kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

মহাকাশে তৈরি হবে হৃদয়!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১২:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহাকাশে তৈরি হবে হৃদয়!

অনেক দিন ধরেই বিজ্ঞানীরা কৃত্রিমভাবে মানুষের হৃিপণ্ড তৈরি করার চেষ্টা করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় মহাশূন্যের ভরশূন্য পরিবেশে হৃৎপিণ্ড তৈরির এক প্রক্রিয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। নাসার সঙ্গে একটি সংস্থা যৌথভাবে করছে এই কাজ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান

যদি মানুষের হৃৎপিণ্ড ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়—কেমন হবে? আর সেই ল্যাবরেটরি যদি হয় মহাশূন্যে? শুনতে উদ্ভট হলেও এই বিষয়টি নিয়েই কাজ করছে মহাশূন্য-প্রযুক্তি কম্পানি ‘টেকশট’। তাদের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘নাসা’। তাদের দাবি অনুযায়ী আগামী ১০ বছরের মধ্যে মহাশূন্যে মানুষের হৃৎপিণ্ডকে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব হবে।

কেন মহাশূন্যেই করতে হবে?
পৃথিবীতে অবস্থিত ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড তৈরি করায় একটি বড় বাধা হচ্ছে মহাকর্ষ বল। যেটি থেকে মুক্ত রেখে সঠিক কাঠামোতে কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড তৈরি করার জন্য একটি ছাঁচ ব্যবহার করতে হয়। সমস্যাটি ঘটে এই ছাঁচটি বের করে আনার সময়। হৃৎপিণ্ডটি পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলে এটি বের করে আনা অনেক দুঃসাধ্য। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই প্রক্রিয়ায় হৃৎপিণ্ডটিই নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে পুরো পরিশ্রমটি ভেস্তে যায়। তাই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মহাকর্ষ বল না থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি একেবারেই সহজ হয়ে যাবে। কারণ মহাকর্ষ বল না থাকলে কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড তৈরিতে ওই ছাঁচ বা কাঠামোর কোনো দরকারই হবে না। আর কাঠামোর দরকার না হলে নির্মাণ-পরবর্তী ক্ষতিরও সম্ভাবনা নেই। যার ফলে সফলতার হার বাড়বে।

চাহিদাই বা কেমন?
২০১৭ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর সারা বিশ্বে সাত হাজার ৬০০টি হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। প্রতিবছর হাজার হাজার রোগী এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন হৃৎপিণ্ডের অভাবে ২০ জন মানুষ মারা যাচ্ছে। ফলে টেকশট মনে করে, এই জায়গায় কৃত্রিম হৃৎপিণ্ডের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বড় পরিসরে কাজটি করতে পারলে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচাতে এটি কাজে আসবে।

বাধা আছে অনেক
প্রকল্পটির পেছনে আছে অনেক বাধা। প্রথমত, এই ধরনের কাজ কেউ কখনো চেষ্টা তো দূরের কথা, চিন্তাও করেনি। যার কারণে টেকশটকে পুরো বিষয়টি মূল থেকে শুরু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মহাশূন্যে কারখানা তৈরি করার জন্য যে ধরনের স্থাপনা দরকার তা নেই। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের আকার খুব একটা বড় নয় যে সেখানে এমন একটি কারখানা নির্মাণ করে ফেলা যাবে। তৃতীয়ত, মহাশূন্যে তৈরি করা হৃৎপিণ্ডগুলো দামের দিক থেকে মানুষের নাগালে থাকবে কি না—তা নিয়েও আছে প্রশ্ন। কারণ সবচেয়ে সস্তা মহাকাশ ভ্রমণ রকেট কম্পানি ‘স্পেস এক্স’ও প্রতিটি মিশনের জন্য ছয় কোটি ডলার নিয়ে থাকে। চতুর্থত, এই ধরনের হৃৎপিণ্ডের নির্ভরযোগ্যতা পরীক্ষা করার পর যদি খারাপ ফল আসে তাহলে পুরো বিনিয়োগটিই হয়তো ভেস্তে যেতে পারে।

আছে সম্ভাবনাও
রোগীর কার্ডিয়াক টিস্যুর নমুনা থেকে এ ধরনের হৃৎপিণ্ড তৈরি করা হবে। তাই বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, এ ধরনের হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হলে রিজেকশনের মতো ঘটনা ঘটবে না। লাগবে না কোনো অ্যান্টি-রিজেকশন ওষুধও। আর পুরো প্রকল্পে টেকশটের সঙ্গে কাজ করছে নাসা। তাই আশা করা হচ্ছে, ভালো কিছুই হতে পারে। এদিকে এ ধরনের কারখানার স্থাপনার সমস্যা সমাধান করতে এগিয়ে আসছে ‘ট্যাঙ্গো’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান। যারা কয়েক মিটার আয়তনের কিছু মহাকাশ কারখানা নির্মাণ করবে, যেগুলো মহাশূন্যে ১০-৩০ দিন থেকে পণ্য উৎপাদন করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে নতুন হৃৎপিণ্ডগুলো ডেলিভারি দেওয়ার জন্য। ‘এসটি-৪২’ নামের এসব মহাকাশযান ২০২০ সাল নাগাদ চালু হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে এ বছরই
চলতি বছরের মে মাসেই স্পেস এক্সের একটি রকেটে টেকশটের ল্যাবরেটরিটি আইএসএসে পাঠানো হবে। এই ল্যাবরেটরির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বায়ো ফ্যাব্রিকেশন ফ্যাসিলিটি’। থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য পৃথিবীতে নিয়ে আসা হবে ল্যাবরেটরিটিকে। পরে সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে কম্পানিটি। পথটি অনেক লম্বা, তবে প্রাথমিকভাবে আগামী দশকের মধ্যে প্রথম কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা