• ই-পেপার

অলোকনাথকে চড় মারার খেসারত, ক্যারিয়ার ছাড়তে হয় নভনীতকে

এবার রোবট চরিত্রে জেনা ওর্তেগা

অনলাইন ডেস্ক
এবার রোবট চরিত্রে জেনা ওর্তেগা
সংগৃহীত ছবি

‘থর: র‍্যাগনারক’ বা ‘জোজো র‍্যাবিট’-এর মতো ব্লকবাস্টার ও কমেডি ঘরানার সিনেমার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত পরিচালক তাইকা ওয়াইটিটি। তবে এবার নিজের চেনা ছক ভেঙে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার একটি সিনেমা নিয়ে আসছেন তিনি। কাজুও ইশিগুরোর ২০২১ সালের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে তিনি নির্মাণ করেছেন ‘ক্লারা অ্যান্ড দ্য সান’। সম্প্রতি বিনোদন সাময়িকী ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ এই সিনেমার প্রথম ঝলক (ফার্স্ট লুক) প্রকাশ করেছে।

সিনেমার মূল চরিত্র ‘ক্লারা’। এটি মূলত একটি সৌরশক্তিচালিত রোবট বা ‘কৃত্রিম বন্ধু’। এই ক্লারা চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জেনা ওর্তেগা। গল্পে দেখা যাবে, এক মা তার অসুস্থ মেয়ের একাকীত্ব দূর করতে ও সঙ্গী হিসেবে এই রোবটটিকে কিনে নেন। মানুষের আচরণ, ভালোবাসা, একাকীত্ব ও বিশ্বাসকে একটি কৃত্রিম সত্তা বা রোবট কিভাবে দেখছে—তা নিয়েই এগিয়েছে সিনেমার গল্প।

তাইকা ওয়াইটিটি জানান, শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন এটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সহজ সিনেমা হবে এবং তিনি এটিকে তার চেনা ‘কমেডি’ স্টাইলে বানাতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘শুরুতে লেখার সময় ভেবেছিলাম এটাকে একটা সাধারণ ‘তাইকা ফিল্ম’ বানাই আর ফালতু রোবট রসিকতায় ভরিয়ে দিই। কিন্তু লিখতে গিয়ে বুঝলাম, এতে চমৎকার বইটির মূল আবেদন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই নিজের চেনা ধারা থেকে বের হয়ে এটিকে একটি সিরিয়াস ড্রামা হিসেবে তৈরি করেছি। এটিই সম্ভবত আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে নাটকীয় ছবি।’

এই সিনেমার ভবিষ্যৎ জগৎটি অন্য আর দশটা ঝলমলে সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো নয়। এখানে এমন এক রঙিন ও কিছুটা পুরনো ধাঁচের ভবিষ্যৎ দেখানো হয়েছে, যেখানে দৈনন্দিন জীবন থেকে ইন্টারনেট হাওয়া হয়ে গেছে এবং সমাজ সামনের দিকে না এগিয়ে পেছনের দিকে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কিভাবে মানুষের সম্পর্কের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে, তাই এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৩শে অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘ক্লারা অ্যান্ড দ্য সান’। ধারণা করা হচ্ছে, প্রেক্ষাগৃহে আসার আগে বিখ্যাত টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হতে পারে।

রণবীর-ইমরান ফিরিয়ে দেওয়ার পর ‘ককটেল’ ছবিতে সুযোগ পান সাইফ

অনলাইন ডেস্ক
রণবীর-ইমরান ফিরিয়ে দেওয়ার পর ‘ককটেল’ ছবিতে সুযোগ পান সাইফ

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় রোমান্টিক কমেডি সিনেমা ‘ককটেল’। সাইফ আলি খান, দীপিকা পাডুকোন ও ডায়ানা পেন্টি অভিনীত ২০১২ সালের এই ছবিটি আজও দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা জুড়ে রয়েছে। তবে ছবিটির এক যুগেরও বেশি সময় পর জানা গেল এক চমকপ্রদ তথ্য—সিনেমার মূল পুরুষ চরিত্র ‘গৌতম’-এর জন্য সাইফ আলি খান পরিচালকদের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। সাইফ জানান, তৎকালীন সময়ের দুই হার্টথ্রব ইমরান খান ও রণবীর কাপুর-কে এই চরিত্রের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

