একসময় নরসিংদী জেলায় সিনেমাপ্রেমীদের অন্যতম বিনোদনের মাধ্যম ছিল অসংখ্য প্রেক্ষাগৃহ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২০টিরও বেশি সিনেমা হল চালু থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একে একে সেগুলোর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে মাধবদীর চার দশকের পুরোনো ‘মমতা’ সিনেমাহলও। দীর্ঘদিন লোকসানে পরিচালিত হওয়ার পর হলটি ও এর জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিকপক্ষ।
নরসিংদীতে বর্তমানে টিকে থাকা হাতে গোনা কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহের একটি ছিল ‘মমতা’। তবে গত কয়েক বছর ধরে দর্শকসংকটের কারণে হলটি নিয়মিত লোকসানের মুখে পড়ে। বিশেষ করে গত দুই ঈদের ব্যবসা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। এরপর টিকতে না পেরে চলতি সপ্তাহে হলটির প্রধান ফটকে বিক্রির বিজ্ঞাপন টানানো হয়েছে।
১৯৭৯ সালে সফর আলী ভূঁইয়া প্রতিষ্ঠা করেন ‘মমতা’ সিনেমাহল। প্রায় ৪৬ বছরের পুরোনো এই প্রেক্ষাগৃহের পরিচালনা প্রায় এক দশক আগে বন্ধ করে দেন তিনি। এরপর বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তি ভাড়া নিয়ে হলটি পরিচালনার চেষ্টা করলেও কেউই লাভের মুখ দেখতে পারেননি। বরং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
সবশেষ আজমান রুশো পরিচালিত শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমা প্রদর্শনের পরও লোকসান গুনতে হয়েছে পরিচালনাকারীদের। এরপর নতুন কোনো ভাড়াটিয়া না পাওয়ায় হলটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিক্রির বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে সফর আলী ভূঁইয়ার ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, চার দিন আগে বিজ্ঞাপনটি টানানো হয়েছে। উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া গেলে সিনেমাহলসহ পুরো ৪৮ শতাংশ জমিই বিক্রি করে দেওয়া হবে।
এদিকে নরসিংদীতে একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ হওয়ার ধারাও অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালে মনোহরদী উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের ‘রুনা’ সিনেমাহলও স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। একসময় ওই উপজেলায় ‘পিপাসা’ ও ‘রুনা’—দুটি প্রেক্ষাগৃহ থাকলেও আগে ‘পিপাসা’ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালের পর থেকে ব্যবসায় মন্দা দেখা দেওয়ায় ৩৯ বছরের পুরোনো ‘রুনা’ হলটিও কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
এর আগে ২০২৪ সালে রায়পুরার হাসনাবাদ এলাকার দর্শকপ্রিয় ‘ছন্দা’ সিনেমাহল বিক্রি করা হয় একটি মাদ্রাসার কাছে। ফলে একসময় সিনেমা হলসমৃদ্ধ নরসিংদীতে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা এখন আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে, যা দেশের এককালের জমজমাট হল সংস্কৃতির ক্রমাবনতিরই আরেকটি উদাহরণ।






