেওয়া হয় পুরুষ মানেই শুধু আধিপত্যের গল্প। সংকট, দুর্বলতা অথবা চ্যালেঞ্জের কোনো জায়গা নেই একজন পুরুষের জীবনে। 

তবে আধুনিক সময়ের গবেষণা বলছে, পুরুষের জন্যও পিতৃত্ব সহজ কিছু নয়। সন্তানের জন্ম শুধু নারীকে বদলে দেয় না, পুরুষের জীবনেও গভীর জৈবিক, মানসিক ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। দুই দশকের বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বাবা হওয়ার পর পুরুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, এমনকি সামাজিক ভূমিকাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

সন্তান প্রসবের পর অনেক নারীর পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি অনেকেরই জানা। এই বিষণ্নতা কখনো কখনো গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিনের বিষণ্নতা, উদ্বেগ, ক্লান্তি ও আবেগগত অস্থিরতায় ভুগে আত্মহনন কিংবা সন্তানকে হত্যার মতো ঘটনাও বিরল নয়। 

সাম্প্রতিক বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের পাশাপাশি বাবারাও সন্তানের জন্ম-পরবর্তী বিষণ্নতা বা প্যাটার্নাল পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগতে পারেন। শুধু তা-ই নয়, বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও চমকে ওঠার মতো। আবার বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা প্রায় শূন্যের কোটায় থাকায় পিতৃত্বের জগতে পা রাখা পুরুষের জীবনে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাবারা এমন এক সময়ে গিয়ে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হন, যখন মায়েরা সন্তান জন্মদানের প্রাথমিক ধকলের পর্ব পার করে ফেলেছেন। ফলে তখন বাবাদের বিষণ্ন জীবন শুরু হলেও বিষয়টিকে সন্তানের জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে অনেকে ভাবতে পারেন না। এতে ধীরে ধীরে জটিল হতে পারে বাবাদের মানসিক সমস্যা। 

আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জেএএমএ নেটওয়ার্ক জার্নালে চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, বাবাদের বিষণ্নতা ও স্ট্রেসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অপ্রত্যাশিত একটি সময়ে বাড়তে থাকে। সন্তান জন্মের পর প্রথম বছরের শেষভাগে ৩০ শতাংশ বাবার ক্ষেত্রে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। 

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সারা বিশ্বে ২৯ থেকে ৪০ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভোগেন। বাংলাদেশে এই হার প্রায় ৩৯.১ শতাংশ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেদিক থেকে বৈশ্বিক বিভিন্ন গবেষণায় বাবাদের মধ্যে এই জটিলতায় আক্রান্তের হার ৩০ শতাংশ হওয়ার বিষয়টিও বেশ উদ্বেগজনক।   

গবেষকেরা ২০০৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সুইডেনে জন্ম নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি শিশুর বাবাদের তথ্য পর্যালোচনা করে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছেন। দেখা গেছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকার সময় এবং জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসে বাবাদের মধ্যে বিষণ্নতা রোগের লক্ষণ প্রকাশ হওয়ার মাত্রা বেশ কম। তবে সন্তান জন্মের এক বছর পর অনেকের ক্ষেত্রে জটিলতা স্পষ্ট হতে শুরু করে। এ কারণে রোগটির সঙ্গে সন্তান জন্মের যোগসূত্র অনেকে ধরতে পারেন না। আর তাই বাবারা থাকেন সবার মনোযোগ, যত্ন ও সহমর্মিতার বাইরে।     

বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের নর্থওয়েল হেলথের সমন্বিত পরিচর্যা কর্মসূচির মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. খাতিয়া মুন বেশ উদ্বিগ্ন। তিনি বলছিলেন, ‘নতুন সন্তানের আগমন মা-বাবা দুজনের জীবনেই ব্যাপক পরিবর্তন ও চাপ নিয়ে আসে। এ ক্ষেত্রে মায়ের স্বাস্থ্য কিছুটা গুরুত্ব পেলেও বাবার মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটি সাধারণত সবার অলক্ষে থেকে যায়।’

তিনি বলেন, ‘বাবাদের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাস্তবে তেমনটি খুব দেখা যায় না। আমরা আরো বেশি পরীক্ষা চালাতে পারলে হয়তো সংগ্রামরত বাবাদের শনাক্ত করে সহায়তা দিতে পারতাম।’

