• ই-পেপার

উচ্চ রক্তচাপ কমানো ছাড়াও আরো যে উপকার করে বরই

শ্যাম্পু করার পরও বারবার খুশকি? জেনে নিন করণীয়

জীবনযাপন ডেস্ক
শ্যাম্পু করার পরও বারবার খুশকি? জেনে নিন করণীয়
সংগৃহীত ছবি

সকালে শ্যাম্পু করার পর বিকেলেই মাথায় আবার অস্বস্তি ও চুলকানি, আর চুলকালেই নখের গোড়ায় সাদা গুঁড়ো পদার্থ—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। চিরুনি চালালেই চুল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝরে পড়ে মরা চামড়া। অনেকেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দামি শ্যাম্পু বা হেয়ার ক্লিনিকের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুশকির সমাধান এত জটিল নয়; এর জন্য আগে খুশকি হওয়ার আসল কারণ বুঝতে হবে।

খুশকি কেন হয়?
মানুষের মাথার ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই ‘ম্যালাসেজ়িয়া’ নামের এক ধরনের ছত্রাক বা ইস্ট থাকে। কিন্তু যখন মাথায় অতিরিক্ত তেল, ঘাম জমে কিংবা অতিরিক্ত গরম ও মানসিক চাপ তৈরি হয়, তখন এই ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি ঘটে। ছত্রাকের এই আধিক্য মাথার ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলে ত্বকের কোষগুলো দ্রুত নিষ্প্রাণ হয়ে ঝরে পড়তে শুরু করে। এই ঝরে পড়া মৃত কোষই হলো খুশকি।

খুশকি মূলত দুই ধরনের
তৈলাক্ত খুশকি : এই খুশকি কিছুটা হলদেটে ও চটচটে হয়, যা সহজে চুল থেকে ঝরে পড়ে না। এগুলো চুলের গোড়ায় লেগে থেকে অনবরত চুলকানি ও জ্বালা ভাব তৈরি করে। অতিরিক্ত চুলকানির কারণে মাথা কেটে-ছড়ে গিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। যাদের মাথার ত্বক তৈলাক্ত, গরমে ও ঘামে তাঁদের এই সমস্যা বেশি হয়।

শুষ্ক খুশকি : মাথায় হাত দিয়ে সামান্য ঘষলেই এই খুশকি গুঁড়োর মতো ঝুরঝুর করে কাঁধে, পিঠে ও কপালে ঝরে পড়ে। শুষ্ক ত্বকে ম্যালাসেজ়িয়া ছত্রাকের প্রভাবেই এটি হয় এবং শীতকালে এর প্রকোপ বাড়ে। অনেকের ধারণা মাথায় তেল দিলে এই খুশকি কমবে, যা সম্পূর্ণ ভুল। তেল দিলে এই খুশকি কমার সম্ভাবনা তো নেই-ই, বরং উল্টো হতে পারে।

গরমে কেন বাড়ে খুশকির উপদ্রব?
গরমের তীব্র রোদ ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মাথায় প্রচুর ঘাম ও তেল জমে। এই পরিবেশ ম্যালাসেজ়িয়া ছত্রাকের বৃদ্ধির জন্য একদম আদর্শ। এ ছাড়া গরমে দীর্ঘক্ষণ হেলমেট পরে থাকা কিংবা ভেজা চুল বেঁধে রাখলেও এই ছত্রাক দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

প্রতিকার ও শ্যাম্পু ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
সাধারণ শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুলে তা শুধু কয়েক ঘণ্টার জন্য মৃত কোষ দূর করে, কিন্তু ঘাম বা তেল জমলেই খুশকি আবার ফিরে আসে। তাই এর স্থায়ী সমাধানের জন্য ছত্রাকনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধের দোকান থেকে এই শ্যাম্পু কেনা উচিত।

যেহেতু খুশকি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, তাই সাময়িকভাবে কমে গেলেও বিশেষ শ্যাম্পু ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। এটি ব্যবহারের নিয়ম হলো :
১। শুরুতে প্রতি ২-৩ দিন পর পর একবার ব্যবহার করতে হবে।
২। খুশকি নিয়ন্ত্রণে এলে সপ্তাহে একবার ব্যবহার করতে হবে।
৩। পরবর্তী সময়ে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাসে অন্তত দুইবার এই শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুতে হবে।

সতর্কতায় করণীয় কিছু অভ্যাস
মাথা ঘামলে যত্ন : মাথার ত্বক ঘেমে গেলে অবশ্যই পরিষ্কার পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে হবে। ধুয়ে নেওয়া সম্ভব না হলে দ্রুত ফ্যানের বাতাসে চুল ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে।

ভেজা চুল না বাঁধা : কোনো অবস্থাতেই ভেজা চুল বা ঘেমে থাকা চুল বেঁধে রাখা যাবে না।

পরিচ্ছন্নতা : নিয়মিত ব্যবহৃত হেলমেট, স্কাল ক্যাপ ও চিরুনি সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

সূত্র : আনন্দবাজার

স্ট্রোক না হার্ট অ্যাটাক? বুঝবেন যেসব লক্ষণে

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্ট্রোক না হার্ট অ্যাটাক? বুঝবেন যেসব লক্ষণে
সংগৃহীত ছবি

বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ৩০ পার হতেই কিংবা অল্পবয়সীদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে হার্টের নানা সমস্যা। তবে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক কিন্তু এক বিষয় নয়। হার্ট অ্যাটাক হয় যখন হার্টে রক্ত সরবরাহে বাধা থাকে। আর স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বা রক্তনালি ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ হলে মস্তিষ্কের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মারা যায়।

হার্ট অ্যাটাক আর স্ট্রোক দুটোই জরুরি অবস্থা, কিন্তু দুটির লক্ষণ আলাদা। দ্রুত বুঝতে পারলে জীবন বাঁচানো যায়। দেখে নিন কোন কোন লক্ষণে আপনি প্রাথমিকভাবে বুঝবেন হার্ট অ্যাটাক নাকি স্ট্রোক।

  • সহজভাবে পার্থক্যগুলো জেনে নিন

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ

  • বুকে চাপ বা ভারী ব্যথা—মাঝখানে, বাঁ-দিকে ছড়াতে পারে
  • ব্যথা ছড়িয়ে পড়া—বাঁ হাত, কাঁধ, পিঠ, চোয়াল
  • শ্বাসকষ্ট
  • ঠাণ্ডা ঘাম হওয়া
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি
  • ব্যথা ৫-১৫ মিনিট বা তার বেশি স্থায়ী হয়
  • বিশ্রামেও কমে না
  • শরীর ভারী বা চাপা লাগে

 স্ট্রোকের লক্ষণ

  • মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া
  • এক হাত দুর্বল হয়ে পড়া, তুলতে না পারা
  • কথা জড়ানো, পরিষ্কারভাবে বলতে না পারা
  • হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা বা এক চোখে কম দেখা
  • হঠাৎ ভারসাম্য হারানো, মাথা ঘোরা
  • হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা

হার্ট অ্যাটাকে ৪-৬ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করলে ক্ষতি কম হয়। স্ট্রোকে সোনালি সময় ৩–৪.৫ ঘণ্টা, এ সময়ের মধ্যে চিকিৎসা পেলে মস্তিষ্কের ক্ষতি কমে।

কেন ২০২৬ সালে ‘গবলিনটিমেসি’ ডেটিংয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে?

জীবনযাপন ডেস্ক
কেন ২০২৬ সালে ‘গবলিনটিমেসি’ ডেটিংয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে?
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা

২০২৬ সালে ডেটিং দুনিয়ায় একটি নতুন ট্রেন্ড জনপ্রিয় হচ্ছে, যার নাম ‘গবলিনটিমেসি’। সহজভাবে বললে, এটি এমন একটি ডেটিং স্টাইল যেখানে মানুষ প্রথম থেকেই নিজেদের আসল রূপ—খুঁত, অদ্ভুত অভ্যাস এবং দুর্বলতা—লুকিয়ে না রেখে প্রকাশ করে।

গবলিনটিমেসি কী?

