• ই-পেপার

আজ ২৫ মার্চ, দিনটি কেমন যাবে আপনার?

প্রতিদিন লবঙ্গ খেলে মেলে যত উপকার

জীবনযাপন ডেস্ক
প্রতিদিন লবঙ্গ খেলে মেলে যত উপকার
সংগৃহীত ছবি

একটি ছোট শুকনো ফুলের কুঁড়ি ‘লবঙ্গ’। এই কুঁড়ি শুধু খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধই বাড়ায় না, এতে রয়েছে বহু স্বাস্থ্যগুণও। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লবঙ্গ ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকের প্রতিদিন এক থেকে দুইটি লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে লবঙ্গ খেলে শরীরের বিভিন্ন উপকার হতে পারে।

কেন প্রতিদিন লবঙ্গ চিবানো সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যে সহায়ক হতে পারে তা নিয়ে কন্টিনেন্টাল হসপিটাল এই প্রতিবেদন করেছে।

llll

লবঙ্গ কী?

লবঙ্গ আসে লবঙ্গ গাছের শুকনো ফুলের কুঁড়ি থেকে। এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং ইউজেনলের মতো প্রাকৃতিক যৌগ। এসব উপাদানই লবঙ্গের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য দায়ী।

যত পুষ্টিগুণ 

লবঙ্গ একটি ছোট শুকনো ফুলের কুঁড়ি হলেও শক্তিশালী পুষ্টিগুণে ভরপুর। ভারতীয় উপমহাদেশে নানা পদের রান্না ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় এর নিরাময়কারী গুণের জন্য লবঙ্গ ব্যবহার হয়ে আসছে। রান্না, ভেষজ চিকিৎসা, দাঁতের যত্ন এবং হজমজনিত সমস্যার চিকিৎসায় লবঙ্গ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তবু সরাসরি লবঙ্গ চিবানো এর প্রাকৃতিক গুণাগুণ গ্রহণের সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি।

পুষ্টিগুণগুলো হলো—অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, খাদ্য আঁশ (ফাইবার), ম্যাঙ্গানিজ।


প্রতিদিন লবঙ্গ খেলে যত উপকার মেলে

লবঙ্গ প্রতিদিন এক বা দুটো চিবিয়ে খেলে স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকার বয়ে আনে। এতে প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে। এই সমৃদ্ধ পুষ্টি উপাদানের কারণে লবঙ্গের উপকারিতা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে।

  • হজমে সহায়ক

লবঙ্গের অন্যতম পরিচিত উপকারিতা হলো হজমে সহায়তা করা। লবঙ্গ চিবালে হজমকারী এনজাইমের কার্যক্রম বৃদ্ধি পায় এবং পেট ফাঁপা, গ্যাস ও বদহজম কমাতে সাহায্য করে।

খাওয়ার পর যদি প্রায়ই পেটে ভারীভাব অনুভূত হয়, তাহলে লবঙ্গ পাকস্থলীর কার্যক্রম উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। এর প্রাকৃতিক উপাদানগুলো খাবার হজম সহজ করে এবং পুষ্টি শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে।

  • মুখ ও দাঁতের সুরক্ষায়

দাঁতের যত্নে লবঙ্গের ব্যবহার নতুন নয়। লবঙ্গে থাকা ইউজেনল নামের উপাদানে রয়েছে প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক বৈশিষ্ট্য। এটি মুখের দুর্গন্ধ কমতে পারে, মাড়ির সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে, দাঁতের ব্যথা উপশমে সহায়তা করতে পারে, মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া কমাতে পারে।

লবঙ্গের এসব উপকারিতার কারণে অনেক টুথপেস্টে ও মাউথওয়াশেও লবঙ্গের নির্যাস ব্যবহার করে।

  • রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক

লবঙ্গে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে। এই ফ্রি র্যাডিক্যাল কোষের ক্ষতি করতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে।