‘ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া’র সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাইফ আলি খান পুরোনো দিনের স্মৃতি হাতড়ে জানান, ছবির নির্মাতারা শুরুতে প্রধান পুরুষ চরিত্রে অভিনেতা নির্বাচন করতে বেশ হিমশিম খেয়েছিলেন। কারণ চিত্রনাট্যে নারী চরিত্র দুইটি এতটাই শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় ছিল যে, কোনো নায়ক তাদের পাশে স্ক্রিন শেয়ার করতে রাজি হচ্ছিলেন না। বিশেষ করে দীপিকা পাডুকোন অভিনীত ‘ভেরোনিকা’ চরিত্রটি ছিল ভীষণ নজরকাড়া। সাইফ বলেন, দীপিকা ও ডায়ানা আগে থেকেই চূড়ান্ত ছিলেন, কিন্তু ভেরোনিকার চরিত্রটি বেশি আকর্ষণীয় হওয়ায় কোনো নায়ক এই সিনেমা করতে চাচ্ছিলেন না। পরে চিত্রনাট্যটি সাইফের কাছে এলে তিনি রাজি হন এবং দারুণভাবে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলেন।

হালকা রসিকতা করে সাইফ বলেন, ‘আমার মনে আছে ওরা ইমরান আর রণবীরসহ আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেছিল। পরে আমি বলেছিলাম—ঠিক আছে, চলো আমিই এটা করব। আমি কাজটা করে দারুণ মজা পেয়েছিলাম। আমার মনে হয়, আমি ছবিটা করায় ওদের সবার এখন আমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।’

‘ককটেল’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হোমি আদাজানিয়ার সঙ্গে সাইফের দারুণ রসায়ন তৈরি হয়। এর আগে ২০০৫ সালে ‘বিইং সাইরাস’ নামের একটি ভিন্নধারার ছবিতেও তারা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। ছবিতে ‘গৌতম’ চরিত্রটি কিছুটা ত্রুটিপূর্ণ ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভরা থাকলেও সাইফ তাঁর নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে সেটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান, যা আজও সিনেমা প্রেমীদের মনে দাগ কেটে আছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৯ জুন) মুক্তি পেয়েছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন কিস্তি ‘ককটেল ২’।

অর্থাভাবে আটকে ছিল মারাঠি সিনেমা, মুক্তির ব্যবস্থা করে দিলেন শাহরুখ

বিনোদন ডেস্ক
অর্থাভাবে আটকে ছিল মারাঠি সিনেমা, মুক্তির ব্যবস্থা করে দিলেন শাহরুখ
সংগৃহীত ছবি

শুধু পর্দার নায়ক নন, বাস্তব জীবনেও মানবিকতার জন্য বারবার প্রশংসিত হয়েছেন বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। এবারও তেমনই এক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। আর্থিক সংকটে মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়া একটি মারাঠি সিনেমাকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন কিং খান।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিচালক প্রবীণ তার্ডের মারাঠি ছবি ‘দেউল ব্যান্ড ২’ স্বল্প বাজেটের হলেও বড় পরিসরে মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ডিজিটাল সিনেমা প্যাকেজ (ডিসিপি) বাবদ অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে ছবিটির মুক্তি প্রায় আটকে যায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রবীণ তার্ডে জানান, শুরুতে ডিসিপির জন্য ১২ লাখ রুপি বাজেট রাখা হলেও পরে সেই খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ লাখ রুপিতে। অথচ প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা মুক্তির জন্য ডিসিপি ফরম্যাট অপরিহার্য। প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তারা যোগাযোগ করেন শাহরুখ খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট–এর সঙ্গে।

পরিচালকের ভাষ্যে, পরিস্থিতির কথা জানার পর বিষয়টি শাহরুখ খানের নজরে আসে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি ছবিটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এরপর নিজের টিমকে নির্দেশ দেন, ‘মারাঠি ছবিটিকে ডিসিপি দিয়ে দিন। টাকার বিষয়টা আমরা পরেও মেটাতে পারব। ছবিটা যদি ভালো হয়, তবে ডিসিপি দেওয়া উচিত।’

