kalerkantho

ফেসবুকের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত খবরে ভুলের ছড়াছড়ি : গবেষণা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ নভেম্বর, ২০১৬ ১৩:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেসবুকের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত খবরে ভুলের ছড়াছড়ি : গবেষণা

খবরের জন্য অসংখ্য আমেরিকান সোশাল মিডিয়ার ওপর নির্ভর করেন। বিশেষ করেন স্বাস্থ্যবিষয়ক খবরগুলো অনেক বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু এসব খবর অধিকাংশই সঠিক নয় বলে এক প্রতিবেদনে বলা হয়। জিকা ভাইরাস নিয়ে প্রকাশিত এক খবরের কথা উল্লেখ করা হয়।

২০১৬ সালের মে এবং জুন মাসে জিকা ভাইরাস নিয়ে মিডিয়াগুলো ব্যাপক খবর প্রচার করে। ফেসবুকে তা জনপ্রিয় পোস্টের তালিকায় চলে আসে। কিন্তু যে প্রতিবেদন ফেসবুকে দেখানো হয়েছে তাকে অনেক ভুল তথ্য রয়েছে। জিকা ভাইরাস বিষয়ক পোস্টটি নিয়ে গবেষণা চালান বিশেষজ্ঞরা।

মেডিক্যাল কলেজ অব উইনকন্সিনের নেনোনাটাল-পেরিনাটাল মেডিসিন ফেলো এবং প্রধান গবেষক ড. মেঘা শর্মা বলেন, যেসব ওয়েবসাইট এবং ভিডিও এসব ভুয়া খবর দেয় তা খুবই বিরক্তিকর। এসব ভুল তথ্য জেনে মানুষ জিকা ভাইরাস নিয়ে অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পৃথিবীর ৩০টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে জিকা ভাইরাস। আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি ছড়ায় বলে জানায় সেন্টার্স ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। পরে তা আন্তর্জাতিক সমস্যা হয়ে দেখা দেয়।

বড়দের মাঝে জিকা ভাইরাসের আক্রমণে কিছু নিউরোলজিক্যাল সিনড্রোম দেখা দিতে পারে যাকে বলা হয় গুলাইন-ব্যারে। আরো কিছু নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার দেখা দেয়।

নতুন এ গবেষণায় শর্মা এবং তার সহকর্মীরা টানা এক সপ্তাহ ধরে ফেসবুকে জিকা এবং ভাইরাস সংক্রান্ত বিভিন্ন খবরের সন্ধান করেন। পরে সেখান থেকে সর্বাধিক পঠিত ২০০টি পোস্ট সংগ্রহ করা হয়। ভিউ, শেয়ার এবং কমেন্টের ভিত্তিতে এগুলো নির্বাচন করা হয়। এসব পোস্টের ১২ শতাংশকে ভুল তথ্যসমৃদ্ধ বলে তুলে ধরা হয়। ফলে এই মারাত্মক ভাইরাস নিয়ে ভুল তথ্য জানছেন মানুষরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ-সংক্রান্ত যে ভিডিও পোস্ট করেছে তা মানুষ দেখেছে ৪৩ হাজার বার। ফেসবুকে এটি শেয়ার হয়েছে ৯৬৪ বার। কিন্তু জিকা সংক্রান্ত ভুল তথ্যসমৃদ্ধ খবর মানুষ পড়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার বার। এটি শেয়ার করেছেন ১৯ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ।

শর্মা বলেন, সিডিসি বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে পোস্ট দেয় তার চেয়ে মানুষের কাছে বেশি পৌঁছে অন্যান্য ব্যবহারকারীর পোস্ট। এগুলোতে ভুল থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অথচ এই মারাত্মক ভাইরাস নিয়ে মানুষের সচেতন থাকা দরকার এবং সঠিক তথ্য তাদের কাছে পৌঁছানো জরুরি।

ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানেরে স্কুল অব ইনফরমেশনের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর সেরেন বুডাক জানান, ফেসবুকের পক্ষে তার বিশাল নেটওয়ার্ক থেকে কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল তা বের করা অনেক কঠিন বিষয়। যদি দেরি হয়ে যায়, তো ক্ষতির সম্মুখীন হবে মানুষ।

নতুন এ গবেষণায় জনপ্রিয় পোস্টগুলো যে ভুল হতে পারে সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, মানুষ যতটা ভুল তথ্য পায় তার কিছু অংশমাত্র উঠে এসেছে এই গবেষণায়। তাই কিছু পড়ার সময় তার সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে আগ্রহী থাকতে হবে সবাইকে। নয়ত বিপদ তারই ঘটবে।
সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা