• ই-পেপার

মুলাদীতে স্বামীর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার, স্ত্রী আটক

ছাতকে কারখানার নর্দমা পরিষ্কারের সময় শ্রমিকের মৃত্যু

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
ছাতকে কারখানার নর্দমা পরিষ্কারের সময় শ্রমিকের মৃত্যু
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার আকিজ প্লাস্টিক কারখানায় নর্দমা পরিষ্কারের কাজের সময় মারা যাওয়া শ্রমিক সিরাজ মিয়া।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার আকিজ প্লাস্টিক কারখানায় নর্দমা পরিষ্কারের কাজ করতে গিয়ে সিরাজ মিয়া (৪৫) নামে এক  শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সিরাজ মিয়া উপজেলার গদার মহল গ্রামের সাজ্জাদুর রহমানের ছেলে।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সিরাজ মিয়া একাই নর্দমা ও ট্যাংক পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে নর্দমায় পড়ে যান। পড়ে যাওয়ার সময় তার মাথা নর্দমার ভেতরে তলিয়ে যায় এবং দুই পা উপরের দিকে ছিল। কিছুক্ষণ পর সহকর্মীরা তাকে ওই অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। ফ্যাক্টরির সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণেও তাকে ট্যাংকের পাশে কাজ করতে দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে তিনি অচেতন হয়ে পড়ে যান।

পরে কারখানার চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ নিহতের পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করে। এছাড়া পরিবারকে মোট ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সিরাজ মিয়া কারখানায় ক্লিনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নর্দমা বা ট্যাংক পরিষ্কার করা তার নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যে ছিল না। তবুও তাকে ওই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হয় এবং কর্মরত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। 

এ বিষয়ে ছাতক সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পটিয়ার ৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
পটিয়ার ৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের পটিয়ার শিক্ষা খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রথম পর্যায়ে মোট ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী মনসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও বড়লিয়া শাহ ছৈয়দ আব্দুছালাম আউলিয়া (রা:) দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন নির্মাণে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

গত ২১ জুন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ডেস্ক-১) মো. মেহেদী ইকবাল স্বাক্ষরিত জারি করা স্মারকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় অনাবাসিক ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ কাজের অনুমোদিত তালিকায় এ তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ জুলাইের মধ্যে সরেজমিন জরিপ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন ঊঊউ জচগঝ এ আপলোড করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান ভবনে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ সম্ভব, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেই কাজ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সয়েল টেস্ট সম্পন্ন করে ১৫ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। এরপর স্ট্রাকচারাল ডিজাইন অনুযায়ী দরপত্র আহ্বানসহ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। 

এদিকে এ বরাদ্দ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট কাটিয়ে আধুনিক ও নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা বলছেন, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে শ্রেণিকক্ষের সংকট দূর হবে এবং শিক্ষার গুণগত মান আরো উন্নত হবে।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম বলেন, ‘শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি। পটিয়ার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আধুনিক, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই ধারাবাহিকভাবে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। মনসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত এই অর্থ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষা পরিবেশের সুফল পাবে। আগামী দিনেও পটিয়ার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

মনসা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল আলম ফারুকী বলেন, ‘নতুন একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ অনেক উন্নত হবে। এটি প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি বড় অর্জন।’

রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি নতুন ভবনের প্রয়োজন ছিল। সরকারের এই বরাদ্দ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা আরও নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।’

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মঈনুল আলম ছোটন বলেন, ‘পটিয়ার শিক্ষা খাতে উন্নয়নের যে অঙ্গীকার করেছিলেন এনামুল হক এমপি তার বাস্তব প্রতিফলন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্টানের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি অনুমোদন প্রদান করায় এমপির প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস তার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে পটিয়ার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে যাবে। শিক্ষার উন্নয়নেই সমৃদ্ধ পটিয়া গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে পটিয়া। 

স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষা খাতে বর্তমান সরকারের এ বিনিয়োগ শুধু ভবন নির্মাণেই সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপেরও দাবি জানান। এসব বরাদ্দের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে পটিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং শিক্ষার উন্নয়নেই সমৃদ্ধ পটিয়া গড়ার স্বপ্ন আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।

ঘরের পেছনে মিলল স্বামীর মরদেহ, স্ত্রী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঘরের পেছনে মিলল স্বামীর মরদেহ, স্ত্রী আটক
সংগৃহীত ছবি

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় হারুন হাওলাদার নামে নিখোঁজ এক ব্যক্তির মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্ত্রী সেলিনা বেগমের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া গ্রামে নিজের ঘরের পেছন থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনদিন ধরে হারুন হাওলাদার নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। এ ব্যাপারে হারুনের ছেলে মোস্তফা হাওলাদার অজ্ঞাতনামা আসামি করে মুলাদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

সূত্রমতে, সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন বাড়ির পেছনের মাটি আলগা দেখতে পায়। সেটি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢাকা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। পরে ওই স্থান খুঁড়ে মরদেহটি দেখতে পায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে হারুন হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক কলহ এবং নিহতের স্ত্রীর পরকীয়া জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার পর থেকে হারুনের স্ত্রী সেলিনা বেগমের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মুলাদী থানার ওসি খন্দকার সোহেল রানা জানিয়েছেন, নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে গভীরভাবে তদন্ত চলমান। পাশাপাশি আটককৃত সেলিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় র‍্যাবের মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ১১

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় র‍্যাবের মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ১১
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের টঙ্গী রেলওয়ে জংশন ও আশপাশের এলাকায় র‍্যাব-১ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সোমবার (২৯ জুন) রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‍্যাব জানায়, র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিয়ামুল হালিম এবং সিপিসি-২-এর কম্পানি কমান্ডার শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক র‍্যাব সদস্য এ অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশও সহযোগিতা করে।

অভিযান চলাকালে টঙ্গী রেলওয়ে জংশন ও আশপাশের এলাকা থেকে ইয়াবা, গাঁজা, মাদকদ্রব্যের ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযান শেষে র‍্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিয়ামুল হালিম বলেন, সরকারের ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।