তাই নিয়মিত লবঙ্গ চিবালে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হতে পারে এবং শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে আরও কার্যকরভাবে লড়াই করতে পারে।

  • প্রদাহ কমাতে ভূমিকা

শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। লবঙ্গে থাকা প্রদাহনাশক উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

যাদের জয়েন্টে হালকা ব্যথা রয়েছে, তারা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় লবঙ্গ যোগ করে উপকার পেতে পারেন।

  • ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও উপকারী

লবঙ্গ ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। ডায়াবেটিস বিশেষ করে প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে।

তবে লবঙ্গ কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া ওষুধের বিকল্প নয়। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

rrrr

  • শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায়

ঠাণ্ডা-কাশি বা গলায় খুসখুসে ভাব হলে অনেকেই লবঙ্গ মুখে রাখেন। লবঙ্গে উষ্ণ ও সুগন্ধি উপাদান রয়েছে। ফলে কাশি ও গলার অস্বস্তি দূর করতে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় লবঙ্গ বহুল ব্যবহৃত হয়। লবঙ্গ চিবালে—গলার অস্বস্তি কমতে পারে, কাশি উপশমে সাহায্য করতে পারে, হালকা নাক বন্ধভাব বা কফজনিত অস্বস্তি কমাতে পারে, লবঙ্গের প্রাকৃতিক উপাদান শ্বাসতন্ত্রে আরামদায়ক উষ্ণ অনুভূতি সৃষ্টি করে।

  • লিভার সুস্থ রাখে

লিভার বা যকৃত শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গে থাকা কিছু যৌগ যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

পরিমিত পরিমাণে লবঙ্গ গ্রহণ যকৃতের সুস্থতা রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উৎস

মসলা জাতীয় উপাদানের মধ্যে লবঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ অন্যতম বেশি। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত লবঙ্গ গ্রহণ সামগ্রিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

দিনে কয়টা লবঙ্গ যথেষ্ট?

অনেকেই প্রশ্ন, দিনে কতগুলো লবঙ্গ চিবানো উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ১ থেকে ২টি লবঙ্গ চিবানো যথেষ্ট।
 
তবে অতিরিক্ত লবঙ্গ খাওয়া উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত লবঙ্গ খেলে মুখে জ্বালাপোড়া, পেটের অস্বস্তি কিংবা অ্যালার্জিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যাদের বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, গর্ভবতী নারী এবং শিশুদের নিয়মিত লবঙ্গ গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

যখন চিবালে বেশি উপকার

লবঙ্গ কিভাবে চিবিয়ে এবং কখন চিবিয়ে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে তা অনেকেই জানেন না। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের বেশি উপকার পেতে খাবারের পর ধীরে ধীরে চিবাতে হবে। এতে হজম ও মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় বেশি উপকার পাওয়া যেতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

লবঙ্গের মতো প্রাকৃতিক উপাদান স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক। যেহেতু এটি কখনোই চিকিৎসার বিকল্প নয়। যদি নিচের সমস্যাগুলো থাকে-

দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা

তীব্র দাঁতের ব্যথা

দীর্ঘস্থায়ী কাশি

জয়েন্ট ফুলে যাওয়া

নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিস

এসব স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে যথাযথ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য একজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

0o0o

সতর্কতা জরুরি

মনে রাখতে হবে, লবঙ্গ কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়; এটি কেবল স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে।

নিয়মিত লবঙ্গ খাওয়ার আগে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং যাদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের  চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

ডিমের কুসুম নাকি সাদা অংশ, কোনটি খাওয়া ভালো?

