kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

সোশ্যাল মিডিয়া গোপনে বিষণ্নতা বাড়ায়, ভিডিও গেম মন ফুরফুরে রাখে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ জুলাই, ২০১৯ ১৮:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোশ্যাল মিডিয়া গোপনে বিষণ্নতা বাড়ায়, ভিডিও গেম মন ফুরফুরে রাখে

দীর্ঘসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ফলে কিশোর-কিশোরীরা সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়ে পড়ে এবং তা গোপনে বিষণ্নতা বাড়ায় বলে জানিয়েছে নতুন একটি গবেষণা। সম্প্রতি কানাডার মন্ট্রিল বিশ্ববিদ্যালয় এ গবেষণাটি করে। পরে এই সপ্তাহের শুরুতেই জ্যামা পেডিয়াট্রিকসে প্রকাশ করা হয় ওই গবেষণা পত্রটি।

গবেষণাটি করা হয় ভিডিও গেম খেলা, টেলিভিশন দেখা, কম্পিউটার ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কি পরিমাণে সময় ব্যয় করা হচ্ছে তার ওপর। আর তাতে দেখা হয় ওই ডিজিটাল স্ক্রিনগুলো ব্যবহার করে কিরূপ প্রভাব ফেলে।

কানাডার মন্ট্রিল অঞ্চলের সাত বছর থেকে ১১ বছর বয়সী চার হাজার শিক্ষার্থীর ওপর এই গবেষেণা করা হয়। ভিডিও গেম খেলা, টেলিভিশন দেখা, কম্পিউটার ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কি পরিমাণ সময় তারা ব্যয় করেছে তা নিজেরাই জানায় গবেষক দলকে। তারা প্রতিদিন ওইগুলো ব্যবহার করে গড়ে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা।

প্যাট্রিসিয়া কনরাড নামের একজন মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক এই গবেষণা কজাটির প্রধান লেখক হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলেন, আমরা চার ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন নিয়ে কাজ করেছি। তার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে কিশোর-কিশোরীদের। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যে ছবি দেখতে পায় সেই তুলনায় তাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এর ফলে এক ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তাদের মনে। 

কিশোর-কিশোরীরা এমনিতেই অনেক চ্যালেঞ্জিংয়ের সম্মুখিন হয়। শরীর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সময় শারীরিক এবং হরমোনে পরিবর্তন হয় তাদের। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারও এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করে তাদের মনে। তারা সেলিব্রিটিদের দেখানো অবাস্তব সৌন্দর্যের পেছনে ছুটা শুরু করে। তারা অন্যান্যদের শেখানো জীবনযাপন সম্পর্কে ভালো ধারণা পায় না এবং ভালোভাবে বিচার করতে পারে না। ফলে এক ধরনের হতশা কাজ করা শুরু করে দেয়। তারা নিজেকে ভালো রাখার জন্য জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করা শুরু করে।

যে কিশোর-কিশোরীরা ইতোমধ্যে হতাশায় ডুবে আছে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তাদের হতাশাকে আরো বেশি বাড়িয়ে তুলে। তারা বেশি নেতিবাচক বিষয়গুলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়।

তবে অদ্ভুতভাবে ভিডিও গেম খেলার ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া যায় এ গবেষণায়। ভিডিও গেম খেলা কিশোর-কিশোরীদের সুখী রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় বলা হয়, যারা ভিডিও গেম খেলে তারা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন নয়। শতকারা ৭০ শতাংশেরও বেশি কিশোর-কিশোরীরা অন্যান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে অনলাইন বা বাস্তবে গেম খেলেন।

গবেষণার লেখকরা জানান, কিশোর-কিশোরীদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কিছু নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে। এটি অপেক্ষাকৃত নতুন ঘটনা। এটির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি যা আমরা এই মুহূর্তে উপলব্ধি করতে পারছি। পিতা-মাতা, ডাক্তার ও শিক্ষাবিদগণের উচিত কিশোর-কিশোরীদের বিষণ্নতা কমাতে ডিজিটাল স্ক্রিনগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা।

সূত্র: ট্রিহাগ্গার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা