• ই-পেপার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

গোপালগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পানিতে ডুবে আলিফ নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার (২২) জুন সকাল সাড়ে ৭টার সময় মুকসুদপুর পৌরসভার লখাইচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  

নিহত আলিফ (২) লখাইরচর গ্রামের লাবু শেখের ছেলে। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে দুই বছর বয়সী শিশু আলিফ ঘর থেকে বের হয়ে সবার চোখের আড়ালে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। 

আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবসে কক্সবাজার সৈকত থেকে ৭ টন বর্জ্য অপসারণ

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবসে কক্সবাজার সৈকত থেকে ৭ টন বর্জ্য অপসারণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দুই দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কেওক্রাডং বাংলাদেশ’। এ অভিযানে লাবণী ও ইনানী সৈকত এলাকা থেকে প্রায় ৭ টন প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের অপচনশীল বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।

শুক্রবার ও শনিবার (১৯ ও ২০ জুন) পরিচালিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনটির সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সামাজিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন। অভিযানের সময় সৈকতের বিভিন্ন স্থান থেকে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেটসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নানা বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো কক্সবাজার পৌরসভার নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনে নেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্যের কারণে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। এ কারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে প্রতি বছর সমুদ্র দিবসকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মাখদুম বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার সময় বিপুল পরিমাণ অপচনশীল বর্জ্য পাওয়া গেছে। পর্যটকরা যদি সচেতনভাবে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলেন, তাহলে সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবী সৃজিতা রায় বলেন, অনেক পর্যটক সমুদ্র ভ্রমণে এসে অসচেতনভাবে প্লাস্টিকজাত বর্জ্য ফেলে যান। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা গেলে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

কেওক্রাডং বাংলাদেশের পরিচালক মুনতাসির মামুন বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে সংগঠনটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস উপলক্ষে এবার কক্সবাজারের লাবণী ও ইনানী সৈকতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব। প্রত্যেকে নিজের ব্যবহৃত বর্জ্য যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করলে পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সচেতনতা বাড়লেই পরিচ্ছন্ন ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।’

জয়পুরহাটে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, রাতের আঁধারে কার্পেটিংয়ে ক্ষোভ

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, রাতের আঁধারে কার্পেটিংয়ে ক্ষোভ
ছবি : কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট-মোসলেমগঞ্জ ভায়া শান্তিনগর সড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং রাতের আঁধারে কার্পেটিং করার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার শান্তিনগর বাজার থেকে মোসলেমগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ৭ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ করছে নওগাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইথেন এন্টারপ্রাইজ। সড়কটির প্রস্থ ৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৭ মিটার করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৩৫ লাখ ১৯৪ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, পরিত্যক্ত পাথর, রাবিশ ও মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী বালি ও ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। এ ছাড়া সড়কের ওপর জমে থাকা মাটি পরিষ্কার না করেই সামান্য বিটুমিন ছিটিয়ে কার্পেটিং করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

গত শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ চলতে দেখা যায়। তবে সেখানে তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ও রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছে। কাদামাটির ওপর বিটুমিন ছিটিয়ে রাতে কার্পেটিং করা হচ্ছে। সকালে দেখা যায়, পায়ের চাপেই অনেক জায়গার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।’

উদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা লাল্টু মিয়া বলেন, ‘রাতের বেলায় সুযোগ বুঝে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে। এখনই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। কয়েক মাস পর সড়কের কী অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাস্তার কাজে নিয়োজিত একাধিক শ্রমিক বলেন, ‘আসলে আমাদেরকে যখন, যেভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে সেভাবেই করেছি। রাত-দিন বলতে কিছুই নেই। দ্রুত কাজ সম্পূর্ণ করায় এখন মূল কথা।’ 

তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইথেন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক নুর আলম। তিনি বলেন, ‘এলাকাটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় দিনের বেলা কাজ করলে কৃষকদের চলাচলে সমস্যা হতে পারে। তাই রাতে কাজ করা হচ্ছে। তবে কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়নি।’

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ বলেন, ‘আমি সরাসরি সাইটে থাকি না। যদি রাতে কার্পেটিংয়ের কাজ হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই ভুল করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আবু জাফর বলেন, ‘রাতে কার্পেটিং করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে তা অপসারণ করে পুনরায় কাজ করতে হবে।’

উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, ‘কার্পেটিংয়ের কাজ রাতে করার নিয়ম নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল পাবে না।’

স্থানীয়রা সড়ক নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গোপালগঞ্জে ঢাকঢোল বাজিয়ে জার্মান সমর্থকদের শোভাযাত্রা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে ঢাকঢোল বাজিয়ে জার্মান সমর্থকদের শোভাযাত্রা
ছবি : কালের কণ্ঠ

গোপালগঞ্জে বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এবার যোগ দিয়েছেন জার্মানির সমর্থকরা। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে জেলা শহরে শোভাযাত্রা করেন তারা। 

গায়ে জার্মানির জার্সি পরে ঢাকঢোল বাজিয়ে, রাস্তায় ফুটবল খেলতে খেলতে সমর্থকরা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রাটি শহরের পৌরপার্ক থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। 

এবার জার্মানি বিশ্বকাপ নিবে বলে আশা ব্যক্ত করেন জার্মান দলের সমর্থকরা।

এ সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব কচি সিকদার, ফুটবলার আব্দুল মান্নান মানিসহ জার্মান সমর্থক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়।