• ই-পেপার

হাটহাজারীতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্যসহ গ্রেপ্তার ২

ট্রলারসহ ৫ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

উখিয়া(কক্সবাজার) প্রতিনিধি
ট্রলারসহ ৫ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। রবিবার (২৮ জুন) সকালে ছেড়া দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ঘাট বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম জানান, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মির সদস্যরা। তবে অপহৃত পাঁচজনই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

অপহৃত জেলেরা হলেন— মাঝি সালাম নুর (৩১), মো. আইয়ুব (৩৭), মো. আজিজুল্লাহ (৩০), সৈয়দ হোসেন (২৫) ও মো. আইয়ুব (২৪)।

আবুল কালাম বলেন, ‘সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। হঠাৎ করে আবারও জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উপকূলের জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’

স্থানীয় জেলেরা জানান, রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতো টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাট থেকে সাবরাং ইউনিয়নের আলীর ডেইল গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদের মালিকানাধীন একটি ট্রলার মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে যান জেলেরা। পরে ট্রলারটি ছেড়া দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে আরাকান আর্মির সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে সেটি আটক করে। এরপর ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে নিয়ে যান তারা। এসময় আশপাশে থাকা আরো কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নিরাপদে ফিরে আসে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা সবাই রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’

তিস্তার পানি বাড়ায় প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি

বাসস
তিস্তার পানি বাড়ায় প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি
সংগৃহীত ছবি

ভারি বৃষ্টি ও ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচে নেমে গেলেও ভাটিতে পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উত্তরের ৫ জেলার চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার। ভারত গজলডোবা ব্যারেজের ৪০টি গেট খুলে দেওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেলের দিকে ভারত গজলডোবা গেটগুলো খুলে দেয়। ফলে রাত ১১টা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তরের ৫ জেলা রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার। তিনি বলেছেন, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের ৫ জেলায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ৫ জেলার ২৬টি ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। একাধিক পানিবন্দি পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২ দিন থেকে পানিবন্দি থাকলেও কেউ কোনো খোঁজখবর রাখেনি।

এদিকে হঠাৎ করে তিস্তা নদীর পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। তিস্তার পানি বাড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গীমারি, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি, কালীগঞ্জের শৈলমারী, চর বৈরাতী, রুদ্রেশ্বর, আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন ও স্পারবাধ,রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলা,কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা চরাঞ্চলের নদীর তীরবর্তী চরে বাদামক্ষেত, ধানের বীজ তলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

কালীগঞ্জের কাশীরাম এলাকার বাদাম চাষি লোকমান মিয়া জানান, তিস্তার চরে ৭০ শতক জমি লিজ নিয়ে চিনাবাদাম চাষ করেছেন। কয়েকদিন পানি জমে থাকায় বাদামে পচন ধরেছে এবং গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকরা জানান, রাতে পানি কমলে আবার সকালে পানি পাড়ে। পানি বাড়া-কমার কারণে দুশ্চিন্তায় আছি। চলতি মৌসুমে আমন আবাদে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা অনেক বীজতলাও পানির কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রয়োজন হতে পারে।

রংপুরের চর চব্বিশ হাজারী গ্রামের কৃষক নজরুল হক বলেন, সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি আরও বাড়ছে। শুনছি ভারত পানি ছেড়ে দিয়েছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের ধানের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হবে।

মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক বুলু মিয়া জানান, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের কারণে ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে, গবাদি পশুসহ সন্তানদের নিয়ে বিপাকে রয়েছি।

চর রাজপুরের বাসিন্দা আসাদুল বলেন, গত দুই দিন থেকে পানিবন্দী হয়ে আছি। চেয়ারম্যান মেম্বার কেউ কোনো খবর রাখেনি।

রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, তিস্তার মধ্যবর্তী চরের কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। চেয়ারম্যানদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তালিকা পেলেই শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, পানি কখনো বিপদসীমার ওপরে আবার কখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চরের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছি। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে বেলা বাড়ার সঙ্গে পানি আরও বাড়তে পারে।

ঝিনাইগাতী সীমান্তে পাইপগানসহ আটক ১

শেরপুর প্রতিনিধি
ঝিনাইগাতী সীমান্তে পাইপগানসহ আটক ১
সংগৃহীত ছবি

শেরপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি সীমান্ত এলাকা থেকে পাইপগানসহ মো. পিয়ার আলী (৩২) নামে একজনকে আটক করেছে বিজিবি। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দিয়ে উদ্ধার পাইপগানসহ পিয়ার আলীকে ঝিনাইগাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট পাঠানো ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আটক ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি কুচপাড়া গ্রামের ফজল হকের ছেলে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার সন্ধ্যায় নকশী বিওপি'র টহলদল ঝিনাইগাতীর নওকুচি সীমান্ত এলাকা থেকে একটি পাইপগানসহ মো. পিয়ার আলীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার অস্ত্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ঝিনাইগাতী থানায় মামলা দায়েরপূর্বক তাকে পুলিশের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঝিনাইগাতি থানার ওসি মো. আমিরুল ইসলাম জানান, একটি দেশীয় পাইপগানসহ পিয়ার আলী নামে একজনকে থানায় হস্তান্তর করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ফরিদপুরে ২ নারীর মরদেহ উদ্ধার

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ২ নারীর মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় একই দিনে দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৮ জুন) বিকেল ও সন্ধ্যায় উপজেলার পৃথক দুটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিজগ্রাম এলাকার ওবায়দুল মুন্সীর স্ত্রী লিপি আক্তার (৪২) ও ভাষানচর ইউনিয়নের ছমির হাজী কান্দি গ্রামের বুলু মুন্সীর মানসিক ভারসাম্যহীন কন্যা নাছরীন আক্তার (১৩)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিপি আক্তার দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা বাড়ির গোয়ালঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

অপরদিকে নিহত নাছরীন আক্তারের পরিবার জানায়, নাছরীন ছোটবেলা থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। রবিবার বিকেলে সে খাবার না খেয়ে নিজকক্ষে দরজা বন্ধ করে ছিল। পরে তার মা নাজমা বেগম ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে নাছরীনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

সদরপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান রিপন জানান, দুটি মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।