তীব্র গরমে ঘামাচি, র্যাশ, ব্রণ ও চুলকানির সমস্যায় কমবেশি সবাই ভোগেন। এসব সমস্যা থেকে বাঁচতে অনেকেই দামি বডিওয়াশ, সিরাম বা ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করেন, যা অনেক সময় কোনো কাজে আসে না। তবে নামী-দামী প্রসাধনী ছাড়াই প্রকৃতির কোল থেকে মিলতে পারে এর স্থায়ী সমাধান। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিমপাতায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের যেকোনো সংক্রমণ ও গরমের সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী। চলুন, জেনে নিই ত্বকের সুরক্ষায় নিমপাতা ব্যবহারের সহজ উপায়।
নিম পানিতে গোসল
এক মুঠো তাজা নিমপাতা দুই গ্লাস পানিতে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এরপর পানিটি ছেঁকে নিয়ে গোসলের বালতির পানির সাথে মিশিয়ে নিন। এই পানি দিয়ে গোসল করলে ঘামাচি দূর হয় এবং শরীর ঠাণ্ডা থাকে। যাদের পিঠে ও বুকে ব্রণ হয়, তাদের জন্য এই পদ্ধতি বেশ উপকারী।
নিম ও হলুদের মাস্ক
গরম ও আর্দ্রতার কারণে ত্বকে তেলের ভাব বেড়ে যায়। এই তেল ও ব্রণ দূর করতে তাজা নিমপাতা বাটার সাথে এক চিমটি হলুদ এবং সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এটি ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক থাকবে এবং ত্বক সতেজ দেখাবে।
সানবার্নে অ্যালোভেরা ও নিম
রোদে ত্বক পুড়ে লাল হয়ে গেলে বা জ্বালাপোড়া করলে নিমপাতা থেঁতো করে তার সাথে ঠাণ্ডা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ত্বকে লাগান। এই মিশ্রণটি ত্বকের ক্ষত সারিয়ে তোলে এবং দ্রুত আরাম দেয়।
নিম চা
শরীরের ভেতর টক্সিন বা বর্জ্য জমা হলে ত্বকে ব্রণ ও র্যাশ বেশি দেখা দেয়। রক্ত পরিষ্কার করতে এবং লিভার ভালো রাখতে তাজা নিমপাতা ফোটানো পানি বা নিম চা পান করতে পারেন। স্বাদ কিছুটা তেতো হলেও শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে এটি দারুণ কাজ করে।
ত্বকের যত্নে নিম তেল
মশার কামড় থেকে বাঁচতে এবং ত্বকের চুলকানি ও প্রদাহ কমাতে নিম তেল ব্যবহার করতে পারেন। তবে সরাসরি না মেখে, নারিকেল তেল বা আমন্ড অয়েলের সাথে কয়েক ফোঁটা কোল্ড-প্রেসড নিম তেল মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এটি খুশকি ও উকুন দূর করতেও সাহায্য করে।
সূত্র : এই সময়




