গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা কলেজ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন সাঘাটা উপজেলার উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও ফুলছড়ি উপজেলার বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।
পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেন্দ্রের ১০৭ ও ১০৯ নম্বর কক্ষে প্রশ্নপত্র অদলবদলের ঘটনা ঘটে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তাদের পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয়। পরীক্ষা শেষে অন্য কক্ষের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পর ভুলটি নিশ্চিত হয়।
১০৭ নম্বর কক্ষের একাধিক নিয়মিত পরীক্ষার্থী জানান, ওই কক্ষে অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। কক্ষটিতে মোট ৯০ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে, ১০৯ নম্বর কক্ষের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরা জানান, তাদের ২০২৬ সালের বৃহত্তর সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুত করা প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। এতে অনেকেই নির্ধারিত সিলেবাসের বাইরে প্রশ্নের উত্তর লিখতে বাধ্য হয়েছেন।
নিয়মিত পরীক্ষার্থী মারুফা আক্তার বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের বিষয়টি জানালে তারা বলেন, সমস্যা নেই, পরীক্ষা দিতে থাকো। পরে অন্যদের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি আমাদের প্রশ্নপত্র ভিন্ন ছিল। এতে আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি।’
অনিয়মিত পরীক্ষার্থী মো. আব্দুল আহাদ বলেন, ‘আমাদের নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল। ফলে অনেকেই নিজেদের নির্ধারিত সিলেবাসের বাইরে প্রশ্নের উত্তর লিখেছেন। এতে আমাদের ফলাফল ঝুঁকিতে পড়ে গেছে।’
অভিভাবক অমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে যদি আমাদের সন্তানদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়, তার দায় কে নেবে? আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
কেন্দ্র সচিব ও ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না।’ তবে কতজন পরীক্ষার্থী এ সমস্যার মুখে পড়েছেন, তা তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রসচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থীর যেন ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’
গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ‘ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার দায় সম্পূর্ণ কেন্দ্র সচিবের। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পৃথক কক্ষে বসানো এবং প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে যথাযথভাবে যাচাই করা বাধ্যতামূলক ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ প্রাঙ্গণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফুলছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ বছর ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মোট ২৯৬ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।