এই ট্রেন্ডে মানুষ ডেটিংয়ের শুরুতেই ‘পারফেক্ট’ হওয়ার ভান করে না। বরং তারা নিজের বাস্তব জীবন, স্বভাব এবং ছোট ছোট দুর্বলতা সম্পর্কে সৎ থাকে। এর উদ্দেশ্য হলো শুরু থেকেই সত্যিকারের সংযোগ তৈরি করা।

কেন মানুষ এই ট্রেন্ডে আগ্রহী?

বর্তমান ডেটিং সংস্কৃতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে অনেকেই নিখুঁত ইমেজ ধরে রাখতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। অনেক সিঙ্গেল মানুষ মনে করছেন, সবসময় ভান করে সম্পর্ক শুরু করা মানসিক চাপ তৈরি করে।
গবলিনটিমেসি সেই চাপ কমিয়ে মানুষকে স্বাভাবিক থাকতে সাহায্য করছে।

কী ধরনের পরিবর্তন আসছে?

এই ট্রেন্ডে মানুষ :

  • ডেটিং প্রোফাইলে অতিরঞ্জিত ছবি বা গল্প দিচ্ছে না
  • প্রথম থেকেই বাস্তব জীবন নিয়ে কথা বলছে
  • নিজেদের দুর্বলতা বা অস্বস্তিকর দিকও শেয়ার করছে

এর ফলে অনেকেই মনে করছেন, সম্পর্ক শুরু করাটা এখন আরো সহজ ও স্বাভাবিক হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শুরুতেই সততা থাকলে সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং মানসিক চাপও হ্রাস পায়। তবে তারা সতর্কও করেছেন—সব ব্যক্তিগত সমস্যা বা গভীর কষ্ট একসাথে প্রকাশ না করে ধীরে ধীরে শেয়ার করাই ভালো, যাতে সম্পর্ক ঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে।

কেন এই ট্রেন্ড বাড়ছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ এখন কৃত্রিমভাবে ‘পারফেক্ট’ দেখানোর সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসছে। তারা এমন সম্পর্ক চাইছে যেখানে সত্যিকারের মানুষটিকে গ্রহণ করা হয়, শুধু একটি আদর্শ ইমেজ নয়।

গবলিনটিমেসি তাই ধীরে ধীরে নতুন ডেটিং সংস্কৃতির একটি বড় অংশ হয়ে উঠছে।

পরীক্ষার আগে ভয়? ৩০ সেকেন্ডেই শান্ত হওয়ার উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক
পরীক্ষার আগে ভয়? ৩০ সেকেন্ডেই শান্ত হওয়ার উপায়
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা

পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার আগে অনেক শিক্ষার্থীর বুক ধড়ফড় করে, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কেউ কেউ বমি ভাব বা ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়ার মতো সমস্যায়ও ভোগেন। শুধু পরীক্ষা নয়, মঞ্চে ওঠার আগেও এমন ভয় কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়, তাই এমন অনুভূতি হয়। তবে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের তিনটি সহজ কৌশল মানলে মন অনেকটাই শান্ত রাখা যায়।

১) ১০ সেকেন্ড শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম
নাক দিয়ে গভীর শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। এটি দুইবার করুন। এতে শরীর ও মন শান্ত হয়, হৃদস্পন্দন কমে।

২) ১০ সেকেন্ড চাপের কৌশল
বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল ডান হাতে চেপে ধরুন এবং চোখ বন্ধ করে চোখের ওপর হালকা চাপ দিন। এতে মানসিক চাপ কমে।

৩) ১০ সেকেন্ড হালকা শব্দ করুন
পা মাটিতে রেখে মুখ বন্ধ করে আস্তে আস্তে “হুম” শব্দ করুন। এতে শরীর রিল্যাক্স হয় এবং মন শান্ত হয়।

এই তিনটি কৌশল একসঙ্গে করলে পরীক্ষার আগের ভয় অনেকটাই কমে যেতে পারে এবং মন স্থির রাখা সহজ হয়।

উচ্চ রক্তচাপ কমানো ছাড়াও আরো যে উপকার করে বরই | কালের কণ্ঠ