ডা. মুন মনে করছেন, সন্তান জন্মের পর সাধারণত নতুন মা ও শিশু সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। এতে করে পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা নজর এড়িয়ে যাওয়া ঝুঁকিতে পড়ে। তিনি বলেন, ‘গর্ভধারণ করা মা ও নবজাতকের দুর্বল অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাবারা অনেক সময় বেশি চাপের মধ্যে পড়েন। সহায়তাকারীর ভূমিকা নিতে গিয়ে তাদের ওপর ধীরে ধীরে মানসিক চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই ভূমিকা পালন করাও কঠিন হয়ে ওঠে।’

গবেষণা নিবন্ধটির প্রধান লেখক ডংহাও লু মনে করেন, সন্তান জন্মের পর মায়ের পাশাপাশি বাবার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নের দিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। গবেষণার ফল তুলে ধরে তিনি বলছেন, ‘বাবাদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার চিত্রটি খানিকটা পরে দেখা যায়। এ জন্য সন্তান জন্মের অনেক পরেও বাবাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির সংকেতগুলোর দিকে সতর্ক নজর দেওয়া প্রয়োজন।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তানের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে বেশির ভাগ পুরুষের মধ্যে দায়িত্ববোধের বোঝা চেপে বসে। সেই সঙ্গে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা, পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়ার চাপ, এমনকি নিজের ক্যারিয়ার ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা নিয়ে উদ্বেগও বাড়তে পারে। আবার বিভিন্ন গবেষণায় শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত অনেক বাবার ঘুমের মান ও ঘুমের সময়—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ফলে ক্লান্তি, মনোযোগে ঘাটতি, ও কর্মক্ষমতায় ছেদ ঘটতে পারে। এর সবই শেষপর্যন্ত প্রভাব ফেলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। 

শিকাগোর ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের এক গবেষণাতেও বাবাদের পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনকে গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়, বাবার বিষণ্নতা শনাক্ত ও চিকিৎসা করা গোটা পরিবারের জন্যই জরুরি। এর ফলে তার সঙ্গী ও সন্তানের সঙ্গেও সম্পর্কের উন্নতি ঘটে এবং সামগ্রিকভাবে পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো হতে পারে।

এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ২৪ জনের মধ্যে ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রেই সন্তান জন্মের ১ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৩১ বছর। তারা সবাই ২০২০ সালে স্ত্রী ও নবজাতকের স্বাস্থসেবার জন্য শিকাগোর ইউআই হেলথ টু-জেনারেশন ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের গবেষকেরা এ সময় দেখতে পান, এই বাবারা মা এবং সন্তানের স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপারে বেশ যত্নশীল, কিন্তু তারা নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা করছেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন, তারা নিজেদের খারাপ অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে দ্বিধা বোধ করেন। কারণ তাদের আশঙ্কা, এগুলো প্রকাশ করলে সন্তানের মায়ের ওপর আরও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। 

কিছু গবেষণায় দেখা যায়, পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন সাধারণভাবে প্রায় ৮ থেকে ১৩ শতাংশ বাবাকে আক্রান্ত করে। তবে সন্তানের মাও এই রোগে আক্রান্ত হলে বাবাদের মধ্যে আক্রান্তের হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ নবজাতক ও মায়ের সেবাযত্নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত বাবারাই পরে বিষণ্নতা রোগে আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। 

ডা. মুন বলছেন, বাবা হওয়ার বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পুরুষকেও প্রচণ্ড সংগ্রাম করতে হয়। তাই মায়ের পাশাপাশি বাবাদের প্রতিও সমাজ ও পরিবারের সহমর্মী হওয়া উচিত। পুরুষ দৃশ্যত শক্তিধর হলেও তারও মানসিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। তারা সহায়তা না পেলে শেষপর্যন্ত পরিবারের অন্যকে সাহায্য করার ভূমিকাও ঠিকমতো পালন করতে পারে না।

বাবাদের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যেকোনো উদ্বেগ বা উপসর্গের প্রতি মনোযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন ডা. মুন। পুরুষের সংকটের বিশেষ আরেকটি দিক তুলে ধরে তিনি বলছেন, ‘গর্ভবতী অথবা নতুন মা অনেক বেশি চিকিৎসাসেবা, লোকজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ পান। বাবাদের ক্ষেত্রে এটি ঘটে না। কারণ পুরুষ এসব বিষয় নিয়ে নিজেদের পরিসরে তেমন আলোচনা করে না। এগুলো নিয়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলার প্রবণতাও তার কম।’ 

আর তাই নতুন সন্তানের জনকদেরও নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন ডা. মুন। এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা একদিকে যেমন নিজেদের পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করবেন, তেমনি যেকোনো মানসিক সংকট বা জটিলতায় পরস্পরের দিকে বাড়িয়ে দেবেন সহযোগিতার হাত।