জীবনযাপন ডেস্ক
ডিমের কুসুম নাকি সাদা অংশ, কোনটি খাওয়া ভালো?
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা

সকালের নাশতায় ওমলেট, সেদ্ধ ডিম কিংবা বিকেলের নাস্তায় ডিমের পোচ—বাঙালির খাদ্যতালিকায় ডিম আমাদের সেভিওর। কম খরচে এত ভালো প্রোটিনের উৎস আর দ্বিতীয়টি নেই।

বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান, জিমে যান বা ডায়েট করছেন, তাদের অনেকেই কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খান। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, না জেনে হুজুগে পড়ে কুসুম বাদ দেওয়া মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক, আপনার জন্য কোনটি বেশি উপকারী।

ডিমের সাদা অংশের গুণ

  • চর্বিহীন প্রোটিন : ডিমের সাদা অংশে কোনো ফ্যাট বা কোলেস্টেরল থাকে না।

  • কম ক্যালরি : একটি ডিমের সাদা অংশে মাত্র ১৭ থেকে ১৮ ক্যালরি থাকে এবং প্রোটিন থাকে প্রায় ৩.৬ গ্রাম।

  • কারা খাবেন : যারা ওজন কমাতে চান কিংবা যাদের ডাক্তার কোলেস্টেরল, হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগের কারণে কুসুম খেতে নিষেধ করেছেন, তারা শুধু সাদা অংশ খাবেন।

lll
ডিম কী ভাবে খেলে ভালো?

ডিমের কুসুমের গুণ

  • পুষ্টির ভাণ্ডার : ডিমের আসল পুষ্টি থাকে কুসুমেই। এতে ভিটামিন এ, ডি, বি-১২, ক্যালসিয়াম ও আয়রনের মতো দরকারি উপাদান থাকে, যা চোখ ও মস্তিষ্কের জন্য খুব ভালো।

  • বেশি প্রোটিন : শুধু সাদা অংশ খাওয়ার চেয়ে গোটা ডিম খেলে বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়। একটা গোটা ডিমে প্রায় ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

  • কারা খাবেন : আপনার যদি বড় কোনো রোগ বা ডাক্তারের নিষেধ না থাকে, তবে কুসুমসহ গোটা ডিম খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। এতে শরীর সব পুষ্টি একসঙ্গে পায়।

সহজ একটি টিপস

যারা ব্যায়াম করেন বা বডি বিল্ডিং করছেন, তাদের শরীরে বেশি প্রোটিনের দরকার হয়। তারা চাইলে ১টি গোটা ডিমের সঙ্গে আরও ১-২টি ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। এতে ক্যালোরি ও চর্বি না বাড়িয়েই শরীরকে ভরপুর প্রোটিন দেওয়া সম্ভব।

মনে রাখবেন

সুস্থ মানুষের জন্য কুসুমসহ গোটা ডিম খাওয়াই সেরা। আর ওজন কমাতে বা হার্টের অসুখ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে শুধু সাদা অংশ খাওয়া ভালো।

মেজো সন্তান কি পরিবারে এক ‘বিচ্ছিন্ন মানুষ’?

সঞ্জয় দে
মেজো সন্তান কি পরিবারে এক ‘বিচ্ছিন্ন মানুষ’?
প্রতীকী ছবি

পরিবারে প্রথম সন্তানকে ঘিরে থাকে প্রত্যাশা, আর সবচেয়ে ছোট সন্তানকে ঘিরে থাকে বাড়তি আদর। তাহলে মাঝখানের সন্তানের অবস্থান কোথায়?

এই প্রশ্নের জবাব অনেকদিন ধরেই খুঁজছে মনোবিজ্ঞান। সাধারণভাবে মনে করা হয়, টানাপড়েনের মাঝখানে থাকা পরিবারের মেজো সন্তান ছোটবেলা থেকে এক ধরনের উপেক্ষার অনুভূতি নিয়ে বেড়ে ওঠে। এই অনুভূতির প্রভাব থেকে যায় আমৃত্যু। পরিবারের বড় অথবা ছোট সন্তানের সঙ্গে মেজো সন্তানের মানসিক দূরত্বও তৈরি হয়। উপেক্ষার অনুভূতি একদিকে যেমন গোপন নিঃসঙ্গতার জন্ম দেয়, তেমনি আবার এ অবস্থার সুবিধা নিয়েই মেজো সন্তানের মধ্যে বেশি মাত্রায় স্বাধীনচেতা, বিদ্রোহী কিংবা জটিল কূটনৈতিক স্বভাবের বিকাশ ঘটে থাকে।  

