• ই-পেপার

নারায়ণগঞ্জে সিএনজি-প্রাইভেট কার সংঘর্ষে শিশুর মৃত্যু, আহত ৫

নেইমার ছাড়াও শক্তিশালী ব্রাজিল—দাবি সমর্থকদের

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
নেইমার ছাড়াও শক্তিশালী ব্রাজিল—দাবি সমর্থকদের
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে উঠেছে সারা দেশ। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই ফুটবলপ্রেমীরা নিজেদের প্রিয় দলের সমর্থনে আনন্দ-উল্লাসে মেতে রয়েছেন। বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৬টায় (বাংলাদেশ সময়) ব্রাজিল ও হাইতির মধ্যকার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রিয় দল ব্রাজিলের খেলা উপভোগ করতে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি বাজারের গোডাউন মোড়ে সকাল থেকেই সমর্থকদের ভিড় দেখা যায়।

ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ শুরুর পর থেকেই গোডাউন মোড়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া হাকিমপুর পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকেই দলীয় জার্সি পরে ছোট-বড় সব বয়সের ফুটবলপ্রেমীরা গোডাউন মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। খেলা শুরুর আগেই দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে এলাকা। তবে খেলা দেখতে এসে সাউন্ড সিস্টেমের বক্সের তার খুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ব্রাজিল সমর্থক। এ ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই ব্রাজিল হাইতির বিপক্ষে তিন গোল করলে সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। বাঁশি বাজিয়ে ও উল্লাস প্রকাশ করে তারা দলের সাফল্য উদযাপন করেন। অনেক সমর্থকই মনে করছেন, তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র না থাকলেও ব্রাজিলের শক্তি ও সামর্থ্যে কোনো ঘাটতি নেই।

ব্রাজিলের ক্ষুদে সমর্থক খোয়েব ও রোহান বলেন, ব্রাজিল এমন একটি দল, যারা নেইমার জুনিয়র ছাড়াও ভালো খেলতে পারে। আজ হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তিন গোল করেছে। তাই আমরা আশাবাদী, এবার বিশ্বকাপ ট্রফি ব্রাজিলের ঘরেই যাবে এবং আমরা ষষ্ঠ শিরোপার আনন্দ উদযাপন করব।

ব্রাজিল সমর্থক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, প্রিয় দলের খেলা দেখতে গোডাউন মোড়ে এসে দেখি সাউন্ড বক্সের তার খুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সবাই যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিশ্বকাপের খেলা উপভোগ করতে পারে। আজকের জয়ে আমরা আরো আশাবাদী হয়েছি যে ব্রাজিল বিশ্বকাপে ভালো কিছু করবে।

উপজেলার বৈগ্রাম এলাকার ব্রাজিল সমর্থক মশিউর রহমান বকুল বলেন, ফুটবল মানেই আনন্দ, আর বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাড়তি উৎসব। ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপা আছে, এবার ষষ্ঠ শিরোপা জিতে সেই ইতিহাস আরো সমৃদ্ধ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং সবাই আনন্দের সঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারে।

তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হিলির জনজীবন

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হিলির জনজীবন
ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দরে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঘন ঘন লোডশেডিং ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎসংকটের কারণে হাসপাতাল ও অন্যান্য জরুরি সেবার স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

হিলি পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ৩৮ হাজার গ্রাহকের জন্য দৈনিক ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। তবে উৎপাদন ঘাটতির কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০ থেকে ১২ বার লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর দেখা মেলে না। চলমান তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, প্রবীণ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা। রোগীদের কিছুটা স্বস্তি দিতে স্বজনরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন।

বিদ্যুতের এই ভয়াবহ সংকটের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপরও। হিলির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও ভ্যানচালকরা। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তারা সময়মতো যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছেন না। ফলে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় তাদের দৈনিক আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা তাদের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

হিলি পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোন অফিসের এজিএম মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, ‘উৎপাদন ঘাটতির কারণে জাতীয় গ্রিড থেকেই কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দ্রুতই লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।’

বাগাতিপাড়ায় গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে প্রাণ গেল ব্যাংক নিরাপত্তাকর্মীর

নাটোর প্রতিনিধি
বাগাতিপাড়ায় গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে প্রাণ গেল ব্যাংক নিরাপত্তাকর্মীর
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে বিপুল কুমার সরকার (৪৩) নামে এক ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর (গালিমপুর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বিপুল কুমার সরকার ওই গ্রামের মৃত অদ্বৈত প্রসাদ সরকারের ছেলে। তিনি বগুড়ার একটি বেসরকারি ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী (সিকিউরিটি গার্ড) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিপুল কুমার সরকার বগুড়া থেকে বাড়িতে ফিরে কোমল পানীয়ের সঙ্গে গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের কথা তার বড় বোনকে জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ থানায় নিয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিপুল কুমার সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ঋণের চাপে মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন। তাদের ধারণা, ঋণের চাপ থেকেই তিনি আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
 

টাঙ্গাইল

ছাগল তুলতে গিয়ে কূপে পড়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
ছাগল তুলতে গিয়ে কূপে পড়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ছাগল তুলতে গিয়ে পরিত্যক্ত একটি কূপে পড়ে বাবা-ছেলেসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল মধুপুর বনাঞ্চলের টেলকি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, টেলকি এলাকার বাবুল হাদিমা (৪০), তার ছেলে নেইমার ম্রং (১২), গ্যাব্রিয়েল (৪০) ও প্রতিবেশী রতন নকরেক (২৭)।

সাবেক ইউপি সদস্য লাল মিয়া জানান, বাবুল হাদিমার একটি ছাগলছানা টেলকি বাজারের উত্তর-পশ্চিম পাশে মসজিদসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। ছাগলটি তুলতে প্রথমে কূপে নামে নেইমার। কিছু সময় পার হয়ে গেলেও তার কোনো সাড়া না পেয়ে পরে কূপে নামেন বাবুল হাদিমা। একইভাবে গ্যাব্রিয়েল এবং সবশেষে রতন কূপে নামেন। কূপে নামা চারজনের কারও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।  পরে ফায়ার সার্ভিস একে একে চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা লাভলু তরফদার বলেন, ‘কূপ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক জানান, ফায়ার সার্ভিস চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।