প্রবীণ তার্ডে জানান, শাহরুখের নির্দেশেই ৪২ লাখ রুপির ডিজিটাল সিনেমা প্যাকেজের বকেয়া মওকুফ করা হয়। ফলে নির্ধারিত সময়েই মুক্তি পায় ‘দেউল ব্যান্ড ২’।

পরিচালকের দাবি, শাহরুখের এই সহযোগিতা না পেলে ছবিটির মুক্তিই অনিশ্চিত হয়ে পড়ত। 

তিনি আরো বলেন, শাহরুখ আবারও প্রমাণ করেছেন যে, তার কাছে অর্থের চেয়ে সিনেমার মূল্য অনেক বেশি।

মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসেও দারুণ সাফল্য পেয়েছে। প্রায় ৮ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত ‘দেউল ব্যান্ড ২’ ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি রুপির ব্যবসার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে দাবি করেছেন নির্মাতা। পাশাপাশি দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা কুড়াচ্ছে সিনেমাটি।

এদিকে, শাহরুখ খান বর্তমানে তার বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘কিং’–এর কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। 

রাষ্ট্রপতির জীবনী নিয়ে তথ্যচিত্র বানাচ্ছেন আমির খান

বিনোদন ডেস্ক
রাষ্ট্রপতির জীবনী নিয়ে তথ্যচিত্র বানাচ্ছেন আমির খান
সংগৃহীত ছবি

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে আমির খান প্রোডাকশনস। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন নির্মাতা ও লেখক স্বাতি চক্রবর্তী ভাটকাল।

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তথ্যচিত্রটিতে ওডিশার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ জীবন থেকে ভারতের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় নারী রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠার অনন্য যাত্রা তুলে ধরা হবে।

চলচ্চিত্রে দ্রৌপদী মুর্মুর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো স্থান পাবে। ব্যক্তিগত জীবনের নানা ট্র্যাজেডি, প্রতিকূলতা ও সংগ্রাম পেরিয়ে কিভাবে তিনি জনজীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, সেই গল্পই উঠে আসবে এতে। পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বের পেছনের দৃঢ়তা এবং অধ্যবসায়ের দিকও তুলে ধরা হবে।

জানা গেছে, দ্রৌপদী মুর্মুর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ফুটিয়ে তুলতে ওডিশার তার নিজ গ্রামেই তথ্যচিত্রের কিছু অংশের শুটিং হয়েছে। স্থানীয় শিল্পীদের দিয়ে তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায় পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। বাস্তব লোকেশন, আর্কাইভ ফুটেজ এবং নাট্যরূপ—সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত তার যাত্রার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের।

শুধু ব্যক্তিগত জীবনের গল্পই নয়, তথ্যচিত্রে দ্রৌপদী মুর্মুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বও বিশ্লেষণ করা হবে। তার এই উত্থানকে ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠী, নারীদের ক্ষমতায়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতিনিধিত্ববঞ্চিত মানুষের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আবারও স্বাতি চক্রবর্তী ভাটকালের সঙ্গে কাজ করছে আমির খান প্রোডাকশনস। এর আগে ২০১৯ সালে আমির খান ও কিরণ রাও প্রযোজিত তথ্যচিত্র অ্যান্থলজি ‘রুবারু রোশনি’ পরিচালনা করেছিলেন স্বাতি। আমির খানের বর্ণনায় নির্মিত সেই কাজটি সহিংসতা, শোক, ক্ষমা ও পুনর্মিলনের বাস্তব গল্প তুলে ধরে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে রাষ্ট্রপতি ভবনে নিজের সিনেমা ‘সিতারে জমিন পার’-এর একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন আমির খান। ছবিটি তার ২০০৭ সালের বহুল প্রশংসিত ‘সিতারে জমিন পার’–এর ভাবগত উত্তরসূরি হিসেবে নির্মিত।
 

অলোকনাথকে চড় মারার খেসারত, ক্যারিয়ার ছাড়তে হয় নভনীতকে | কালের কণ্ঠ