মনোবিজ্ঞানের জগতে ‘মিডল চাইল্ড সিনড্রোম’ খুব অপরিচিত কোনো বিষয় নয়। অস্ট্রিয়ান মনোবিজ্ঞানী আলফ্রেড অ্যাডলার সর্বপ্রথম পরিবারের মধ্যবর্তী সন্তানের ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটান। ১৯২০-এর দশকে তিনি দাবি করেন, পরিবারে সন্তানদের জন্মক্রম তাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রথম সন্তান সাধারণত দায়িত্বশীল হয়, ছোট সন্তান হয় তুলনামূলক আদুরে। আর মাঝখানের সন্তান দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী জায়গায় নিজের অবস্থান খোঁজার লড়াই চালাতে গিয়ে ভিন্ন ধরনের মানসিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করে।

১৯২৮ সালে আলফ্রেড অ্যাডলারের উপস্থাপন করা তত্ত্বে দাবি করা হয়, সন্তানেরা একই পরিবারে জন্ম নিলেও তাদের জন্মক্রম আলাদা মানসিক বিকাশকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। জন্মক্রমের ভিত্তিতে শিশুর ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে। অ্যাডলারের মতে, পরিবারের সবচেয়ে বড় সন্তান তুলনামূলকভাবে কর্তৃত্বপরায়ণ হয়। সাধারণত তার ওপর বাবা-মায়ের উচ্চ প্রত্যাশা থাকে বলে সে নিজেকে অনেক বেশি ক্ষমতাবান মনে করতে শুরু করে। অন্যদিকে সবচেয়ে ছোট সন্তান পরিবারে আদুরে শিশু হিসেবে বেড়ে ওঠে। আর মেজো সন্তান সাধারণত ভারসাম্যপূর্ণ স্বভাবের হয়। বড় ও ছোট ভাইবোনের মাঝখানে অবস্থান করার কারণে সে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার নানামুখী সমস্যায় ভুগতে পারে।

অ্যাডলারের তত্ত্বটি জন্মক্রমের ভিত্তিতে মানুষের মানসিক বিকাশকে মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করার পথ খুলে দিয়েছিল। তবে পরবর্তী আরো অনেক গবেষণায় জন্মক্রমের প্রভাব সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী ফলাফলও দেখা গেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন ডটকমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মেজো সন্তানদের কথিত কিছু বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো :

ব্যক্তিত্ব 

মেজো সন্তানের ব্যক্তিত্ব সাধারণত অন্য ভাইবোনদের ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায় বলে অনেকে ধারণা করেন। কারণ বড় ভাই অথবা বোন হয় দৃঢ়চেতা, আর ছোটজন পরিবারের আদরের সন্তান। এর মাঝের সন্তান মধ্যবর্তী একটি অবস্থানে থেকে যায়। এতে করে তার ব্যক্তিত্ব তুলনামূলকভাবে চাপা হতে পারে। স্বভাব হয়ে উঠতে পারে কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ।

সম্পর্ক 

মেজো সন্তানদের কাছে কখনো কখনো মনে হতে পারে—বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা অন্য ভাইবোনদের মতো সমান গুরুত্ব পাচ্ছে না। বড় সন্তান বেশি দায়িত্ব পাচ্ছে, ছোট সন্তান বেশি যত্ন কেড়ে নিচ্ছে, আর মেজো সন্তান তুলনামূলকভাবে কম মনোযোগ পাচ্ছে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা

মেজো সন্তান বাবা-মায়ের মনোযোগ পাওয়ার জন্য বড় ও ছোট ভাইবোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামার চাপ অনুভব করতে পারে। তবে এমন প্রতিযোগিতার ফলে আরো উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকির আশঙ্কাও থাকে। আবার পরিবারের বিভিন্ন বিরোধের মাঝখানে অবস্থান করার কারণে অনেক সময় তাকে মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকাতেও দেখা যেতে পারে। 

পক্ষপাতিত্ব

মেজো সন্তান সাধারণত নিজেকে বাবা-মায়ের সবচেয়ে প্রিয় সন্তান বলে ভাবতে পারে না। পরিবারে অনেক সময় বড় সন্তানকে ‘বিশেষ’ এবং ছোট সন্তানকে ‘শিশু’ হিসেবে দেখা হয়। ফলে মাঝখানের সন্তান তেমনভাবে কারো প্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগ নাও পেতে পারে। 

কারো কারো ধারণা, ‘মিডল চাইল্ড সিনড্রোম’-এর প্রভাব কেবল শৈশবেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও এর প্রভাব থেকে যেতে পারে। পরিবারের মেজো সন্তান হিসেবে শৈশবের নিঃসঙ্গ ব্যক্তিত্ব ও সম্পর্কগত বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন পরিণত জীবনেও দেখা যেতে পারে। 

যারা শৈশবে নিজেদের অবহেলিত মনে করে বড় হয়েছেন, তারা প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার সমস্যায় ভুগতে পারেন। তবে কেউ কেউ আবার কর্মক্ষেত্র বা পরিবারে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পছন্দ করতে পারেন। তাদের ব্যক্তিত্বের প্রকৃত বৈশিষ্ট্যগুলো সাধারণ আশপাশের অন্যদের তুলনায় কম প্রকাশিত বা কম দৃশ্যমান হয়। এমনকি তারা কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা জীবনসঙ্গীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হিসেবে নিজেকে ভাবতেও অস্বস্তি বোধ করতে পারেন।

পুরোনো বেশ কিছু গবেষণায় জন্মক্রমের সঙ্গে বিভিন্ন মানসিক অবস্থার সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি), সিজোফ্রেনিয়া, বিষণ্নতা এবং অ্যানোরেক্সিয়া। তবে বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়ায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনো কঠিন। 

সম্প্রতি জাপানে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, কৈশোরে মেজো সন্তানেরা অন্য ভাইবোনের তুলনায় কিছুটা কম সুখী হতে পারে। তবে তাদের আবেগজনিত উপসর্গ বা সামগ্রিক কোনো জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, জন্মক্রম থেকে বিশেষ কোনো মানসিক ফলাফলের নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারে ভাই-বোনের চরিত্রবৈশিষ্ট্য তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে জন্মক্রমের প্রভাব রয়েছে। তবে এর মাত্রা খুবই সামান্য এবং অনেক ক্ষেত্রে তা পরিসংখ্যানগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। 

কিছু গবেষণায় অবশ্য জন্মক্রমের তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাবও দেখা গেছে। ২০২৪ সালে সাত লাখেরও বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, মেজো সন্তানেরা গড়ে অন্য ভাই-বোনের তুলনায় কিছুটা বেশি সহযোগিতাপ্রবণ, সমঝোতামূলক এবং সহনশীল হতে পারে। গবেষকদের মতে, বড় ও ছোট ভাই-বোনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়েই মেজো সন্তানের আলোচনার দক্ষতা তৈরি হয়। তারা সহযোগিতামূলক আচরণও বেশি রপ্ত করতে পারে। 

আরো কিছু গবেষণায় দেখা যায়, মেজো সন্তান তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীনচেতা। তাদের মধ্যে প্রচলিত নিয়মকে প্রশ্ন করার প্রবণতা দেখা যায়। তারা পরিবারে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলার চেষ্টা করে। 

