• ই-পেপার

মোহাম্মদপুরে বাসার সামনে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

স্কুলে সাংস্কৃতিক বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও সংস্কৃতি খাতে ২ শতাংশ বাজেটের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্কুলে সাংস্কৃতিক বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও সংস্কৃতি খাতে ২ শতাংশ বাজেটের দাবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য, নাট্যকলা, চারু ও কারুকলা এবং শারীরিক শিক্ষা বিষয় চালু করে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে মোট বরাদ্দের অন্তত ২ শতাংশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও মিছিল থেকে এসব দাবি জানানো হয়। চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিখিল দাস। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি কবি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, আবদুল্লাহ আল মামুন তাজু এবং দপ্তর সম্পাদক জসিম উদ্দিন।

বক্তারা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে মাত্র ৮২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের এক শতাংশেরও কম। দেশের সাংস্কৃতিক বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি ও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সংস্কৃতি খাতে অন্তত ২ শতাংশ বরাদ্দ প্রয়োজন।

তারা বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবে তরুণদের একটি অংশ মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। পাশাপাশি সমাজে সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির পেছনেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সংকট ভূমিকা রাখছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে। তারা বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা করছে এবং নাচ-গান ও খেলাধুলার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের দাবি, এ ধরনের বিরোধিতার কারণেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়নি।

বক্তারা আরো বলেন, শিশু-কিশোরদের মানবিক, সৃজনশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টির পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমি, মিলনায়তন ও সাংস্কৃতিক মুক্তমঞ্চ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি মিছিল নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

যাত্রাবাড়ী থেকে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯

অনলাইন ডেস্ক
যাত্রাবাড়ী থেকে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের এই অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি টরাস ব্র্যান্ডের পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও ৭৭ রাউন্ড তাজা গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন তৈরিতে ব্যবহৃত ৮৭ গ্রাম মেডি, নগদ ২২ হাজার ৯৬০ টাকা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, গ্রেফতারদের মধ্যে নিয়মিত ও পরোয়ানাভুক্ত মামলার আসামি, অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ব্যক্তি, জুয়াড়ি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অপরাধী রয়েছে। গ্রেফতারদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
 

কলাবাগানে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
কলাবাগানে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

রাজধানীর কলাবাগান থানার ভুতের গলি মসজিদের পাশে একটি ষষ্ঠতলা নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময়ে পড়ে গিয়ে মো. ইয়াসিন (৩৮) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত ইয়াসিন লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে।

মৃত মো. ইয়াসিনের সহকর্মী সায়েদুল জানান, নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। সেখান থেকে, তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল পৌনে ১২টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।

শীর্ষ সন্ত্রাসী অটো সজল ৩ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
শীর্ষ সন্ত্রাসী অটো সজল ৩ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার

রাজধানীর ওয়ারী এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন ওরফে সজল ওরফে অটো সজলসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুলপরিমাণ অস্ত্র, গুলি, হেরোইন ও মাদক বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন নজরুল ইসলাম।

গ্রেপ্তাররা হলেন ইসমাইল হোসেন ওরফে সজল ওরফে অটো সজল (৩১), মো. বাপ্পী (২৮), মো. হানিফ (৪০) ও মোছা. শামসুন্নাহার (৪৫)।

সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম জানান, গত ২ মার্চ মাদক উদ্ধার ও অপরাধী গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের সময় ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে পায়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তে ওয়ারী থানা পুলিশ প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। পরে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সরবরাহ করেছিল ওয়ারীর শীর্ষ সন্ত্রাসী অটো সজল। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে ওয়ারী বিভাগের বিভিন্ন থানা পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী থানার একটি দল সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অটো সজলকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলা রয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজল স্বীকার করে, গেন্ডারিয়া থানার স্বামীবাগ এলাকায় তার ভাড়া বাসায় বিপুলপরিমাণ অস্ত্র ও মাদক মজুত রয়েছে। পরে রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তার আরো তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে বাসা থেকে দুটি ‘টরাস’ ব্র্যান্ডের পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭ রাউন্ড তাজা গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন তৈরির কাজে ব্যবহৃত ৮৭ গ্রাম ‘মেডি’, মাদক বিক্রির ২২ হাজার ৯৬০ টাকা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের পাশাপাশি পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।