• ই-পেপার

মাসুদ সাঈদী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে হবে

দুর্গম পাহাড় থেকে অসুস্থ বম নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিল সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্গম পাহাড় থেকে অসুস্থ বম নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিল সেনাবাহিনী
ছবি : কালের কণ্ঠ

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে স্ট্রোক করা এক বৃদ্ধাকে হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে রামকিল বম (৭৪) নামের ওই বম নারীকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।

আজ সকালে রোয়াংছড়ির দুর্গম এলাকায় নিজ বাড়িতে আকস্মিকভাবে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন রামকিল বম। দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলের কারণে সড়কপথে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হওয়ায় সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়।

জরুরি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখান থেকে অসুস্থ নারীকে উদ্ধার করে বিকেলে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালে আনার পরপরই ওই বৃদ্ধাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের সব সম্প্রদায়ের মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান ও জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।

সালিসে মেজাজ হারালেন এমপি হানজালা, শাঁসালেন বিএনপিকর্মীকে

মাদারীপুর প্রতিনিধি
সালিসে মেজাজ হারালেন এমপি হানজালা, শাঁসালেন বিএনপিকর্মীকে

মাদারীপুরের শিবচরে একটি সালিসি বৈঠকে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালা উত্তেজিত হয়ে টেবিল চাপড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এক মিনিটের ওই ভিডিওতে তাকে উত্তেজিত হয়ে বিএনপিকর্মী ও উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিতে দেখা যায়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ এক পর্যায়ে টেবিল চাপড়ে বিএনপির ওই কর্মীকে উদ্দেশ করে হানজালা বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দেব।’

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামে একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় এক মাস আগে সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সালিস চলাকালে বক্তব্য প্রদান ও সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সংসদ সদস্য হানজালাকে উত্তেজিত অবস্থায় উপস্থিত কয়েকজনকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাতে এবং বিচার কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় তিনি টেবিল চাপড়ে বক্তব্য দেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

বিএনপিকর্মী তারা মিয়া বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। বিচার চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে বিষয়টির সুন্দর সমাধান হয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালা কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। সালিসে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠুভাবে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার স্বার্থে তিনি সবাইকে ধমক দেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টির সুন্দর সমাধান হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার বাইরে বসে ছিলেন এসি ল্যান্ড, কুপিয়ে আহত করল ডাকাতরা

অনলাইন ডেস্ক
বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার বাইরে বসে ছিলেন এসি ল্যান্ড, কুপিয়ে আহত করল ডাকাতরা

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ডাকাতদলের হামলায় আহত হয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খান। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে রাস্তার পাশে বসে ছিলেন। এমন সময় এই হামলা করা হয়।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের ধন্দী ও রাইনাদী-আতাদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, ধন্দী এলাকার বাসিন্দা এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার এসি ল্যান্ড সাকিব হাছান ছুটিতে নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাসার বাইরে রাস্তার পাশে বসে ছিলেন তিনি। এ সময় ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল তাদের ওপর হামলা চালায়।

ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সাকিব হাছান, মুকুল, রাজিব, রুবেল, ফারুক এবং মুকুলের স্ত্রী ডালিয়াকে গুরুতর আহত করে। আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আহতদের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

জানা গেছে, এ ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর পার্শ্ববর্তী রাইনাদী-আতাদী এলাকার সুমন নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দেয় হামলার সঙ্গে জড়িত ডাকাতদলের সদস্যরা। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে তারা ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১৪ ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করেই দেশ গঠনে কাজ করছে সরকার : মীর হেলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করেই দেশ গঠনে কাজ করছে সরকার : মীর হেলাল
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ছবি : সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কালজয়ী আদর্শ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম কোতোয়ালির চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ভবনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর-উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত খতমে কোরআন, আলোচনাসভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতির ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের অন্ধকার রাতে দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন চরম দিকনির্দেশনাহীনতায় ভুগছিল, তখন জিয়াউর রহমান বীরদর্পে জাতিকে মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং সম্মুখসমরে থেকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে তিনি ব্যারাকে ফিরে গিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে তিনি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে এক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেন।’

ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ‘শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ছিল একটি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ এবং বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী শক্তি আজ ঐক্যবদ্ধ।’

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু মঞ্চের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কল্যাণে কাজ করার মাধ্যমেই শহীদ জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।’

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘চট্টগ্রামের বীর জনতা ক্ষমতার অপব্যবহার বা ভোগের জন্য আমাদের নির্বাচিত করেনি, বরং তাদের অধিকার ও সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতেই এই পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে।’

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। সব জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চউক, ওয়াসাসহ সব সেবা সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমন্বিত, পরিকল্পিত, আধুনিক ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন ও উন্নত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা হবে।