তবে এসব প্রবণতাকে গড়পড়তা পর্যবেক্ষণ বলেও মনে করেন অনেক মনোবিজ্ঞানী। তাদের মত হলো, মেজো সন্তানের বঞ্চনাবোধের অনুভূতি অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো বাস্তব, কিন্তু এর প্রধান কারণ জন্মক্রম নয়। পরিবার যদি সচেতন থাকে এবং বাবা-মা প্রতিটি সন্তানের প্রতি সমান মনোযোগ দিলে এ ধরনের সমস্যা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি শিশুই স্বতন্ত্র। সে প্রথম, মাঝের, নাকি শেষ সন্তান—সেটি পরিবারে প্রাধান্য পাওয়া উচিত নয়। শৈশবে বহু জৈবিক, সামাজিক ও পারিবারিক উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে। সেই কারণেই মেজো সন্তানকে বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তাকে কোনো ‘মধ্যবর্তী সন্তান’ হিসেবে বিচার না করে একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে দেখা।

রক্তে সুগার না বাড়িয়েই ডায়াবেটিক রোগীরা যেভাবে মিষ্টি খাবেন

জীবনযাপন ডেস্ক
রক্তে সুগার না বাড়িয়েই ডায়াবেটিক রোগীরা যেভাবে মিষ্টি খাবেন
সংগৃহীত ছবি

উৎসব-পার্বণে সবার সাথে ডায়াবেটিক রোগীরাও এখন মাঝেমধ্যে মিষ্টিমুখ করতে পারবেন। তবে তার জন্য মানতে হবে বিশেষ কিছু কৌশল। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) জাতীয় খাবার শুধু না খেয়ে, তার সাথে ফাইবার (আঁশ) বা প্রোটিনযুক্ত করে নিলে রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বাড়ে না।

নিউইয়র্কের ‘ওয়েইল কর্নেল মেডিসিন’-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথমে প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার পর কার্বোহাইড্রেট বা মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বাড়ে না। এ সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, এই নিয়মে খাওয়ার ৩০ মিনিট পরে শর্করার মাত্রা ২৯ শতাংশ কমেছে। ৬০ মিনিট পরে তা কমে হয়েছে ৩৭ শতাংশ। ১২০ মিনিট পরে তা ১৭ শতাংশে নেমে গেছে। তাই রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল সূত্র হলো— প্রথমে খেতে হবে ফাইবারসমৃদ্ধ সবজি এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, আর একদম শেষে আসবে শর্করা বা মিষ্টি।

মিষ্টি খাওয়ার সঠিক উপায়
বাদাম খেয়ে মিষ্টি খাওয়া : মিষ্টি খাওয়ার ঠিক আগে ৪ থেকে ৫টি আখরোট বা কাঠবাদাম খেয়ে নেওয়া ভালো। বাদামে থাকা ফাইবার, প্রোটিন ও ভালো ফ্যাট মিষ্টির শর্করাকে শরীরে দ্রুত শোষিত হতে বাধা দেয়।

মিষ্টি ফলের নিয়ম : বিকেলের দিকে খালি পেটে রসালো বা বেশি মিষ্টি ফল না খেয়ে, ফাইবারযুক্ত অন্য কোনো খাবার খাওয়ার পর এই ফলগুলো খাওয়া নিরাপদ।

ক্যালরির ভারসাম্য : যদি কোনো দিন একটি মিষ্টি বা আইসক্রিম খাওয়া হয়েই যায়, তবে ক্যালরির ভারসাম্য ঠিক রাখতে ওই দিনের অন্য বেলার খাবার থেকে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে।

চিকিৎসকেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য নিয়মিত মিষ্টি খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। তবে মাঝেমধ্যে মন চাইলে এই স্বাস্থ্যকর পন্থা মেনে মিষ্টি খাওয়া যেতেই পারে।

সূত্র : আনন্দবাজার

আজ ২৫ মার্চ, দিনটি কেমন যাবে আপনার? | কালের কণ্ঠ